মা মারা যাওয়ায় নিঃস্ব সুনামগঞ্জের চার শিশু সন্তান

নীতিমালায় পড়লে শিশুদের পুনর্বাসন করা হবে : সমাজসেবা বিভাগ

এম. আহমদ আলী:
দিনমজুর মা মারা যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে সুনামগঞ্জের চার শিশু সন্তান। গত মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মা লাভলী বেগম মারা যাওয়ায় তারা অনেকটা নি:স্ব হয়ে পড়েছে। এর আগে মারা যান তাদের বাবা।
পারিবারিক সূত্র জানায়, দিনমজুর লাইলীর জীবন ছিল বড় কষ্টের । প্রথমে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজারে সুলতান নামের একজনের সাথে বিয়ে হয় তার। স্বামী মারা যাবার পর শুরু হয় তার জীবনযুদ্ধ। তিন সন্তান নিয়ে কাজের সুবিধার জন্য তিনি সুনামগঞ্জ শহরে চলে আসেন। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের পেছনে আলী পাড়ায় বসবাস শুরু করেন তিনি। সন্তানদের ভরণ পোষণসহ জীবিকার তাগিদে এখানে বিভিন্ন বাসা বাড়ীতে কাজ করে কোনমতে জীবিকা নির্বাহ করতেন লাভলী। এরপর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, দ্বিতীয় স্বামী বিয়ের এক বছর পর তাকে ছেড়ে চলে অন্যত্র চলে যায়। আগের স্বামীর রেখে যাওয়া তিন সন্তান ও দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে জন্ম নেয়া এক সন্তান নিয়ে বাসা বাড়ীতে কাজ করে সন্তানদের মুখে আহার তুলে দিতেন লাভলী। এ ভাবেই চার সন্তান নিয়ে চলছিল তার জীবন। লাভলীর চার সন্তানের মধ্যে বড় পুত্র নাদের (১৩), ছোট পুত্র রাসেল (১২), বড় কন্যা বীথি (১০) এবং ছোট কন্যা আফিয়া’র বয়স দেড় বছর। কিন্তু, হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন লাভলী। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু চিকিৎসার জন্য ছিল না তার আর্থিক সঙ্গতি।
জানা গেছে, সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসা ও ঔষধ কেনার টাকা না থাকায় শিশুদের দিকে চেয়ে হাসপাতাল এলাকার লোকজন ও অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভাররা মিলে চিকিৎসা ও ঔষধ কেনার টাকা সংগ্রহ করে দেন। এই টাকা দিয়ে তার চিকিৎসা ও চার শিশুদের খাবার ব্যবস্থা করা হয়। একই সাথে যে সব ঔষধ হাসপাতালে সাপ্লাই ছিল না-সে গুলো বাইরের ফার্মেসী থেকে কিনে দেয়া হয় । কিন্তু,সব চেষ্টা ব্যর্থ করে লাভলী গত ১২ জানুয়ারি চার শিশু সন্তান রেখে মারা যান। মারা যাওয়ার পর ছিল না তার দাফনের টাকাও। তাকে দাফন করার মত কেউ না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভাররা মিলে মানবিক কারণে উদ্যোগ নেন দাফনের। খবর পেয়ে সেখানে তাদের সাথ সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন সাংবাদিক দেওয়ান শাহজামান চৌধুরী গিয়াস ও সাংস্কৃতিক কর্মী এবং ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ প্রার্থী সাদিকুর রহমান খান রুবেল।
রুবেল ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে কিনে দেন কাফনের কাপড়। অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারসহ কয়েকজন সমাজহিতৈষী মিলে তাকে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেন। গতকাল বুধবার বাদ জোহর নামাজে জানাজা শেষে সুনামগঞ্জ শহরতলীর মরা নদী ’র পাশে একটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানা গেছে, লাভলীর চার শিশু সন্তান সরকারি কলেজের পেছনে একটি ভাড়াটে ঘরে অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করছেন বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক দেওয়ান শাহজামান চৌধুরী গিয়াস ও ওই এলাকার বাসিন্দা কে এম শহীদুল ইসলাম।
সুনামগঞ্জ জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানান,সমাজসেবা বিভাগের নীতিমালার মধ্যে পড়লে অবশ্যই এই শিশুদের সহযোগিতাসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তারা সুনামগঞ্জ জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তাদেরকে সমাজসেবার এতিম খানায় প্রেরণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।