করোনাকালে আত্মত্যাগ: প্রাণ দিলেন ১৬ পুলিশ সদস্য

শরিফুল হাসান শিশির

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে যখন দেশের প্রায় সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়, তখন অগ্রণী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় বাংলাদেশ পুলিশ। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের এই মহাদুর্দিনে পুলিশ যেভাবে জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। এ যুদ্ধে ০১জুন পর্যন্ত জনগণের সেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ৫১২৯জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। ঠিক যেভাবে স্বাধীনতা–আন্দোলনে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশ পুলিশ। এই মানবিক বিপর্যয়কালে নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে আবার প্রতিরোধের ডাক দেয় বাংলাদেশ পুলিশ।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই দেশব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি, লকডাউন কার্যকর করা, প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিরলসভাবে বাংলাদেশ পুলিশের -সদস্যরা কাজ করে আসছেন। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীদের বাড়ী সহ আশপাশের বাড়ীঘর লকডাউন নিশ্চত করা, আক্রান্তদের বাড়ীতে খাবার, ঔষধ পৌছানো, এমন কি করোনা যুদ্ধে পরাজয় বরণ করা শহীদদের লাশ বহন করা, জানাযা নামাজ পড়ানো এবং সর্বোপরি দাফনের কাজে অগ্রনী সৈনিক বাংলাদেশ পুলিশকে দেখা গেছে।

মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এটা জেনেও পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। করোনা সংক্রমণ রোধ ও অপরাধ দমনের নিয়মিত দায়িত্ব পালন ছাড়াও পুলিশ অসহায় মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।করোনার এই নিদানকালে দেখতে পাই, পুলিশ কনস্টেবল একা পরিত্যক্ত লাশ ভ্যানে তুলে নিজে ভ্যান চালিয়ে থানায় নিয়ে যাচ্ছে, দেখি, সংজ্ঞাহীন বৃদ্ধার সাহায্যে পথচারী কেউ না এগুলেও পিপিই পরিহিত পুলিশ সদস্য বৃদ্ধার মাথায় পানি ঢালছেন। করোনা সন্দেহে মৃত দেহের সৎকারে কেউ এগিয়ে আসছে না, পুলিশ সদস্যরা কবর খুঁড়ে জানাযা শেষে দাফন করছে। বাড়িওয়ালা কিংবা অন্য ভাড়াটিয়া চিকিৎসাকর্মী কিংবা অন্যকোন ফ্রন্ট লাইনারকে বাড়ি ছাড়ার চাপ দিচ্ছে, সেখানেও পুলিশ। ঘরে খাবার নাই, চক্ষুলজ্জ্বার খাতিরে ত্রান নিতে পারছে না, গোপনে ত্রান পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ। মূলতঃ হাসপাতালের দরজা থেকে কবরস্থান পর্যন্ত-সবখানেই পুলিশ, প্রভু কিংবা শাসক হিসাবে নয়, বন্ধুবেশেই পুলিশ।

করোনায় দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ কারী শহীদ ১৬ পুলিশ সদস্যরা হলেন

এসআই মোঃ রাসেল বিশ্বাস

এসআই মোঃ রাসেল বিশ্বাস(৩৫) বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) কর্মরত ছিলেন। ২৪ মে ২০২০ খ্রিঃ নমুনা পরীক্ষায় তাঁর করোনা পজেটিভ (কোভিড-১৯) ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি পুলিশের ভাড়া করা বেসরকারি ইমপালস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।২৮ মে ২০২০ খ্রিঃ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।পুলিশের ব্যবস্থাপনায় মোঃ রাসেল বিশ্বাসের মরদেহ গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটে পাঠানো হয়। সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধর্মীয়রীতি মেনে তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি স্ত্রী, এক ছেলেসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

কনস্টেবল মোঃ নেকবার হোসেন

কনস্টেবল মোঃ নেকবার হোসেন (৪২)। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের হালিশহর থানায় কর্মরত ছিলেন।২৩ মে ২০২০ খ্রিঃ শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী পুলিশযোদ্ধা মোঃ নেকবার হোসেনের গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলায় চরফ্যাশনে। তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

পুলিশ ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) রাজু আহমেদ

পুলিশ ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) রাজু আহমেদ(৪৩), তিনি ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটে কর্মরত ছিলেন।করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত  হয়ে তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২৪ মে রোববার সকাল ১০:৪০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।ইন্সপেক্টর রাজু আহম্মেদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।মরহুমের মরদেহ পুলিশের উদ্যেগে তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে পাঠানো হয়। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।

 

