মদিনা মার্কেটের ভৌতিক বাড়ি

সুব্রত দাশ
অ্যাডভোকেট রাব্বি থাকেন শহরতলীতে। সেখান থেকে কোর্ট এবং সিনিয়রের চেম্বার অনেক দুরে। বেশ অসুবিধা হয় তাঁর। সিনিয়রের চেম্বার মদিনা মার্কেট এলাকায়। রাব্বি একই এলাকায় বাসা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি মদীনা মার্কেটের কাছাকাছিই চমৎকার একটি বাসা দেখতে পেলেন। প্রসস্থ বেলকনি, রাস্তার একেবারে পাশে দু’তলা বাসাটি দেখেই রাব্বি সাহেবের পছন্দ হয়ে গেল। যদিও বাসাটি বেশ পুরাতন। তিনি ঘড়ির দিকে তাকালেন। রাত ৯টা। আকাশের অবস্থাও ভালো নয়। জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি সময়। এ সময় কালবৈশাখি ঝড় হয়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও পড়ছে। তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে। কখন আবার ঝড় শুরু হয় তার কোন ঠিক নেই। ব্যস্ততার জন্য সময়ও পান না। বাসাটা যদি হাতছাড়া হয়ে যায়, তাহলে এমন সুবিধাজনক বাসা আর পাওয়া যাবে না। ভাবনা চিন্তা করতে করতে বাইরের গেট খুলে ভেতরের কলাপসিবল গেটের কাছে এসে দাঁড়ালেন। বৃষ্টিটাও একটু বেড়েছে। কলিং বেল টিপবেন কিনা একটু ইতস্ততঃ করছেন। এমন সময় ভেতর থেকে একজন বৃদ্ধ লোক বের হয়ে এলেন। লম্বা ফর্সা মানুষ। বয়সের ভারে কুঁজো হয়ে সামনের দিকে অনেকটা ঝুঁকে গেছে শরীরটা। মাথায় লম্বা সাদা চুল, লালচে ধরনের।
প্রশ্ন করলেন-এভাবে দাঁড়িয়ে আছেন যে?
– বাসা ভাড়া নিতে চাই। বাসাটা দেখা প্রয়োজন। বেশ রাত হয়ে গেছে। এত রাতে বিরক্ত করা কি ঠিক হবে?
– ও এই কথা! কোন সমস্যা নেই। ভেতরে আসেন। তিনি গেট খোলে দিলেন। আমরা বুড়োবুড়ি নিচ তলায় থাকি। দু’তলাটা ভাড়া দেব। আসেন দেখবেন।
বৃদ্ধ লোকটির পিছুপিছু রাব্বি সাহেব সিড়ি বেয়ে দু’তলায় উঠলেন। তিনি দড়জা খোলে লাইট জ্বালালেন। বাব্বা! অপূর্ব! সবকিছু ঝকঝকে তকতকে করে সাজানো। ড্রয়িং রুম; তাতে দামী সোফা, দেয়ালে কীসব দুর্বোধ্য পেইন্টিংস, ডায়নিং রুম, দু’টি বেডরুম, প্রতিটি রুম সংলগ্ন ওয়াশ রুম,তারপর কিচেন। কিচেনে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রাদি গুছিয়ে রাখার জন্য ওয়ালের সাথে এটাচ সেলফ। চমৎকার। বাসাটা রাব্বি সাহেবের খুবই পছন্দ হয়েছে। বললেন- মাসিক ভাড়া কত দিতে হবে?
