শ্রীমঙ্গলে থার্মোমিটারের পারদ এখন ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা: হাঁড় কাঁপানো শীত আর কুয়াশায় মোড়া শহর এখন শ্রীমঙ্গল। এখানে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার শ্রীমঙ্গলে থার্মোমিটারের পারদ ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ছিল।
জানা যায়, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিচিত্র হতে শুরু করেছে প্রকৃতির রূপ। চা বাগানের সারি সারি ছায়া গাছগুলো সকাল-সন্ধ্যা ঢাকা পড়ছে ধূসর কুয়াশার চাদরে। প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করতে করোনা সংক্রমণ উপেক্ষা করে পর্যটকদের ভিড়ও বাড়তে শুরু করেছে সবুজ-ঘন চা বাগানগুলোতে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গল এবং চুয়াডাঙ্গায় ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিকেলের পর সূর্য ডোবার সময় ঘনিয়ে এলেই মৃদু শীত অনুভূত হতে থাকে। সন্ধ্যার পর জেঁকে বসে শীত। সময় গড়াবার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শীতের তীব্রতা। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যতাপ মুছে দেয় কুয়াশা ঢাকা হিমেল আমেজ।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারী মো. জাহেদুল
ইসলাম মাসুম জানান, গতকাল মঙ্গলবার শ্রীমঙ্গলে তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই চলতি শীত মৌসুমে দ্বিতীয়বার রেকর্ড করা শ্রীমঙ্গলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সোমবার ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতের পাশাপাশি শ্রীমঙ্গলে চলছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। যদিও দুপুরে রোদের তীব্রতা থাকে, কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতেই শীত ধীরে ধীরে তীব্রতর হতে থাকে। এর প্রভাব থাকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত।
তিনি আরো বলেন, গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। সেদিনের তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তারপর গত ২০ ডিসেম্বর সেই তাপমাত্রা আরো কমে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২১ ডিসেম্বর ৭ দশমিক ৬, ২২ ডিসেম্বর ১০ দশমিক ৫, ২৩ ডিসেম্বর ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৪ ডিসেম্বর ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৫ ডিসেম্বর ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৬ ডিসেম্বর ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২৭ ডিসেম্বর ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত এক সপ্তাহের ডাটা থেকে দেখা যায় তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমছে।
অপরদিকে, শীত বাড়ার সাথে সাথে শ্রীমঙ্গলে রাতের আঁধারে ঘুরে ঘুরে চা শ্রমিক, নৈশ প্রহরী ও অসহায় দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি। গত রোববার রাত ৯টার পর থেকে উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান, কালীঘাট চা বাগান, রামনগর মণিপুরী বস্তি, টিকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অসহায় শীতার্তদের মধ্যে তিনি শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুছ ছালেক, কালীঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মো. সেলিম আহমেদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এনাম হোসেন চৌধুরী মামুন, পৌর যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন শাহিন, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তালেব বাদশা, যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আমিন প্রমুখ।