এসআই (সশস্ত্র) মোঃ মোশাররফ হোসেন শেখ

এসআই (সশস্ত্র) মোঃ মোশাররফ হোসেন শেখ (৫৬)। তিনি রাজশাহী আরআরএফ এ কর্মরত ছিলেন। রাজশাহীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২মে শুক্রবার রাত প্রায় ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।মোঃ মোশাররফ হোসেন শেখ পাবনা জেলার সুজানগর থানার নূরউদ্দিনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।বাংলাদেশ পুলিশের ব্যবস্থাপনায় মরদেহ মরহুমের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

 

কনস্টেবল মোঃ মোখলেছুর রহমান

কনস্টেবল মোঃ মোখলেছুর রহমান। তিনি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অধীন সদর কোর্টে কর্মরত ছিলেন। মোঃ মোখলেছুর রহমানের বাড়ি চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানার টামটা গ্রামে। তিনি স্ত্রী, তিন কন্যা ও এক পুত্রসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল মোঃ মোখলেছুর রহমানের মরদেহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

 

নায়েক আল মামুনুর রশীদ

নায়েক আল মামুনুর রশীদ (৪৩)। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পরিবহন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ২১ মে ২০২০ খ্রিঃ বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা ৩০ মিনিটে নায়েক আল মামুনুর রশীদ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী পুলিশযোদ্ধা আল মামুনুর রশীদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি স্ত্রী, এক কন্যা এবং এক পুত্রসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পুলিশের ব্যবস্থাপনায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

এসআই মোঃ মজিবুর রহমান তালুকদার

এসআই মোঃ মজিবুর রহমান তালুকদার (৫৬)। তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চের সিটি এসবি পল্টন জোন-১ এ কর্মরত ছিলেন।করোনা ভাইরাস পজেটিভ হওয়ায় গত ১১ মে তাকে রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। পরে অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি ১৮মে সোমবার সকাল ৮ টা ৫১ মিনিটে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।তার স্থায়ী ঠিকানা সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর থানার তারাকান্দি গ্রামে। বর্তমানে তিনি বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানার সাখ পাড়া গ্রামে বসবাস করেন। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।পুলিশের ব্যবস্থাপনায় তার মরদেহ বগুড়া পাঠানো হয়। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী মরদেহ দাফন করা হয়।

 

কনস্টেবল মোঃ নঈমুল হক

কনস্টেবল মোঃ নঈমুল হক (৩৮)। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বন্দর বিভাগে কর্মরত ছিলেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে শুক্রবার (১৫ মে) সকালে সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যান কনস্টেবল নঈমুল হক।তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার ফতেয়াবাদ পীর বাড়ি গ্রামে। তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্রসহ তিন শিশু সন্তান এবং বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।করোনা ভাইরাস প্রটোকল অনুযায়ী গতকাল রাতে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সিএমপি কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশের ব্যবস্থাপনায় মরদেহ মরহুমের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।

 

কনস্টেবল জালাল উদ্দিন খোকা

কনস্টেবল জালাল উদ্দিন খোকা (৪৭)। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক পূর্ব বিভাগে কর্মরত ছিলেন। শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকায় তার করোনা পরীক্ষা করা হয় ২৬ এপ্রিল। পরীক্ষায় তার করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) পজিটিভ আসে। তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ মে ২০২০ খ্রি.শনিবার সন্ধ্যা ৭.১০ মিনিটে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।জনাব জালাল উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানার উড়াহাট গ্রামে। তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা এবং এক পুত্রসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পুলিশের ব্যবস্থাপনায় মরদেহ মরহুমের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।

 

এএসআই শ্রী রঘুনাথ রায়

এএসআই শ্রী রঘুনাথ রায় (৪৮)। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) দক্ষিণ বিভাগের আলফা কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।শ্রী রঘুনাথ রায়ের করোনা ভাইরাস ধরা পড়ার পর তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। বুধবার ০৬ মে ২০২০ খ্রি. সকাল ০৮ টা ২০ মিনিটে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।জীবন উৎসর্গকারী পুলিশযোদ্ধা শ্রী রঘুনাথ রায়ের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি স্ত্রী, এক কন্যা এবং এক পুত্রসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পুলিশের ব্যবস্থাপনায় পুলিশযোদ্ধা শ্রী রঘুনাথ রায়ের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী তাঁর মৃত্যু পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।

 

এসআই সুলতানুল আরেফিন

এসআই সুলতানুল আরেফিন (৪৪) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পশ্চিম বিভাগে কর্মরত ছিলেন।৩০ এপ্রিল এসআই সুলতানুল করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন। আগে থেকেই তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ০২ মে সকালে তিনি মারা যান।০২ মে বিকাল ৫টার দিকে তার বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার ১৩নং মেষ্টা ইউনিয়নের নিজ গ্রাম হাজীপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয় সুলতানুলকে।

 