বৃদ্ধ লোকটি একগাল হাসলেন। বললেন- আরে ওসব পরে হবে। আগে বসুন একসাথে একটু চা খাই। দেখতে পাচ্ছেন না বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। ঝড়ও আসতে পারে। কেমন ঠান্ডা লাগছে। ইচ্ছে হলেও এখন বের হতে পারবেন না। একথা বলেই বৃদ্ধ লোকটি রাব্বি সাহেবের দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন। হাসার সময় মুখের পাশ দিয়ে একটু লালা পড়ার উপক্রম হওয়ায় তিনি তা বামহাতের পিঠ দিয়ে মুছে নিলেন।
আরে তাই তো! কতক্ষণ ধরে বাসাটি দেখছেন তার কোন খেয়ালই নেই। ততক্ষণে বৃদ্ধা চা-বিস্কুট নিয়ে এসেছেন। সোফার সামনে রাখা ছোট টেবিলে ট্রে-টা রেখে বললেন, চায়ে চিনি দেইনি। পাশের বাটিতে চিনি রাখা আছে। প্রয়োজনমত মিশিয়ে নেবেন। বলেই একে অপরের দিকে চেয়ে মুখ টিপে হাসলেন। একটু রহস্যময়। তাদের চোখগুলো কেমন চিকচিক করছে। ভিতরে সুনসান নিরবতা।
বাইরে বৃষ্টির ঝাপটার শব্দ। গা শিউরে উঠল রাব্বি সাহেবের। একটু ভয়ভয় লাগছে। তিনি চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আড়চোখে দু’জনের দিকে তাকালেন। দু’জনেই ফর্সা, বরফের মত সাদা, ফ্যাকাসে, রক্তহীন। বয়সের কারণেই ত্বক ভীষণ রকমের কুচকানো। বৃদ্ধের চোখের নিচের দিকটা ফুলে অনেকটা যেন ঝুলে আছে। মুখমন্ডল লম্বাটে। বৃদ্ধা চাদর গায়ে দিয়ে আছেন। চাদর থেকে বেরিয়ে থাকা ভয়ানক কুচকানো হাত দু’টি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ভেতরের বাতাস কেমন ভারী হয়ে আসছে। গা ছমছম করছে। তিনি কোন রকমে চা শেষ করে কাপটা পিরিচে রাখলেন। এমন সময় দরজাটা খোলে গেল। নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছিল না। তিনি দেখতে পেলেন তার সামনে রাখা ট্রে টা কাপ-পিরিচ পানির গ্লাস সহ উপরে উঠে যাচ্ছে। মনে হলো কে যেন ওগুলি নিয়ে দড়জার দিকে চলে যাচ্ছে। পায়ের আওয়াজ পাওয়া গেলেও কাউকে দেখা যাচ্ছে না। দড়জাটা আবার বন্ধ হয়ে গেল। ভয়ে সারা শরীর হীম হয়ে আসছে রাব্বি সাহেবের। চোখ দু’টো ভয়ে বিস্ফোরিত হয়ে কুঠুরি হতে বের হয়ে আসতে চাইছে। না, এবার প্রাণ নিয়ে পালাতে হবে। সবটুকু শক্তি সঞ্চয় করে তিনি উঠে দৌড় দিতে যাবেন। কিন্তু না। সেই সময়টুকু বুঝি পেলেন না তিনি।
– কোথায় যাচ্ছ বাছা ধন? যাওয়ার আগে মরণ তিলকটা তোমার কপালে একটু এঁকে দেই। তোমাকে যে আবার এখানেই ফিরে আসতে হবে। শিঘ্রই, খুব শিঘ্রই। হা. হা. হা…। বৃদ্ধার অট্টহাসিতে সারা ঘর কেঁপে উঠল।
রাব্বি সাহেব প্রাণপনে উঠে দাঁড়াতে চাইলেন। কিন্তু তিনি দেখতে পেলেন বৃদ্ধার কুচকানো হাত দু’টি চাদরের নিচ হতে বের হয়ে লম্বা হতে হতে তার দিকে এগিয়ে আসছে। আঙ্গুলের মাথা হতে নখগুলো লম্বা হতে হতে পাখির ঠোঁটের আকার ধারন করেছে। কিছু বুঝে উঠার আগেই বৃদ্ধার বামহাত তার মুখমন্ডলে ঝাঁপটে ধরে প্রচন্ড চাপে তাকে আবার সোফায় বসিয়ে দিয়েছে। ভয়ার্ত চোখে রাব্বি সাহেব দেখতে পেলেন, বৃদ্ধার চোখ দু’টো রক্তবর্ণ ধারন করে তার দিকে এগিয়ে আসছে। চাদর সরে যাওয়ায় তার চুলহীন মৃত মানুষের খুলির মত মাথাটি এবার চোখে পড়ল। রাব্বি সাহেব দেখতে পেলেন একটি রক্তাক্ত লাল নখ তার কপালে ঢুকে যাচ্ছে। প্রচন্ড যন্ত্রণায় ককিয়ে উঠলেন তিনি। না বাঁচার আর কোন আশাই বুঝি রইল না। এবার সত্যি সত্যি মরতে হবে। তিনি তার প্রিয়তমা স্ত্রী ও একমাত্র কন্যার মুখটি কল্পনায় আঁকতে চাইলেন।
