নতুন বছরের প্রত্যাশা

চৌধুরী শাহেদ আকবর
দেখতে দেখতে বছর শেষ হয়ে নতুন বছর শুরু হয়ে গেলো। নতুন বছর মানেই সব কিছু নতুন করে শুরু করার প্রেরণা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নববর্ষে’ নামে একখানা কবিতা আছে। কবিতাটিতে তিনি যথার্থই বলেছেন- ‘নিশি অবসানপ্রায়, ওই পুরাতন/বর্ষ হয় গত!/আমি আজি ধূলিতলে এ জীর্ণ জীবন/করিলাম নত।/বন্ধু হও, শত্রু হও, যেখানে যে কেহ রও,/ক্ষমা করো আজিকার মতো/ পুরাতন বরষের সাথে/পুরাতন অপরাধ যত।’ আমরা জানি পুরাতনকে চাইলেই ভুলে যাওয়া যায়না। কিন্তু আমরা এটাও জানি যে পুরাতন থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে শুরু করার প্রত্যয় ধারণ করে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আর তাই বছরের শুরুতে লিখতে বসে মন আমার আশায় বুক বাধতে চায়।
অলস কথা ছেড়ে এখন আসল কথায় আসি। এই উপমহাদেশ ভেঙ্গে তিনটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তান। দেশগুলোর মধ্যে জন্ম তারিখের হিসাবে বাংলাদেশ সর্বকনিষ্ঠ। কিন্তু অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এই সর্বকনিষ্ঠ দেশটি সবার থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতির অনেক ক্ষেত্রেই আমরা পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছি ইতিমধ্যেই। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে দুই বছর আগে, আর মাথাপিছু জিডিপিতে ছাড়িয়েছে তিন বছর আগে। আর এখন আইএমএফ বলছে, মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ। ২০২০ সালে আমাদের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ১ হাজার ৮৮৮ ডলার, আর ভারতের ১ হাজার ৮৭৭ ডলার। জিডিপির এই ব্যবধান যদিও কম, তবুও তাৎপর্যপূর্ণ। (প্রথম আলো, ০৯ জানুয়ারি, ২০২১)।
শুধু জিডিপি নয়। গত কয়েক দশকে আরো অনেক কিছুতেই এগিয়েছে বাংলাদেশ। জিডিপির বাইরে আরও কিছু সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে আরও কয়েক বছর আগে। ভারতের মেয়েদের তুলনায় বাংলাদেশের মেয়েদের শিক্ষার হার বেশি ও নারীপ্রতি জন্মহার কম। এছাড়া ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে নবজাতকের ও পাঁচ বছরের নীচে শিশুমৃত্যুর হারও কম। আরও আছে। যেমন, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ। আমাদের গড় আয় ও আয়ু দুটোই বেড়েছে। শিক্ষার হার বেড়েছে, দারিদ্রের হার কমেছে। নব্বই দশকেও যেখানে মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পেত, এখন সেখানে তা পাচ্ছে ৯৫ শতাংশ মানুষ। নোবেল বিজয়ী বাঙ্গালি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেন তাঁর নিজের দেশ ভারতের তুলনায় সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের এই সাফল্যের কথা বারবার লিখেছেন। বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রশংসা তিনি অনেক জায়গায় করেছেন।
বাংলাদেশের এই উন্নতি নিয়ে প্রখ্যত সাংবাদিক মার্ক টালি কিছুদিন আগে ভারতের হিন্দুস্থান টাইমসে একটি কলাম লিখেছেন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির এ উত্থানকে অভিহিত করেছেন ‘ছাই থেকে জন্ম নেয়া ফিনিক্স’ বলে। তিনি লিখেছেন, ওই ছাই রেখে গিয়েছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। ১৯৭১ সালে পাক সেনাদের আগ্রাসনের পর তিনি বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে রাজশাহী যান তিনি। পথে তিনি দেখেন বহু গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এর আড়াই বছরেরও কম সময় পর বাংলাদেশ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো নানারকম চ্যালেঞ্জ। আর এতকিছু মোকাবিলা করে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়েছে। তার মতে, গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির ধারাবাহিক বিকাশ ঘটেছে। কিছু উন্নয়ন সংস্থা এখন দেশটিকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে অভিহিত করেছেন।