জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতি

শব্দ দিয়ে প্রতিবাদ করো, কণ্ঠ উঁচু করে নয়। মনে রাখবে ফুল ফোটে যত্নে; বজ্রপাতে নয়। -জালালউদ্দিন রুমি

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ। এর কারণ হচ্ছে-বাংলাদেশে একাধারে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বাড়ছে, লবণাক্ততা সমস্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে হিমালয়ের বরফ গলার কারণে নদীর দিক পরিবর্তন ও বন্যার প্রকোপ বাড়ছে। বেড়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা। যে কারণে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত একশ’ ৯৩টি দেশের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। তাই বিশেষজ্ঞগণ জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ততার বিষয়ে বাংলাদেশকে ‘পোস্টার চাইল্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকেন। এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই জলবায়ু বিপর্যয় রোধে সচেতন হতে হবে আর দশটি দেশের চেয়ে অনেক বেশি।
মূলত পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণেই জলবায়ুর পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে। তাই পরিবেশ সুরক্ষায় মনোনিবেশ করা অতি জরুরি। আর এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদী। সর্বমহলে সর্বাত্মক সচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমেই সম্ভব পরিবেশ সুরক্ষা। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবেলার জন্য সরকার গঠন করেছে তিন হাজার আটশ’ কোটি টাকার জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড। প্রধানমন্ত্রীর দশটি উদ্যোগের মধ্যে পরিবেশ সুরক্ষা অন্যতম। এর আওতায়ই গঠন করা হয়েছে এই জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড। আর এই প্রকল্পের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে জলবায়ু হ্রাস। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে অবহিতকরণ এ সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই জলবায়ু হ্রাস উদ্বোধন করা হয় গত বছর মার্চ মাসে। ডিজিটাল এলইডি ডিসপ্লে, মোবাইল থ্রিডি সিনেমা সিস্টেস, সোলার প্যানেলস ফর গ্রিন এনার্জি, ওয়াইফাই ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে তথ্য সংবলিত আর্কাইভ সংযোজিত এই বাস জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নানা ধরনের অবহিতকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা রয়েছে। আছে সচেতনতামূলক টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, থিমসং এবং ডকুমেন্টারি প্রচারের ব্যবস্থা। কিন্তু করোনা মহামারি আক্রমণের ফলে এই কার্যক্রম থমকে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সর্বাত্মক সচেতনতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞগণ। এই প্রসঙ্গে ইউনিসেফ-এর বক্তব্য উল্লেখ করা যায়। তাদের মতে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সামাল দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। কারণ বড় ধরনের দুর্যোগে জীবনরক্ষা, উন্নয়ন, অংশগ্রহণ এবং শিশুর সুরক্ষা উন্নততর করার প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়। সবচেয়ে বড় কথা জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অ্যাক্টের আওতায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের একযোগে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই উদ্যোগে স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।