ব্রিটেনে নতুন ধরনের করোনার প্রাদুর্ভাবে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক


যে কোন সময় বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যেতে পারে


লন্ডন থেকে মোঃ রহমত আলী::
ব্রিটেনের নতুন ধরনের করোনা বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে।নতুন ধরনের এই করোনা ভাইরাসটি খুবই সংক্রামক। গত কয়েকদিনে যুক্তরাজ্যের কমপক্ষে ৬০টি স্থানে করোনাভাইরাসের এ নতুন স্ট্রেইনের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উক্ত স্থানগুলোতে করোনার বিস্তার দ্রুত ঘটছে।
যুক্তরাজ্যে এই নতুন রূপ নেওয়া করোনাভাইরাস সনাক্ত হওয়ার পর দেশটির সঙ্গে এ পর্যন্ত ইউরোপীয়া দেশসহ প্রায় ৫০টি দেশ বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। জারি করেছে জল, স্থল ও ট্রেনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও। ইতোমধ্যে ভারত আগামী ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তাদের সব ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টা ৫০ মিনিট থেকে ফ্লাইটের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সাথে সাথে যুক্তরাজ্য থেকে ভারতে যাওয়া যাত্রীদের বিমানবন্দরে আরটিপিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে, বাংলাদেশ এখনও বিমান চলাচল বন্ধ না করলেও যে কোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমানের লন্ডনস্থ কান্ট্রি ম্যানেজার দেবব্রত মল্লিক জানান, সিলেট ও ঢাকা থেকে ব্রিটেনে আসা ও ব্রিটেন থেকে বাংলাদেশে যাওয়া ফ্লাইটগুলো এখনও চালু আছে। তবে, তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এদিকে মঙ্গলবার ২২ ডিসেম্বর সকালে ঢাকায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক জানান, পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ফ্লাইট বন্ধ করা হবে কি না।
এদিকে, লন্ডন থেকে যারা বাংলাদেশ বিমান ছাড়া অন্যান্য এয়ারলাইন্সে দেশে গিয়েছিলেন তাদের অনেকে বৃটেনে ফিরতে পারছেননা। কারণ, সে সমস্ত এয়ারলাইন্স ব্রিটেনের সাথে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে, তারা মারাত্মক সমস্যা ও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছেন। অনেকে বিকল্প ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্যে আসার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন অথবা পুনরায় নিজ বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক অবস্থায় করোনাভাইরাসের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যের (স্ট্রেইন) খোঁজ পাওয়া গেছে। এ ভাইরাসটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতিকে ‘সত্যিকারের উদ্বেগের কারণ’ বলে মনে করা হচ্ছে। করোনা মহামারি দেখা দেওয়ার পর এবারই যে প্রথম রূপান্তর বা জিনগত পরিবর্তনের কারণে ভাইরাসটির সংক্রমণ বেড়েছে, তা নয়। তবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এবারের ছড়িয়ে পড়ার হার ৭০ শতাংশ কিংবা তার চেয়েও বেশি।