পথশিশুদের কথা

সেলিনা আক্তার পলি
পথশিশুদের রাস্তাঘাট লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডে প্রায়ই দেখা যায়। খালি গায়ে, ল্যাংটা পরনে পরা ময়লা কাপড় প্রায়ই বিচরণ করে শহরের অলিতে-গলিতে। ময়লা, আবর্জনা খড়কুটো, লোহা-লাক্কড়, বোতল এগুলো কুড়োনো তাদের দৈনিক কাজ। এসব কাজে হয়ত কিছু টাকা পায় মা-বাবাকেও দেয়। পথশিশুদের আরেকটা অংশ বিচরণ করে ট্রেনে যাত্রাকালে দেখা যায় ১০-১২ বছরের শিশু ট্রেনে ওঠে ঘুমিয়ে পড়ে। এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে যায়। যাত্রীদের উঠা-নামার পথে বিভ্রান্ত হয়। আবার কেউ কেউ প্রস্রাব করে ফেলে নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি করে। বাহিরে ট্রেন থামলে পথশিশুরা থেকে ওদের গডফাদার চুরি করে, ডাকাতি করে মোবাইল, ব্যাগ, টাকা চুরি করে। রেলস্টেশনে প্রায়ই দেখা যায় ওদের বিচরণ। অনেকে খারাপ কাজে লিপ্ত থাকে। কেউ কেউ প্রতিবন্ধী। ওদের এখানেই ঠিকানা। এখানেই তারা বড় হয়।
তাদের মা-বাবার কোন ঠিকানা নেই। যাত্রীদের কাছে সাহায্য চায় কেউ কেউ ২-৪ টাকা দেয়। ও দিয়ে তারা খাবার কিনে খায়। আবার কাগজ কুড়ানো ভিক্ষাবৃদ্ধি অপরিচ্ছন্ন খাবার সংগ্রহ করে ওদের জীবন শুরু করে। পরিবারে পায় না দু’মুটো ভাত। রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, ফেরিঘাট তাদের আশ্রয় স্থান। মানুষের ধিক্কার চড়-থাপ্পর নানা শারীরিক নির্যাতন ওদের উপর চলে। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ও পায় না সহানুভূতি। ক্ষুধার জ্বালায় ওরা চুরি করে। অনেকের মা-বাবা আছে অভাবের তাড়নায় স্কুলে না পাঠিয়ে বিভিন্ন কল-কারখানা, গাড়ীর গ্যারেজ, রিক্সা ঠেলানো, ভ্যান চালানো, কাঠমেস্তরী প্রভৃতি কাজে লাগিয়ে দেয়। ফলে শিশু বয়সেই তারা পড়ালেখা তথা খেলাধূলা থেকে বঞ্চিত হয়। শিশু বয়সে ওদের উপর পড়ে এক বিরাট শারীরিক পরিশ্রম। যা ওদের বেড়ে উঠার পথে বিপর্যয় ঘটায়। সারা দিনের কায়িক পরিশ্রমে ওরা হেলে দুলে পড়ে।
যে বয়সে কাঁধে বই থাকার কথা সে বয়সে তারা কায়িক পরিশ্রমের বোঝা তাদের কাঁধে থাকে। তাদের শিশুদেরকে এতবড় কাজ না দিয়ে তাদের মা-বাবার উচিত স্কুলে পাঠিয়ে পড়ালেখা করানো তাদের দৈহিক ও মানসিকভাবে গড়ে তোলার জন্য এই সব শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করা। শিক্ষা বঞ্চিত সমাজ সভ্যতার তিমিরে নিমজ্জিত এসব শিশুকে কাজে না লাগিয়ে সামাজিকভাবে শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করে পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করা। ছিন্নমূল টোকাইরা এভাবে যথাতথা কাগজ লোহা না কুড়িয়ে ভিক্ষাবৃত্তি না করিয়ে রিক্সা না ঠেলিয়া ওদের মেধা ও শ্রমের সুষ্ঠু বিকাশ ঘটিয়ে দেশের সম্পদে পরিণত করা। ওদের জন্য আলাদা মনিটরিং করা।
ছিন্নমূল নিরাশ্রয় অভাবের তাড়নায় কাজে লাগা শিশুদের আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা শিক্ষার ব্যবস্থা করা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ গড়ার কাজে আগ্রহ সৃষ্টি করা সরকারের যুগোপযোগী ব্যবস্থা করা। তথোপরী ওদের জন্য আলাদা মনিটরিং করা। তবেই তারা দেশ ও সমাজের কল্যাণে সাধিত হবে।