দিরাইয়ে বাসে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালক ৩ দিনের রিমান্ডে

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা মামলার প্রধান আসামী বাস চালক শহীদ মিয়াকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাগীব নূরের আদালতে হাজির করলে বিজ্ঞ বিচারক চালক শহীদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সুনামগঞ্জ কোর্ট পরিদর্শক
(ইন্সপেক্টর) সেলিম নেওয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাস চালক শহীদ মিয়াকে দুপুরে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই রাজেশ বড়ুয়া ৫ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ বিচারক ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দিরাই থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, গত রোববার সিআইডি বাস চালক শহীদ মিয়াকে দিরাই থানায় হস্তান্তর করলে গতকাল সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই রাজেশ বড়ুয়া ৫ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন। আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে, শনিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বাস চালক শহীদকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে যায়। এর আগে ২৭ ডিসেম্বর, রোববার রাতে একই বাসের হেলপার রশিদ আহমদকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছাতক উপজেলার বুরাইয়ারগাঁও থেকে গ্রেফতার করে।
পরে ২৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাগীব নূরের আদালতে হেলপার রশিদ আহমদকে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। আদালতের বিচারক জবানবন্দী শেষে হেলপার রশিদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, ২৬ ডিসেম্বর, শনিবার বিকেলে সিলেট থেকে দিরাইয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসে (সিলেট জ-১১০৭২৩) আত্মীয়ের বাড়ি সিলেটের লামাকাজি থেকে নিজ বাড়ি দিরাইয়ে যাওয়ার জন্য বাসে ওঠেন ওই শিক্ষার্থী। বাসটি দিরাই পৌরসভার সুজানগর গ্রামের পাশে পৌঁছলে যাত্রী শূন্য হয়ে পড়ে। এতে একমাত্র যাত্রী ছিলেন ওই কলেজ ছাত্রী। এ সুযোগে বাসের চালক ও হেলপার মিলে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এসময় সম্ভ্রম বাঁচাতে বাসের জানালা দিয়ে ঝাঁপ দেন তিনি।
পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ওই দিনই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় ৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।