শীতের রোগব্যাধি

তোমরা তোমাদের খাদ্য মেপে দেবে, তাতে তোমাদের জন্য বরকত হবে। -আল হাদিস।
জেঁকে বসেছে শীত, এমনটি বলা যাবে না। তবে শীত নেমেছে স্বাভাবিক নিয়মেই। তবে শীত ঋতুর চিরাচরিত যে চরিত্র তাতে ব্যত্যয় ঘটছে বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও। এবার একটু দেরিতেই নেমেছে শীত। আর বিদায় নেবে যথাসময়ে। এই ধরণের পূর্বাভাস দিচ্ছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞগণ। আর এই শীতের মওসুমটি বাঙালিদের সারা বছরের একটি আরাধ্য বিষয়। গ্রীষ্ম প্রধান দেশের বাসিন্দা হিসেবে এদেশের মানুষ শীত ঋতুকে উপভোগ করার জন্য নানা আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বলা যায় নবান্ন, পিঠাপুলি আর নানা ধরণের মেলা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করে সারা বাংলায় এই শীত ঋতুতে। কিন্তু এই অনন্দ উৎসবে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে শীতজনিত নানা রোগব্যাধি।
শীত নামার সাথে সাথেই নানা ধরণের রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাসহ বয়োঃবৃদ্ধদের এইসব রোগে আক্রমণ করছে বেশি। আর বৈশ্বিক বিপর্যয় করোনার তাণ্ডব তো আছেই। সব মিলিয়ে করোনাসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে শীত। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। শীতজনিত বিভিন্ন রোগ হচ্ছেÑ ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ব্রংকাইটিস, ব্রংকিউলাইটিস, মধ্যকর্ণের প্রদাহ, নিউমোনিয়া, জণ্ডিস, আমাশয় ইত্যাদি। তীব্র ঠাণ্ডায় হৃদরোগীদের নানা ধরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, এবারে দেশে শীতের অস্বাভাবিক আচরণের ফলে রোগের গতি প্রকৃতিতেও অস্বাভাবিকতা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে শীতের সঙ্গে করোনাসহ অন্যান্য শীতজনিত রোগে কাবু সারা দেশ।
এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, [শীত মওসুম শুরু এবং বিদায়ের প্রাক্কালেই শীতজনিত রোগের প্রকোপ হয় বেশি। সেই প্রেক্ষাপটে আগামী দিনগুলোতে সতর্কতা অবলম্বন করা সবচেয়ে জরুরি। এছাড়াও রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়েটিকসহ অন্যান্য ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।]