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে ১৭ কোটি মানুষ আর ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের জনবহুল এই দেশের উন্নয়নের এই চিত্র চিত্তে আশা জাগাতে চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু কিছু অপ্রাপ্তি, ব্যর্থতা মনকে শংকিত ও বিষাদময় করে তুলে। আয় বৈষম্যের কথাই ধরি প্রথমে। বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে আশ্চর্য রকম উন্নতি করেছে। প্রবৃদ্ধির হিসেবে অনেক দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির ফলে সব মানুষ লাভবান হননি, গুটিকয়েক মানুষ ছাড়া। অর্থাৎ সম্পদের পরিমাণ বাড়লেও আসল ফায়দা পাচ্ছে এইরকম মানুষর সংখ্যা খুবই নগন্য।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে গরিব ৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীর মোট আয়ের পরিমাণ মোট জাতীয় আয়ের মাত্র ০.২৩ শতাংশ। ২০১০ সালে এই হার ছিল ০.৭৮ শতাংশ। অপরদিকে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ মানুষের মোট আয় দেশের মোট জাতীয় আয়ের প্রায় ২৮ শতাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ। ২০১০ সালে এই হার ছিল ২৪.৫০ শতাংশ। বিগত কয়েক বছরে তাদের আয় বেড়েছে সাড়ে ৩ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে গরিব ৫ শতাংশ মানুষের আয় তো বাড়েইনি, উল্টো বরং কমেছে শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ ধনীরা আরও ধনী হচ্ছেন, গরিবেরা হচ্ছে আরও গরিব। অর্থনীতি শাস্ত্রে আয়ের বৈষম্য পরিমাপ করা হয় গিনি সূচক বা সহগের মাধ্যমে। আমাদের দেশে সর্বশেষ গিনি সহগ পরিমাপ করা হয় ২০১৬ সালে। সর্বশেষ হিসাবে বাংলাদেশের গিনি সহগের মান শূন্য দশমিক ৪৮৩। অর্থনীতির হিসাবে গিনি সহগ শূন্য দশমিক ৫ পেরিয়ে গেলে তাকে উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশ বলা হয়। তার মানে বাংলাদেশ এখন একটি উচ্চ আয় বৈষম্যের দেশ।
আয় বৈষম্যের পরে এবার আসি কর্মসংস্থানের বিষয়ে। আমরা প্রায়ই শুনে থাকি, আমাদের দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে; কিন্তু কর্মসংস্থান সেই অনুপাতে হচ্ছে না। সরকারি তথ্যমতে, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অথচ ওই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছিল ২৮ লাখ। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিল শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ যা ছিল গড় প্রবৃদ্ধির হারের ৮ শতাংশের মাত্র ১ শতাংশ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত জেনারেল ইকোনমিক ডিভিশনের এক গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের কর্মসংস্থান স্থিতিস্থাপকতা কমছে। এই স্থিতিস্থাপকতা দিয়ে প্রবৃদ্ধির হারের সাথে কর্মসংস্থানের হার বৃদ্ধির সম্পর্ককে বোঝায়। এই স্থিতিস্থাপকতা কমে গেলে বোঝা যাবে প্রবৃদ্ধি যেটা হচ্ছে, তা কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে অর্থাৎ, কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। আইএলওর মতে, বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের বাইরে থেকে যাওয়া যুব বেকারদের সংখ্যা ২০১০ সাল-২০১৭ এর মধ্যে দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।
শংকার আরেকটি সংবাদ হলো কালো টাকা আর দুর্নীতির সাথে সাথে দেশ থেকে অস্বাভাবিক হারে টাকা পাচার বেড়েছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে এক হাজার ১৫১ কোটি ডলার। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমান প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা। পাচারের এ পরিমাণ ২০১৪ সালের চেয়ে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তুর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) এক প্রতিবেদনে (২০০০ সালে প্রকাশিত) এ তথ্য উঠে এসেছে। তাদেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই প্রক্রিয়ায় এই অর্থ পাচার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রফতানিতে মূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং)।
জিএফআই’র তথ্যমতে, গত সাত বছরে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ হাজার ২৭০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় যা সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা। যা দেশের বর্তমান জাতীয় বাজেটের প্রায় সমান। প্রতি বছর গড়ে পাচার হয়েছে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা। টাকা পাচারে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম। আর দক্ষিণ এশিয়ার এই তালিকায় ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১৯ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে পাচার হচ্ছে।
