মানুষ যা লাভ করেছে, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে সুন্দর স্বভাব। -আল হাদিস।
সামাজিক নিরাপত্তায় ১১ কোটি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ মার্চ ২০২১, ৩:৫১:৫৮ অপরাহ্ন

দেশের ১১ কোটি মানুষ পাচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর সুবিধা। এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলেই বিশ্বের ‘রোল মডেল’ হবে বাংলাদেশ- এমন মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের। বর্তমানে জিডিপি’র তিন দশমিক শূন্য এক শতাংশ ব্যয় হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে; উন্নত ও মধ্য আয়ের অনেক দেশের তুলনায় এই হার বেশি। বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে এই খাতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ১৭ হাজার সাতশ’ ১৫ কোটি টাকা। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কর্মসূচী বাস্তবায়নে, দারিদ্র হার নিয়ন্ত্রণ ও এসডিজির লক্ষ অর্জনে ভূমিকা রাখছে। শুধু বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলেই বিশ্ব দরবারে এটি অনুকরণীয় হবে।
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, বেশ কয়েকটি খাতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর ভাতা দেয়া হচ্ছে দেশের প্রায় ১১ কোটি মানুষকে। বিশেষ করে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও দুঃস্থদের মধ্যে বিনামূল্যে খাদ্য, টেস্টরিলিফসহ বেশ কিছু কর্মসূচীর সহায়তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এই ব্যাপারে বিশ্বব্যাংক বলেছে- বাংলাদেশে সুরক্ষা নেট কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য ও দুর্বলতা হ্রাসে অবদান রাখছে। তবে তাদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে যাদের আনা হচ্ছে তাদের বাছাই কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ করতে হবে। কারণ প্রকৃত অনেক ব্যক্তিই বাদ পড়ছেন এই কর্মসূচী থেকে। পাশাপাশি অনেকেই সুবিধা পাচ্ছেন, যারা এই কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতো নয়। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে- সরকারিভাবে ২৩টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একশ’ ৪৩টি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচী পরিচালিত হলেও সমন্বয় ও মনিটরিংয়ের অভাবে কাক্সিক্ষত সুফল আসছে না। [কর্মসূচী বাস্তবায়নে দুর্নীতি বিশেষ করে উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া সঠিক না হওয়ার কারণে অনেকেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীগুলোতে শুরু থেকে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে। সরকারের একটি প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীগুলোতে ৪৬ শতাংশই অযোগ্য ব্যক্তি ভাতা নিচ্ছে।]
নানা কারণে সরকারের একটি যুগান্তকারী কর্মসূচীর অগ্রগতি হচ্ছে না সাবলীলভাবে। জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় নিয়ে আসার দিক দিয়ে শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে একটি রোল মডেল হিসেবেই বিবেচিত হবে।