মানুষ তার পরিবারের জন্য সওয়াবের নিয়তে যখন খরচ করে, তখন তা হয় তার সদকা স্বরূপ। -আল হাদিস।

ব্যাংকের সার্ভিস চার্জ
ব্যাংকঋণ নিতে লাগামহীন সার্ভিস চার্জ নিয়ে প্রায় সময়ই সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন পত্রিকায়। ব্যাংকগুলো থেকে বিভিন্ন ধরণের ঋণ নিতে সার্ভিস চার্জ কর্তনের ব্যাপারে গ্রাহক বা ঋণগ্রহীতাদের অসন্তুষ্টির কথা তুলে ধরা হয় এই সব সংবাদে। এতে বলা হয়- ইতোমধ্যেই এক অংকে ঋণের সুদের হার কার্যকর করেছে ব্যাংকগুলো। কিন্তু ঋণের বিপরীতে রয়ে গেছে নানা ধরণের কমিশন ফি, সার্ভিস চার্জ। এসব কারণে ঋণের ঘোষিত সুদ নয় শতাংশে হলেও বাস্তবে এই হার ১২ থেকে ১৬ শতাংশে পৌঁছে যায়। আর এই ঋণ নিতে গুনতে হচ্ছে লাগামহীন সার্ভিস চার্জ। তাই গ্রাহকের অজান্তেই বেড়ে যাচ্ছে ঋণের সুদ হার। বিশেষ করে ছোট গ্রাহকদের ওপরই সার্ভিস চার্জের খড়গ বেশি। এতে করে ব্যাংকের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহে ভাটা পড়ছে। ইতোপূর্বে সার্ভিস চার্জ কমানোসহ অন্যান্য ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাধিকবার নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু সেটা পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না।
ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করে; এটা পুরনো বিষয়। এ নিয়ে লেখালেখিও হচ্ছে অনেক দিন ধরে। গ্রাহকরা ব্যাংকে টাকা জমা রাখে, প্রয়োজনে ঋণ নেয়। কিন্তু গ্রাহকেরা জানেও না ব্যাংকে টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে কোন খাতে কী পরিমাণ সার্ভিস চার্জ কাটছে ব্যাংক। যখন গ্রাহকেরা ব্যাংকে খোঁজ নেয়, তখনই দেখা যায় একাউন্ট থেকে জমা টাকার একটা অংশ কেটে নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, হিসাব খোলা থেকে শুরু করে ব্যাংকের বিভিন্ন ধরণের সেবা পেতে গ্রাহককে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। এক ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতেই কমপক্ষে ২০ ধরণের চার্জ দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। [ব্যাংকগুলো গতানুগতিক কিছু বিষয়ের সার্ভিস চার্জের তালিকা প্রকাশ করলেও অনেক চার্জের বিষয়ে কোন ধরণের ঘোষণা থাকে না। ব্যাংকগুলো বড় ও মাঝারি শিল্প খাতের মেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে। বিভিন্ন ধরণের ফি ও চার্জ এই সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।] ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে যেসব খাতে ফি দিতে হয়, তার মধ্যে রয়েছে- প্রসেসিং ফি, মর্টগেজ তৈরির ফি, সরকারি বিভিন্ন স্ট্যাম্পের ফি, ঋণ গ্রহীতার কাগজপত্র রাখার ফি, জামানতের নিরাপত্তা ফি ইত্যাদি।
ব্যাংকঋণের নির্ধারিত সুদ এবং তার সঙ্গে রকমারি সার্ভিস চার্জ যুক্ত করে গ্রাহকদের ওপর প্রকৃতপক্ষে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সুদের বোঝা এসে পতিত হয়। ঋণ গ্রহণ বা ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় আমাদের দেশের মতো এতো সার্ভিস চার্জ কাটা হয় না অন্য কোন দেশে। প্রতিবেশী ভারতসহ অন্যান্য দেশে ব্যাংকঋণের প্রসেসিং ফি সর্বোচ্চ এক শতাংশ বলে জানা যায়। ব্যাংকগুলোর আয়ের একটা বড় অংশই আসে বিভিন্ন ধরণের ফি ও সার্ভিস চার্জ থেকে। জানা যায়, বর্তমানে একাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ ফি থেকে ব্যাংকগুলো বছরে আয় করছে এক হাজার সাতশ’ কোটি টাকা। বিপরীতে সাধারণ গ্রাহক ফতুর হচ্ছে। এই গ্যাঁড়াকল থেকে বের করতে হবে গ্রাহকদের।