মাধবপুরে আওয়ামী লীগের ২ শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা :
জমে উঠেছে মাধবপুর পৌরসভা নির্বাচন। দ্বিতীয় ধাপে ১৬ জানুয়ারি পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে সম্প্রীতির শহরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রচার-প্রচারণায় ছড়িয়ে পড়েছে উত্তাপ। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ২ বিদ্রোহী মাঠে সরব থাকায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী অনেকটা বেকায়দায় রয়েছে। তবে, শেষ মুহূর্তে দলীয় নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করে মাঠে নামাতে তৎপর রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা। সুযোগ কাজে লাগাতে বিএনপিও মাঠ চষে বেড়াচ্ছে।
১৯৯৭ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মেয়র পদটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এবার নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৭ জন লড়ছেন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবার নৌকা তুলে দিয়েছে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীধাম দাশগুপ্তের হাতে। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক ২ বারের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. মুসলিম স্বতন্ত্র প্রার্থী (জগ) মার্কা নিয়ে ও গত নির্বাচনে ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত বর্তমান মেয়র হিরেন্দ্র লাল সাহা অসুস্থজনিত কারণে মনোনয়ন না চেয়ে তার ছোট ভাই ব্যবসায়ী পংকজ কুমার সাহার জন্য দলীয় মনোনয়ন চান। মনোনয়ন না পেয়ে ‘নারিকেল গাছ’ মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি থেকে বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হাবিবুর রহমান মানিক এবারও দলীয় একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই বৃহত্তর সিলেটের প্রবেশদ্বার মাধবপুর পৌরশহরের অলিগলি প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে। রীতিমতো উৎসবের আমেজ চলছে পুরো শহর জুড়ে। তবে, কে হবেন ভোটে মেয়র এ নিয়ে চলছে নানান সমীকরণ। নানা হিসেব-নিকেশ। রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ। মাধবপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হাসান বলেন, দলীয় প্রতীকবিজয়ী করতে শেষ মুহূর্তে নেতা-কর্মীরা এক জোট হবেন। কারণ, এই মার্কা শেখ হাসিনার। ভোটাররা উন্নয়নের স্বার্থে অবশ্যই ‘নৌকা’কে বেছে নিবেন।
পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলাউদ্দিন আল রনি বলেন, ভোট সুষ্ঠু হলে ধানের শীষের ইনশাল্লাহ নিশ্চিত বিজয় হবে।
সুনীল দাস বলেন, শাহ মো. মুসলিম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ছাত্রজীবন থেকে জড়িত। দলের দুর্দিনের কান্ডারী, একজন মুক্তিযোদ্ধা ও ২ বার মেয়র ছিলেন। তার আমলে পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পৌরবাসী তাকে অবশ্যই মূল্যায়ন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন।
ব্যবসায়ী তৈবুর রহমান তপন বলেন, পংকজ সাহার ভাই হিরেন্দ্র লাল সাহা ২ বার পৌর মেয়র হিসেবে পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন। দানশীল ও পারিবারিক ঐতিহ্য ও নিজস্ব ভোট ব্যাংককে কাজে লাগিয়ে মেয়র নির্বাচিত হতে চান।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা সুকোমল রায় বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে শুধু প্রতীক নয়, ব্যক্তিও পারিবারিক ভোট পুঁিজ করে জয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাধবপুর পৌরসভা এখন ১ম প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। প্রায় ৮ কিলোমিটারে প্রায় ৫০ হাজার লোকের বসবাস। বর্তমানে ভোটার ১৫ হাজার ৯শ’ ৮৭ ভোট। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮১০৭ ও মহিলা ভোটার ৭৮৮০ জন। এবারের নির্বাচনে কে হচ্ছেন মেয়র। এ প্রশ্ন এখন ঘোরপাক খাচ্ছে পৌরসভার ভোটারদের মধ্যে।