এসআই নাজির উদ্দীন

এসআই নাজির উদ্দীন (৫৫)। তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্ররক্ষা শাখায় কর্মরত ছিলেন।নাজির উদ্দীনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে ২৫ এপ্রিল ২০২০ খ্রি. । তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ০১ মে ২০২০ খ্রি. সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।এসআই নাজিরের গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার ভাংগুরা থানার কাজিটোলা গ্রামে। তার নামাজে জানাজা শুক্রবার ০১ মে সকালে রাজারবাগে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পুলিশের ব্যবস্থাপনায় মরদেহ মরহুমের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী মরদেহ দাফন করা হয়।

 

কনস্টেবল মোঃ আশেক মাহমুদ

কনস্টেবল মোঃ আশেক মাহমুদ (৪৩)। তিনি ডিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগে কর্মরত ছিলেন। জ্বর থাকায় ২৬ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরের দিন করোনা পরীক্ষায় তাঁর কোভিড-১৯ পজিটিভ আসায় তা‌কে আইসো ‌লেশ‌নে রাখা হয়। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাকে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ২৯ এপ্রিল ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ২৯ এপ্রিল রাত সাড়ে দশটায় মৃত্যুবরণ করেন। তার গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ইন্দ্রাবাড়ি গ্রামে। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন।কনস্টবল আশেক মাহমুদের জানাজা আজ বৃহস্পতিবার দুপুর বা‌রোটায় রাজারবাগে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পুলিশের ব্যবস্থাপনায় তাদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহ দাফন করা হয়।

 

এএসআই মো. আবদুল খালেক

এএসআই মো. আবদুল খালেক (৩৬)।তিনি ডিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট দক্ষিণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ২৮ এপ্রিল তার শরী‌রে ক‌রোনার সংক্রমন সনাক্ত হলে তা‌কে আইসো ‌লেশ‌নে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার ৩০এপ্রিল ভোরে আইসোয‌লেশ‌নে থে‌কে চি‌কিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে গেছেন। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার বেতাগী থানার ঝোপখালি গ্রামে।এসআই আবদুল খালেকের জানাজা বৃহস্পতিবার দুপুর বা‌রোটায় রাজারবাগে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পুলিশের ব্যবস্থাপনায় তাদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহ দাফন করা হয়।

 

কনস্টেবল জসিম উদ্দিন

জসিম উদ্দিন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী জোনের ওয়ারী থানায় কর্মরত ছিলেন।২৪ এপ্রিল করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ার পর কনস্টেবল জসিম উদ্দিনের করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং তাকে পুলিশি তত্ত্বাবধানে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর ২৮ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে মারা যান। পরদিন সকালে করোনা পরীক্ষায় তার পজিটিভ রিপোর্ট পুলিশের হাতে আসে এবং বিকেলে জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

 

শ্রী নিরোদ চন্দ্র মন্ডল

শ্রী নিরোদ চন্দ্র মন্ডল (৫২)। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগে পল্লবী জোনে স্টেনোগ্রাফার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। করোনা পজেটিভ হওয়ায় তিনি কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন। গতকাল দুপুরে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। তিনি স্ত্রী, এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পুলিশের ব্যবস্থাপনায় তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

 

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন বাহিনীটির সদস্যরা।মহান মুক্তিযু’দ্ধের প্রথম প্রতিরোধ যোদ্ধা বাংলাদেশ পু’লিশের বীর সদস্যরা প্রাকৃতিক কিংবা মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগে কখনোই দেশপ্রে’মের পরীক্ষায় পিছপা হয়নি ভবিষ্যতেও হবে না। সেবার সুমহান ব্রতে আম’রা সবসময়ই আছি আপনাদের পাশে জনগণের পু’লিশ হয়ে।আশা করছি দেশের এবং দেশের মানুষের প্রয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ এভাবেই কাজ করে যাবে। আমরা সবাই ঘরে থাকি, নিয়ম মেনে চলি এবং বাংলাদেশ পুলিশকে সহায়তা করি। আশা করছি বাংলাদেশ পুলিশের সকল সদস্য যেন সুস্থ থাকে।’ জনগণের সেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে রোববার ১ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৫১২৯ জন গর্বিত সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে একক পেশা হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা।করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২০৯৩ জন পুলিশ সদস্য। চলমান করোনাযুদ্ধে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়েই তারা করোনায় আক্রান্ত হন। তাঁদের অনেকেই জনগণের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করতে আবারও কাজে যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হাসপাতালগুলোর উন্নত ও মানসম্মত “চিকিৎসা ও সেবায়” সুস্থতার হার দ্রুততার সাথে বাড়ছে।চলমান করোনাযুদ্ধে মাঠ পর্যায়ের প্রধান অগ্রসেনানী বাংলাদেশ পুলিশ। এ কারণে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সবার আগে পুলিশকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবুও একবিন্দু দমে না গিয়ে শক্ত মনোবল আর পূর্ণ উদ্যমে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ পুলিশ।