বানিয়াচঙ্গে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ: ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত অর্ধশতাধিক

সংঘর্ষ থামাতে ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গে জলাশয়ে বাঁধ দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। দফায় দফায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যানসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ থামাতে অন্তত ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ১৮ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ওই উপজেলার কানিভাঙ্গা নামক একটি পঞ্চায়েতী জলাশয়ে কামালখানী গ্রামের লোকজন বাঁধ দেন। গতকাল শুক্রবার মজলিশপুর গ্রামের লোকজন ওই বাঁধ ভেঙে ফেলে দেন। বিষয়টি কামালখানী গ্রামের লোকজন মজলিশপুর গ্রামের লোকজনের নিকট জিজ্ঞাসা করলে সঠিক জবাব পাননি। তখন মজলিশপুর গ্রামের লোকজনকে বাঁধ এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেন প্রতিপক্ষ। এতে মজলিশপুর গ্রামে মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের লোকজনকে ঘটনাস্থলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাঁধের কাছে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। এ খবর পেয়ে কামালখানী গ্রামের লোকজনও মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের লোকজনকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয় । দু’পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে
তাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। সকাল ৮টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) শেখ মো. সেলিম, জনপ্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে তারা সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় পুলিশ অন্তত ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহমেদসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। তাদের মধ্যে মজলিশপুর গ্রামের নজির মিয়াকে (২৫) গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আহত আবিদুর, লাল মিয়া, মনছুর, অলি হোসেন, জমির, অপু সরকার, নিপু, সাজিদ, নূরুল আমীন, সাজলু, ফজলু, জিলু, নাজমুল, হারুন, জসিম, আনসার মিয়াসহ অন্যদের বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হবিগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. সেলিম জানান, দুর্গম হাওরে জলাশয়ে দু’দল গ্রামবাসী বাঁধ দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা বলেন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়পক্ষকে শান্ত করেছেন। সবকিছু এখন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।