ওয়াশিংটনের কংগ্রেস ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলায় ৪ জন নিহত

ডাক ডেস্ক : সিনেটে জো বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতির প্রক্রিয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে ট্রাম্পের দাঙ্গাবাজ সমর্থকরা ভয়াবহ সহিংসতা চালিয়েছে। এই সহিংসতার সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি’র পুলিশ।
ওয়াশিংটন পুলিশের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে ঢুকে পড়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ সমর্থক। কাঁদানে গ্যাস ও পেপার স্প্রে ব্যবহার করেও তাদের ছত্রভঙ্গ করতে না পেরে বাধ্য হয়ে ক্যাপিটল ভবন অবরুদ্ধ করে রেখেছিল পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে দাঙ্গাবাজদের সংঘর্ষ বেঁধে গেলে গুলি করা হয়। পুলিশের গুলিতে এক নারী নিহত হন। পরে আহতদের মধ্য থেকে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৭ জনকে কারফিউ ভাঙার দায়ে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এদিকে, ক্যাপিটল হিলের বিক্ষোভ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র বাউজার। তিনি জানান, হাউজ রুমে অধিবেশন চলাকালে কয়েকজন জোরপূর্বক প্রবেশ করে। ওই দলটির সদস্য ছিলেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ওই নারী।
তিনি আরও জানান, অধিবেশনে প্রবেশ করা জোরপূর্বক দলটিকে সাদা পোশাকের কয়েকজন কর্মকর্তা বাধা দেন এবং তাদের একজনের গুলিতে ওই নারী মারা যান।
নিহত হওয়া বাকি তিনজনের একজন নারী ও দুই জন পুরুষ। এছাড়া মেট্রো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অন্তত ১৪ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ক্যাপিটল ভবনে প্রবেশ করার পর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া প্রথম নারী সাবেক মার্কিন সেনা সদস্য। স্যান ডিয়েগোর বাসিন্দা অ্যাশলি ব্যাবিট।
তিনি ওয়াশিংটন সময় দুপুর ৩টার দিকে গুলিবিদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে নিলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আমেরিকার আইন-প্রণেতারা যখন জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশনে বসেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শত শত সমর্থক তখন আমেরিকার আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটলে ঢুকে পড়ে।
দুপুরের পরই আমেরিকার রাজধানী শহরে এই নাটকীয় দৃশ্য দেখা যায়। শত শত বিক্ষোভকারী ভবনটিতে ঢুকে পড়ছে আর পুলিশ কংগ্রেস সদস্যদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে। ভবনটি কয়েক ঘণ্টা দখল করে রাখার পর বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে ক্যাপিটল প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাইরে চলে যেতে থাকে।
সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী শহর ওয়াশিংটনে গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্ফ্যু জারি করা হয়েছে। বলা হয়, বৃহস্পতিবারও এই কার্ফ্যু কার্যকর থাকবে।
এদিকে, বুধবারের ঘটনার জন্য ট্রাম্পের উসকানিমূলক মন্তব্যকেই দায়ী করছেন অনেকে। এদিন হোয়াইট হাউজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তদের উদ্দেশ্যে এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন,‘ভোট চুরি করে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ গত নভেম্বরে হারের পর থেকেই এই দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। প্ররোচণামূলক বক্তব্য রাখায় ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট সাময়িক নিষ্ক্রিয় করেছে ফেসবুক, টুইটার ও ইন্সটাগ্রাম।