সিলেটের ৫ ব্যবসায়ী সিআইপি নির্বাচিত

অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি

স্টাফ রিপোর্টারঃ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখায় সিলেটের ৫ ব্যবসায়ীকে সিআইপি (কমার্শিয়াল ইম্পরটেন্ট পার্সন) মনোনীত করেছে সরকার। গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে সিআইপি কার্ড তুলে দেয়া হয়। নির্বাচিত সিআইপিরা হলেন, আল-হারামাইন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এনআরবি ব্যাংক লিঃ এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির, সীমার্ক গ্রুপের পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী কামাল আহমেদ ও বিলাল আহমেদ এবং প্রিমিয়াম ফিস এন্ড এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান কল্লোল আহমদ ও তার স্ত্রী মারুফা আহমেদ।
জানা গেছে, গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসিরের হাতে সিআইপি কার্ড, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেন। ২০১৮ সালে বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী ক্যাটাগরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এনআরবি ব্যাংক লিঃ-এর চেয়ারম্যান আল-হারামাইন পারফিউমস গ্রুপ অব কোম্পানিজ এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির সিআইপি নির্বাচিত হন। বিয়ানীবাজারের কৃতি সন্তান মাহতাবুর নাসির ইতোপূর্বে কয়েকবার সিআইপি নির্বাচিত হন। কোন ধরনের ব্যাংক ঋণ ছাড়াই তিনি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তার আল-হারামাইন পারফিউমস যুক্তরাজ্য, মধ্যপাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজস্ব শোরুমে বিক্রি হয়। এছাড়াও বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও করা হচ্ছে।
বৈধ পথে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখায় সীমার্ক গ্রুপের পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী কামাল আহমেদ ও বিলাল আহমেদকে সিআইপি মনোনীত করা হয়েছে। গত বুধবার রাজধানীতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাদের পক্ষে সীমার্কের কর্মকর্তারা সিআইপি কার্ড গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি’র কাছ থেকে কামাল আহমদের পক্ষে সিমার্ক গ্রুপের কর্মকর্তা ইদ্রিস আহমদ ও বিলাল আহমদের পক্ষে সীমার্ক গ্রুপের কর্মকর্তা জুনায়েদ আহমদ সিআইপি কার্ড, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন। এর আগে সীমার্ক (বিডি) লিঃ রপ্তানী কার্যক্রমের জন্যে বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন। ২০০২-২০০৩, ২০০৬-২০০৭, ২০০৯-২০১০, ২০১৫-২০১৬ ও ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের জন্যে স্বর্ণ পদক, ২০০৫–২০০৬ ২০১১-২০১২, ২০১২-২০১৩, ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরের জন্যে রৌপ্য পদক লাভ করে। মৎস্য জাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ সীমার্ক (বিডি) লিঃ ২০০৪ ও ২০১০ সালে জাতীয় মৎস্য পক্ষ পুরস্কার ও স্বর্ণ পদক লাভ করে। সীমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল আহমেদ ওবিই বিভিন্ন সময়ে সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন। সিআইপি নির্বাচিত কামাল আহমেদ ও বিলাল আহমেদ হচ্ছেন ইকবাল আহমেদ ওবিই’র সহোদর। তারা নগরীর চৌহাট্টার মানরু শপিং সিটির কর্ণধার।
সীমার্ক (বিডি) লিমিটেড ও ইবকো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সীমার্ক গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান। সীমার্ক (বিডি) লিমিটেড সম্পূর্ণ ব্রিটিশ অর্থায়নে ২০০০ সালে বাংলাদেশে এর কার্যক্রম শুরু করে। ২০০৫ সালে ইবকো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বাংলাদেশে এর উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করে। এই উভয় প্রতিষ্ঠানের রপ্তানিকৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুপরিচিত। সীমার্ক গ্রুপ ২০০১ সালে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু করে যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশ সমূহ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য ও অধুনালুপ্ত সৌভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ সমূহের হিমায়িত চিংড়ি, মৎস্য ও খাদ্য পণ্য রপ্তানি করে আসছে।
এদিকে, একই ক্যাটাগরিতে শহরতলীর ঘোপাল এলাকার প্রিমিয়াম ফিস এন্ড এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান, গোলাপগঞ্জের সন্তান কল্লোল আহমদ ও তার স্ত্রী মারুফা আহমদকে ও সিআইপি মনোনীত করা হয়েছে। গত বুধবার এই ব্যবসায়ী দম্পতির হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি সিআইপি কার্ড তুলে দেন।