এবার ভয়ানক রূঢ়, কর্কশ ও গমগমে কন্ঠস্বরে তিনি সম্বিৎ ফিরে পেলেন। সামনে দাঁড়িয়ে আছে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। চোখে-মুখে ক্রুর হাসি।
বৃদ্ধার কন্ঠ: শোন বাছা, তোমার কপালে মরণ তীলক এঁকে দিলাম। এই ক্ষত হতে একটি কালো দাগের সৃষ্টি হবে। সেই দাগ নাক চিবুক বেয়ে ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামতে থাকবে। যেদিন কালো দাগটি নাভীমূলে গিয়ে পৌঁছবে সেদিনই হবে তোমার মৃত্যু। এটাই তোমার নিয়তি। এটা কেউ খন্ডাতে পারবে না। হা. হা. হা…
রাব্বি সাহেব ঘরের ভিতর অসংখ্য প্রেতাত্মার ফিসফাস ও হা হা হা হাসির শব্দ শুনতে পাচ্ছেন।
-এবার তুমি যেতে পারো। শিঘ্রই এখানে, এই মৃত্যুপুরীতে আবার তোমার সাথে দেখা হচ্ছে কেমন? হা. হা. হা…
সবটুকু শক্তি সঞ্চয় করে প্রাণপণে উঠে দৌড় দিলেন রাব্বি সাহেব। কখন কিভাবে মূল রাস্তায় এসে আছড়ে পড়েছিলেন তার কিছুই আর মনে নেই।
পরদিন সকালে হাসপাতালের বেডে নিজেকে দেখতে পেলেন তিনি। রাতের টহল পুলিশ অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছেন। তার পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের নাম্বার হতে পরিবারের লোকজনদের খবর দেয়া হয়েছে। স্ত্রী-সন্তান আত্মীয়-স্বজন সকলেই এসেছেন। কয়েকদিন চিকিৎসা চললো। অনুমান করা হয়েছে হয়ত সেরাতে কোন গাড়ি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে রাব্বি সাহেবকে। পাকা রাস্তায় পড়ে গিয়ে কপালে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তাতে বেন্ডিস করা হয়েছে। গাল সহ মুখের অন্যান্য অংশেও সামান্য ক্ষত রয়েছে। ঔষধপত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু বড় সমস্যা ক্ষত নয়। ডাক্তার বলেছেন- রোগী প্রচন্ড ভয় পেয়েছেন। তার মানসিক ক্ষত সারিয়ে তুলতে বেশ সময় লাগবে। হাসপাতাল হতে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে । অন্যান্য ঔষধপত্রের সাথে কয়েকটি ইনজেকশনও দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে রোগী যদি হঠাৎ উত্তেজিত ওয়ে ওঠে সাথে সাথে যেন দু’টি ইনজেকশন পুশ করা হয়। এ অবস্থায় রোগীকে ঘুম পারিয়ে রাখতে হবে।
বাড়ি ফিরেই রাব্বি সাহেব আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে কী যেন দেখলেন। স্ত্রী পাশে এসে দাঁড়ালেন। দরদমাখা কন্ঠে বললেন- কী যে ধকল গেছে! এই ক’দিনে শরীরের কী হাল হয়েছে দেখ! তিনি তার স্বামীকে আস্তে করে বিছানায় শুইয়ে দিলেন।
রাব্বি সাহেব ঐ রাতের ঘটনা স্ত্রীর কাছে খুলে বললেন। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেছেন বলে মনে হলো না। শুধু বললেন ঔষধপত্র ঠিকমত খাও, সব ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা করো না।
রাব্বি সাহেব কাকে দিয়ে জানি বাজার থেকে একটি ছোট আয়না কিনে নিয়ে এসেছেন। এখন সেটি নিয়ে সবসময় বসে থাকেন এবং আয়নাতে কী জানি কী খুঁজতে থাকেন । কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে কোন উত্তরও দিচ্ছেন না। সবাই বুঝতে পারল রাব্বি সাহেবের মাথায় গন্ডগোল দেখা দিয়েছে। ঠিকমত ঘুমান না। সবসময় আয়না নিয়ে থাকেন।
একদিন বিকেলবেলা হঠাৎ রাব্বি সাহেব অস্থির হয়ে স্ত্রীকে ডাকতে লাগলেন, এই দেখো তো ক্ষতস্থানের নিচের দিকে একটি কালো দাগ দেখা যাচ্ছে কি না!
