যৌবনকাল যার সৎ সুন্দর এবং কর্মময় হয়, তার বৃদ্ধ বয়সকে স্বর্নযুগ বলা যায়। -জর্জ প্রানভিল।
পথশিশুদের ভবিষ্যৎ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ মে ২০২২, ৭:২১:০২ অপরাহ্ন

পথশিশুদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে দেশে। বিশেষ করে,করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুন হারে বেড়েছে। অথচ এই পথশিশু বা ছিন্নমূল শিশুদের পুনর্বাসনের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।এমন কি, সারা দেশে পথশিশুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে সরকারিভাবে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। কারা পথশিশু, সে বিষয়ে কোনো সংজ্ঞাও নির্ধারণ হয়নি এখনো। ইউনিসেফ বলছে, যেসব শিশুর জন্য রাস্তা বসবাসের স্থান অথবা জীবিকার উপায় হয়ে গেছে, তাদের পথশিশু বলা হয়। ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ। বর্তমানে বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। কেউ বলেন ২১ লাখ। আবার কেউ বলেন ২৪ লাখ। অন্য একটি জরিপে বলা হয়, দেশে ৩২ লাখ পথশিশু রয়েছে। তবে এদের মধ্যে ৫০ হাজার শিশু আক্ষরিক অর্থেই রাস্তায় থাকে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, সারা দেশে পথশিশুর সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি। পথশিশুদের খাদ্য ও বাসস্থানের সংস্খান নেই। লেখাপড়া তো দূরের কথা। ভয়ংকর খবর হচ্ছে, এরা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১১ লাখ পথশিশু কিছু না কিছু অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত; বিশেষ করে মাদক কারবার, চুরি ও ছিনতাইয়ে জড়িত তারা। আর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পথশিশুদের ৫১ ভাগ ‘অশ্লীল কথার শিকার’ হয়। শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয় ২০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি যৌন হয়রানির শিকার হয় মেয়েশিশু। ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ পথশিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। আর মেয়ে পথশিশুদের মধ্যে ৪৬ ভাগ যৌন নির্যাতনের শিকার। তাছাড়া, পথশিশুদের অনেকেই নানান ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হচ্ছে। পথশিশুদের কুলি, হকার, রিকশাচালক, শ্রমিক, ফুল বিক্রেতা, আবর্জনা সংগ্রাহক, হোটেল শ্রমিক, বুননকর্মী, মাদক বাহক, বিড়ি শ্রমিক, ঝালাই কারখানার শ্রমিক ইত্যাদিসহ বিভিন্ন ঝুঁঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হয়। পুলিশের গবেষণায়ই বলা হয়েছে, দেশের পথশিশুদের প্রায় অর্ধেকই মাদকাসক্ত। পুনর্বাসন না করলে এই পথশিশুদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। পথশিশুদের নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, দাতা গোষ্ঠী এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু এই শিশুদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনে কোনো কার্যক্রম নেওয়া হয়নি।
টোকাই-পথকলি নামেই পরিচিত এই পথশিশুরা। বিভিন্ন সময় এদের পুনর্বাসনের ব্যাপারে অনেক কথাই বলা হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। প্রধানমন্ত্রী ইতোপূর্বে বলেছিলেন প্রতিটি শিশুই স্কুলে যাবে। একটি শিশুও ঝরে পড়বে না, রাস্তায় ঘুরবে না, টোকাই হবে না। তারাও স্কুলে যাবে, পড়াশোনা করবে। বিষয়টি তদারকি করতে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর ফলাফল এখনও দৃশ্যমান হয় নি। আসল কথা হলো, অতিদরিদ্রের সংখ্যা যতো বাড়বে, ভূমিচ্যুত হয়ে নগর উদ্বাস্তুর সংখ্যা যতো বাড়বে, পথশিশুদের সংখ্যাও ততো বাড়বে।