দানবীর ড. রাগীব আলী এক জীবন্ত কিংবদন্তী

লিডিং ইউনিভার্সিটিতে ‘চিরঞ্জীব রাগীব’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার :
উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর, সিলেটের প্রথম বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি এবং জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলীর জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত ‘চিরঞ্জীব রাগীব’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, দানবীর ড. রাগীব আলী একজন জীবন্ত কিংবদন্তী। প্রতিদিন তাঁর হাতে গড়া অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহিতা অসংখ্য মানুষ দানবীর ড.রাগীব আলী ও তার প্রয়াত সহধর্মিনী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীকে স্মরণ করছে। জনকল্যাণমূলক এমন কোনো খাত নেই-যেখানে রাগীব-রাবেয়া দম্পতির অবদান নেই। বক্তারা বলেন, দানবীর ড. রাগীব আলী একটি নাম, একটি ইতিহাস। তিনি শিক্ষা বিপ্লবের স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি গরীব-দুঃখী মানুষের আশা আকাক্সক্ষার প্রতীক। তারা আরো বলেন, মানুষের কর্ম মানুষকে স্মরণীয় করে রাখে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ সমাজ প্রগতিতে দানবীর ড. রাগীব আলীর অবদান এদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে স্মরণে রাখবে।
দানবীর ড. রাগীব আলীকে নিয়ে রচিত ‘চিরঞ্জীব রাগীব’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান গতকাল রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারি- ১ এ অনুষ্ঠিত হয়। গ্রন্থটি রচনা করেছেন লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের প্রভাষক রেজাউল করিম রাজ।
২৪০ পৃষ্ঠার বইটিতে ৩৬টি প্রবন্ধ রয়েছে। বইটিতে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ড. রাগীব আলী’র নানাবিধ অবদান ও কর্মের মূল্যায়ন এবং বিশ্লেষণধর্মী নানা প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) বনমালী ভৌমিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বইটির উপর আলোচনা করেন বিশিষ্ট গবেষক ও দৈনিক সিলেটের ডাক-এর নির্বাহী সম্পাদক আবদুল হামিদ মানিক। অনুষ্ঠানের মধ্যমনি ড. রাগীব আলী তাঁর বক্তব্যে বইয়ের লেখকের প্রশংসা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (এডমিশন) মো.কাওসার হাওলাদার ও সিএসই বিভাগের প্রভাষক কাজী মো.জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকাশনা অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহবায়ক ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো.রেজাউল করিম।
বইটির উপর অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন-বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সচিব মেজর (অব.) শায়েখুল হক চৌধুরী, লিডিং ইউনিভার্সিটির আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম. রকিব উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মোস্তাক আহমাদ দীন, রেজিস্ট্রার মেজর (অব.) মো. শাহ আলম পিএসসি, প্রক্টর মো. রাশেদুল ইসলাম, স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান স্থপতি রাজন দাশ, ইইই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রুমেল এমএস রহমান পীর, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভিগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ শাহানশাহ মোল্লা, সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাফকাত কিবরিয়া, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো.মাহবুবুর রহমান, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের গবেষণা সহকারি জসিম আল ফাহিম প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে ‘চিরঞ্জীব রাগীব’ গ্রন্থে’র লেখক লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের প্রভাষক রেজাউল করিম রাজকে সন্মাননা স্মারক প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) বনমালী ভৌমিক।
লিডিং ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান,শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ‘চিরঞ্জীব রাগীব’ গ্রন্থে’র লেখক লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের প্রভাষক রেজাউল করিম রাজের পিতা মো. রাজ মাহমুদ ও মাতা সুফিয়া বেগম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দানবীর ড. রাগীব আলী ‘চিরঞ্জীব রাগীব’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আরো বলেন, রেজাউল করিম রাজ ছোটবেলা থেকে আমার পাশে থেকে গবেষণা করে বইটি লিখেছে। নেত্রকোনায় সে নিজে গিয়ে সোমেশ^রী প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশ করেছে। তার এই ব্যতিক্রমধর্মী গবেষণাধর্মী বই পাঠকের মনের খোরাক যোগাবে। গবেষণাধর্মী যত বই প্রকাশ হয়েছে তার মধ্যে ব্যতিক্রমী এই গবেষণার বইটি। তার শিক্ষকতা ও গবেষণা সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে-এটা আমার প্রত্যাশা। বইটি যেমনি গবেষণাধর্মী তেমনি তথ্য নির্ভর ও হৃদয়গ্রাহী। সুন্দর প্রচ্ছদসহ সার্বিক দিক থেকে বইটি মনোরম। এখানে আমার কর্মজীবনের অনেক স্মৃতিচারণমূলক ছবিসহ তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। এখান থেকে পরবর্তী প্রজন্ম অনেক কিছু জানতে পারবে। এজন্য রেজাউল করিম রাজ প্রশংসার দাবিদার।