তিনি অনেকটা সময় দেখে বললেন-কই না তো, এমনতো কিছু দেখা যাচ্ছে না।
রাব্বি সাহেব উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। আরে দেখতে পাচ্ছো না? ঐ তো দেখা যাচ্ছে কালো দাগটা। অনেকটা পানির ফোঁটার মতো নিচের দিকে নেমে আসছে। রাব্বি সাহেবের স্ত্রী বুঝতে পারলেন অবস্থা ভালো নয়। ইনজেকশন দিতে হবে। বললেন, ঠিক আছে তুমি শান্ত হয়ে বস। আমি এক্ষুণি আসছি। কয়েকজন মিলে জোর করে ইনজেকশন দিয়ে রাব্বি সাহেবকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়া হলো।
কালো দাগটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে লম্বা হচ্ছে। তিনি এখন বিষয়টি নিয়ে কাউকে কিছু বলেন না। উচ্চবাচ্য করেন না। বললেও কোন লাভ নেই। কেউ তার কথা বিশ্বাস করে না। কেউ কিছু দেখতে পায় না। শুধু তিনিই দাগটি দেখতে পান।
মরতে তো তাকে হবেই। মেয়েটির জন্য বেশি কষ্ট হয়। রবীন্দ্রনাথের কাবুলিওয়ালা গল্পের মিনির মতোই বয়স। মিনির মতো সেও অনবরত কথা বলত। এটা কি ওটা কি বলে আব্বুকে সে অস্থির করে রাখত। কিন্তু এখন মেয়েটা চুপচাপ। আব্বুর কাছে চুপচাপ বসে থাকে। কোন কথা বলে ন্।া সেদিন রাব্বি সাহেব মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন- আম্মু, আগে চকলেট খাওয়ার বায়না ধরতে, চকলেট না আনলে আব্বুর সাথে আড়ি দিতে। এখন কেন কিছুই বলো না আম্মু? মেয়েটি আব্বুর গলা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে। বলে- আমার ওসব কিছুই চাই না। আব্বু, তুমি আগে সুস্থ হয়ে উঠো। নইলে আমি আর কখনই চকলেট খাব না। রাব্বি সাহেব খুবই শক্ত ধাচের মানুষ। কিন্তু সেদিন মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে অঝোর ধারায় দীর্ঘক্ষণ কেঁদেছেন।
ঐ রাতের ঘটনার কথা এরই মধ্যে জানাজানি হয়ে গেছে। অনেকে বিশ্বাসও করতে শুরু করেছেন। তাই রাব্বি সাহেবের বর্ণনামত বাড়িটির খোঁজ নেয়া হয়েছে। জানা গেছে বাড়িটি সত্যিই একটি ভৌতিক বাড়ি। বেশ ক’বছর আগে বাড়ির মালিক বৃদ্ধ দম্পতি খুন হন। পরে বৃদ্ধের আত্মীয় স্বজন বাড়িটি বিক্রি করে দেন। কয়েকবার হাত বদল হয়েছে। কিন্তু কেউ টেকেনি। সবারই কোন না কোন ক্ষতি হয়েছে। কারো ছেলে মারা গেছে, কারো বা স্ত্রী। কেউ বা প্যারালাইসড হয়ে আজীবনের জন্য ঘরে বন্দি হয়ে আছেন। কিছু দিন পূর্বে একটি ছেলে নাকি এই বাসার আম গাছ থেকে আম পেড়ে খেয়েছিল। ছেলেটি বাসায় ফিরে আসার পরপরই প্রচন্ড জ্বর আসে এবং ছেলেটি মারা যায়। এরকম কিছু কাহিনী এরই মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কাহিনী শুনে আত্মীয়-স্বজনের অনেকে বলতে লাগলেন- নিশ্চয়ই ভূতবাড়ির ভূতের আঁচড় লেগেছে। ডাক্তারী চিকিৎসায় হবে না। কোন তান্ত্রিক- কবিরাজের শরণাপন্ন হতে হবে। কথামত ডাক্তারী চিকিৎসার পাশাপাশি ঝাড়-ফোঁক তান্ত্রীক চিকিৎসাও চলতে লাগল।
রাব্বি সাহেবের কোন উন্নতি নেই। অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার সকল বন্দোবস্ত পাকা করা হয়েছে। কিন্তু বেঁকে বসেছেন রাব্বি সাহেব। ভালভাবেই বুঝতে পারছেন যত চেষ্ঠাই করা হোক না কেন তিনি আর বাঁচবেন না। কালো দাগটি এরই মধ্যে কন্ঠনালি বেয়ে বুক বরাবর চলে এসেছে। শরীরে অস্থিরতাও বেড়েছে। প্রায়ই কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছে। একেবারেই ঘুমাতে পারছেন না। চোখ বন্ধ করলেই অশরীরি আত্মা ও ঐ বৃদ্ধ-বৃদ্ধার কুৎসিত হাসি শুনতে পান। দু’কান চেপে ধরেও রক্ষা নেই। দম তার বন্ধ হয়ে আসে। তাই রাব্বি সাহেব কোথাও যাবেন না। তিনি স্ত্রী ও সন্তানের হাতে হাত রেখে জন্ম ভিটেতেই মরতে চান।