এবার অর্থনৈতিক বিষয় থেকে একটু ভিন্ন বিষয়ে নজর দেই। আমাদের সংবিধানের ভূমিকায় বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হইবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে।’ সপ্তম অনুচ্ছেদে আছে, ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।’ কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এখনো জনগণের মনে প্রশ্ন জাগে, জনগণ কি আসলেই দেশের ‘সকল ক্ষমতার মালিক’ হতে পেরেছে? জনগণকে দেশের মালিক হতে হলে তাকে জনপ্রতিনিধি বাছাই করার অধিকার পেতে হবে। সেই অধিকার কি আমরা পেয়েছি? গত পাঁচ দশকেও আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের বিষয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য যে নির্বাচন কমিশন, তাদের অনেক কর্মকান্ড আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। জনগণের চেয়ে ক্ষমতাসীনদের আস্থা লাভই তাদের কাছে অধিক গুরুত্বের। গণতান্ত্রিক শাসনের অনেক সূচকে তাই আমরা এই মুহূর্তে পিছিয়ে আছি।
৫০ এর দশকের কথা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু তাঁকে বললেন, ‘আওয়ামী লীগ বিরোধী পার্টি। তাকে কাজ করতে দেওয়া উচিত। বিরোধী দল না থাকলে গণতন্ত্র চলতে পারে না। আপনি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তা আমি জানি।’ খাজা সাহেব স্বীকার করে নিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল। বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘আওয়ামী লীগ বিরোধী দল, আপনি স্বীকার করে নিয়েছেন। এ কথা আমি খবরের কাগজে দিতে পারি কি না।’ খাজা সাহেব বললেন, ‘নিশ্চয়ই পারো’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা ২১৪)। বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র চলতে পারে না, বিরোধীদলকে কাজ করতে দেওয়া উচিত, এটা বঙ্গবন্ধুর উপলব্ধি । অথচ আমাদের গনতান্ত্রিক এই দেশে এখন শক্তিশালী বিরোধী দল নেই। কিন্তু শক্তিশালী বিরোধীদলের উপস্থিতি একটি সুস্থ গনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অবশ্যই থাকা উচিত।
বছরের শুরুতেই ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও তৃতীয় বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আইনের শাসন সমুন্নত রেখে মানুষের নাগরিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, তা করব।’ আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মনোবল খুবই দৃঢ়। উনার অটুট মনোবলের কারণে আজ আমরা পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রজেক্ট নিজেদের অর্থায়নে শুরু করতে সক্ষম হয়েছি। ইতিমধ্যে পদ্মা সেতুর সর্বশেষ স্প্যান স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেতুর মূল কাজ শেষ হয়েছে। শেষ স্প্যানটি স্থাপন করার মাধ্যমে পদ্মা সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার মূল অবকাঠামো দৃশ্যমান আজ। আর তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানুষের নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার এই প্রত্যয় বছরের শুরুতে নতুন আশা জাগায়। নতুন আশায় বুক বাধি তাই।
আমরাও চাই নতুন লক্ষ্যে দেশ এগিয়ে চলবে। সেই চলার পথে যেন সঙ্গী হয় দেশের প্রতিটি মানুষ। মানুষে মানুষে সংঘাত থাকবে না। দিন দুপুরে কেউ খুন হবে না। আমাদের মা-বোনেরা ধর্ষণ এবং নির্যাতনের শিকার হবে না। কৃষক তার ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবে। অগ্রগতির অংশ জুড়ে থাকবে ঐক্যবদ্ধ জাতি। নতুন বছরটি যেন সমাজ জীবন থেকে, প্রতিটি মানুষের মন থেকে সকল গ্লানি, অনিশ্চয়তা, হিংসা, লোভ ও পাপ দূর করে। রাজনৈতিক হানাহানি থেমে গিয়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশ যেন সমৃদ্ধির দিকে আরো এগিয়ে যেতে পারে।
নতুন বছরের কবিতা দিয়ে শুরু করা এই লেখার শেষে এসে সমাপ্তি টানি সেই কবিতার মধ্যে দিয়েই? ‘নতুন বছরে সেই অনাগত নতুনের প্রত্যাশা বন্ধু, তোমাকে নববর্ষের সাদর সম্ভাষণ!’ (মহাদেব সাহা /‘নববর্ষের চিঠি’)। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা!
লেখক : কলামিস্ট।