ফুটপাত ছেড়ে লালদিঘীর মাঠে হকাররা নানা সমস্যায় জমে উঠেনি বেচাকেনা

দ্রুততম সময়ে সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে : মেয়র আরিফ

সাঈদ নোমান::
বদলে গেছে সিলেট নগরীর ব্যস্ততম সড়ক চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার ও বন্দর বাজারের দৃশ্য। গত ২১ ডিসেম্বর থেকে নগরীর ফুটপাত ছেড়ে লালদীঘির মাঠে বসেছেন হকাররা। তাই কিছুদিন থেকে হকারদের হাকডাক আর মানুষের জটলা নেই ফুটপাত জুড়ে। দিনের বেলা ফুটপাত ছেড়ে হকাররা লালদীঘির মাঠে বসেন। কিন্তু, অনেকে রাতে ফুটপাতে বসেই ব্যবসা করেন। তারা জানান, লালদীঘি মাঠে ব্যবসার পরিবেশ এখনও গড়ে উঠেনি।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন লালদীঘির মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠে ছোট ছোট অস্থায়ী দোকানে মালামাল নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। আলাদা সারিবদ্ধভাবে এসব দোকানে ফল, সবজি, মাছ, কাপড়, জুতা,কসমেটিক্স, পান রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, মোটামোটি ব্যবসা হচ্ছে। সন্ধ্যার দিকে বাজার কিছুটা জমে। যাতায়াতের রাস্তা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং মাঠ সমান না হওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সমস্যা হচ্ছে।
সাইফুল নামে এক মাছ বিক্রেতা জানান, মাছ নিয়ে তিনি যে লাইনে বসেন, সেখানে কাদা জমে গেছে। কাদা মাটিতে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যবসা করা কষ্টকর। সবজি বিক্রেতা রাজন মিয়া জানান, সন্ধ্যার পর কিছুটা বিক্রি হয়। ফুটপাতে বসে যে ব্যবসা হতো এর তুলনায় এখানে বসে অর্ধেক মাল বিক্রি করা যায়। এখানে সব মাল বিক্রি না হওয়ায় অনেকে রাত ১০টার পর ঠেলাগাড়িতে মাল নিয়ে ফুটপাতে চলে যান।
লালদীঘির মাঠে বাজার করতে আসা খায়রুল ইসলাম জানান, আগে ফুটপাত থেকে তিনি কাঁচাবাজার করতেন। এখন লালদিঘী মাঠ থেকে বাজার করেন। তবে, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা হলে এবং হকারদের বসারস্থান ভালো হলে এখানে এসে বাজার করতে কোনো সমস্যা হবেনা।
সিলেট মহানগর হকার ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি রকিব আলী বলেন, সিটি মার্কেটের যে রাস্তা দিয়ে লালদিঘীর মাঠে আসতে হয়, সে রাস্তা খুবই ছোট। ব্যবসায়ীরা গাড়ি পার্কিং করে রাস্তার সামান্য এ জায়গাটাও জুড়ে রাখেন। এখানে বাজার জমাতে হলে রাস্তা সমস্যার সমাধান করতে হবে। মাঠে ঘাস কেঁটে উচু নীচু মাটি সমান করতে হবে। পাশাপাশি সামনের রাস্তা পরিষ্কার করে গাড়ি চলাচল ও পার্কিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মঙ্গলবার মাঠে এসে দেখে গেছেন। এসব সমস্যা সমাধান করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। ব্যবসার পরিবেশ তৈরী হলে এবং ক্রেতা আসলে অবশ্যই হকাররা এখানে বসেই ব্যবসা করবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার বলেন, তিনি মাঠের শেষ প্রান্তে দোকান নিয়ে বসেছেন। তার দোকানের আশপাশে আলো নেই। বিক্রিও তেমন নেই। রাত ১০টার পর তিনি ফুটপাতে গিয়ে মাল বিক্রি করেন। মাঠের এরকম পরিবেশ থাকলে এখানে উল্লেখযোগ্য ক্রেতা পাওয়া যাবেনা। ব্যবসা না হলে ধীরে ধীরে এখান থেকে হকাররা চলে যাবেন।
এসএমপি’র উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ বলেন, হকাররা যাতে ফুটপাতে না বসে তার জন্য পুলিশ টহলরত রয়েছে। মাঝেমধ্যে যে দুএকজন হকার বসার চেষ্টা করছেন তাদেরকে উঠিয়ে দিচ্ছে পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মঙ্গলবার সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে মার্কেটে সরেজমিন পরিদর্শন করি। সেখানে পর্যাপ্ত আলোর অভাব, রাস্তা,ড্রেন ও অন্যান্য সমস্যার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।