মুখ্য আলোচক, গবেষক, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক আবদুল হামিদ মানিক বৈশ্বিক পরিবেশ ও কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও ‘চিরঞ্জীব রাগীব’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সমবেত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দানবীর ড. রাগীব আলী সম্পর্কে কথা বলতে এখানে অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষ উপস্থিত রয়েছেন। তিনি তাঁকে মুখ্য আলোচকের সম্মান দেয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আবদুল হামিদ মানিক বলেন, অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর ড. রাগীব আলী একজন জীবন্ত কিংবদন্তী। যিনি অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে আসীন হয়ে আছেন। প্রতিদিন এসব সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহিতা অসংখ্য মানুষ দানবীর ড.রাগীব আলী ও তার প্রয়াত সহধর্মিনী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীকে স্মরণ করছে ও তাদের জন্য দোয়া করছে। যারা দানবীর ড. রাগীব আলী ও বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীকে দেখেনি তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সেবার মাধ্যমে মানুষের মুখে এ দু’টি নাম উচ্চারিত হয়। আমরা গর্বিত যারা তার সান্নিধ্যে আছি। তিনি ‘চিরঞ্জীব রাগীব’ গ্রন্থের লেখক রেজাউল করিম রাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তার এই প্রয়াস প্রশংসার দাবি রাখে। এ পর্যন্ত দানবীর ড. রাগীব আলীকে নিয়ে অর্ধশত বই প্রকাশিত হয়েছে। তার সেবা কার্যক্রম চলমান আছে, আরও বই লেখা হবে। জনকল্যাণে এমন কোনো খাত নেই যেখানে রাগীব-রাবেয়ার অবদান নেই। এজন্য তারা সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র। মানুষের মৌলিক চাহিদার প্রতিটি ক্ষেত্রে বিচরণ ও অবদান রয়েছে রাগীব-রাবেয়া দম্পতির। তাঁরা ব্যতিক্রমী দম্পতি। দু’জনই উদার মনের অধিকারী। এজন্য সমাজের কল্যাণে এতোকিছু করতে পেরেছেন। তাদের এই কর্মে আমরা যেমন অনুপ্রেরণা পাচ্ছি; তেমনি এ থেকে প্রেরণা নিয়ে সমাজের আরো বিত্তবান মানুষ এগিয়ে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।
তিনি আরো বলেন, একই ব্যক্তির উপর অনেক বই লিখা হয়। প্রত্যেকের বই হয় স্বতন্ত্র। কারণ, লেখকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রকাশভঙ্গি এক হয় না। এজন্য প্রত্যেকটির উপযোগিতা থাকে। তিনি বলেন, লেখক বইটিতে যা তুলে ধরেছেন-এটা শেষ নয়। যারা আরো লেখালেখি করবেন তাতে আরো তথ্য বেরিয়ে আসবে। যারা রাগীব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার, একুশে সম্মাননা পেয়েছেন তাদের নামও বইতে সন্নিবেশিত হয়েছে। শব্দচয়ন, বাক্য বিন্যাসের জন্য লেখককে ধন্যবাদ। তার ভাষাগত দক্ষতায় আমার মনে হয়েছে তিনি একজন দক্ষ মানুষ। তিনি বলেন, সমাজের স্বার্থে দানবীর ড. রাগীব আলীর জীবন কর্ম সম্পর্কে পর্যালোচনা করা দরকার। কারণ এ থেকে সমাজ উপকৃত হবে। পরবর্তী প্রজন্ম প্রেরণা পাবে। দানবীর ড. রাগীব আলী ও বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীকে সৃজনশীল কর্মের জন্য মানুষ যুগ যুগ ধরে মানুষের অন্তরে থাকবেন। তিনি তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
লিডিং ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর সচিব মেজর (অব:) শায়েখুল হক চৌধুরী বলেন, দানবীর রাগীব আলী সম্পর্কে অর্ধশত বইয়ের মধ্যে অন্যতম সেরা বই ‘চিরঞ্জীব রাগীব’। এই বইটি ব্যতিক্রমধর্মী । তিনি বলেন, মানুষের কর্ম মানুষকে স্মরণীয় করে রাখে। দানবীর রাগীব আলী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ সকল ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। এ জন্য যুগ যুগ ধরে মানুষ তাঁকে স্মরণ করবে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড.মোস্তাক আহমাদ বলেন, দানবীর ড. রাগীব আলীকে নিয়ে ‘চিরঞ্জীব রাগীব’ বইয়ের আলোচনা করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু এক কথায় বলা চলে, এই বইটির বিভিন্ন দিক গবেষণাধর্মী এবং সৃজনশীল। এর পর্যালোচনা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
লেখক, গবেষক রেজাউল করিম রাজ বলেন, গরীব-দুঃখী মানুষের আশ্রয়স্থল উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর ড. রাগীব আলী একটি ইতিহাস এবং আমার প্রেরণা। তিনি ১৯৯৫ সালে নেত্রকোনায় রাগীব-মুজিব উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করায় আমি সেখান থেকে এসএসসি পাস করি। এরপর রাগীব-রাবেয়া ডিগ্রী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের শিক্ষা বৃত্তি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। সেখান থেকে লেখাপড়া করে আজ আমি দানবীর ড. রাগীব আলীর প্রতিষ্ঠিত লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। এসবের কৃতিত্বের দাবিদার দানবীর ড. রাগীব আলী। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় আজ আমি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। আজকে এই বইটি প্রকাশ করতে পেরে আমি গর্বিত। তিনি বলেন, দানবীর ড. রাগীব আলী একটি শিক্ষা বিপ্লব ঘটাতে চান। প্রতিনিয়ত তার নিত্যনতুন ভাবনা। যতই তাকে দেখেছি, ততই মনে হয়েছে তার একেক দিক আলাদা। তিনি যেন পরশপাথর। যেখানে হাত দেন সেখানেই সফল হন। আধুনিক সভ্যতার জন্য তিনি কাজ করছেন। কারণ, তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন বৃটিশ ও পাশ্চাত্য সভ্যতা. সেই সাথে বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশের কৃষ্টি কালচার।
লিডিং ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর (ভারপ্রাপ্ত) বনমালী ভৌমিক সভাপতির বক্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দানবীর ড. রাগীব আলী একটি নাম, একটি ইতিহাস। তিনি শিক্ষা বিপ্লবের স্বপ্ন দ্রষ্টা। তিনি গরীব দুঃখী মানুষের আশা আকাক্সক্ষার প্রতীক। তার কর্ম জীবনকে সকলের গবেষণা করা উচিত।