সুনামগঞ্জে জমে উঠেছে প্রচারণা

শাহজাহান চৌধুরী, সুনামগঞ্জ থেকে :
জমে উঠেছে সুনামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে প্রচার ও প্রচারণা। দ্বিতীয় ধাপে এ পৌরসভায় ভোটাররা ভোট দেবেন বাংলার চিরায়ত পদ্ধতি ব্যালটের মাধ্যমে। আগামী ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে তারা নির্বাচিত করবেন। এ পৌরসভায় ভোটার রয়েছেন ৪৭ হাজার ১৫ জন। এর মধ্যে ২৩ হাজার ২৩৮ জন পুরুষ ও ২৩ হাজার ৭৭৭ জন নারী।
প্রাচীন এ পৌরসভার এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ প্রার্থী। সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র নাদের বখত ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শেদ আলম ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মনোনীত প্রার্থী রহমত উল্লাহ ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নাদের বখত তার পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভা আরও জনবান্ধব করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। বিএনপি প্রার্থী মুর্শেদ তরুণ হওয়ায় তরুণকর্মীদের নিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন পৌরবাসীর দ্বারে দ্বারে।
মেয়র পদটি দখলে রাখতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন দলের নেতা-কমীরা। শুধু স্থানীয় নেতা-কর্মীরা নয়, প্রচারণায় যোগ দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য আজিজুস সামাদ ডন। তিনি মুক্তিযোদ্ধার ও সুশীল সমাজের লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করে ‘নৌকা’ প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। অপরদিকে, বিএনপিও বসে নেই। কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচারণায় অংশ না নিলেও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ সংগঠনটির অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পাড়া-মহল্লায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের দাবি, সুষ্ঠু ভোট হলে ‘ধানের শীষের’ জয় হবে এবার।
এ পৌরসভার সংরক্ষিত ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারসহ সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার্থে তাদের নির্বাচনী ওয়ার্ডে মাইকে প্রচারণা থেকে বিরত রয়েছেন। কাউন্সিলর প্রার্থীরা লিফলেট নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
ঐতিহ্যবাহী এ পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ জন। তারা হলেন, পিয়ারা বেগম (আনারস), শিরিনা আক্তার (চশমা) ও বর্তমান কাউন্সিলর সুজাতা রানী রায় (জবাফুল)। ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন। তারা হলেন, অর্চনা চক্রবর্তী (জবাফুল), চাঁদনী আক্তার (অটোরিক্সা), মাহীন চৌধুরী (টেলিফোন), মনোয়ারা আলম বন্যা (বলপেন), রিনা রহমান (চশমা), শেলী চৌহান ময়না (হারমোনিয়াম) ও সামিনা চৌধুরী (আনারস)। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ জন। তারা হলেন, নাজমা আক্তার (জবাফুল), ময়না বিবি (চশমা) ও সৈয়দা জাহানারা বেগম (আনারস)।
১ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন। তারা হলেন, বর্তমান কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেল (পাঞ্জাবি), আবুল হাসনাত মো. কাওছার (উটপাখি), আব্দুস সাত্তার মো. মামুন (টেবিল ল্যাম্প) ও সুমন মিয়া (ডালিম)। ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন । তারা হলেন, বর্তমান কাউন্সিলর সৈয়দ ইয়াছিনুর রশিদ (পাঞ্জাবি), মঈন উদ্দিন আহমদ রিপন (পানির বোতল), মো. আব্দুস সাত্তার (উটপাখি), মো. মুজাহিদুল ইসলাম (ব্ল্যাক বোর্ড), রাজ কুমার বর্মন (ডালিম) ও শাহরিয়ার আহমদ রিগ্যান (টেবিল ল্যাম্প)। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন। তারা হলেন, ফজর নুর (ডালিম), মো. জাহিদুল ইসলাম তহুর (উটপাখি), মো. মোতাহের আলী (পাঞ্জাবি) ও মো. মোশাররফ হোসেন (পানির বোতল)। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন। তারা হলেন, চঞ্চল কুমার লোহ (পাঞ্জাবি), বোরহান উদ্দিন (পানির বোতল), মিন্টু চৌধুরী (উটপাখি) ও সাদিকুর রহমান খান (ডালিম)। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন । তারা হলেন-আবু বক্কর সিদ্দিক (ব্রিজ), আলী আছহাব আহমদ (পাঞ্জাবি), এমদাদুল হক (ডালিম), গণেশ রায় (ব্ল্যাক বোর্ড), গোলাম সাবেরীন (টেবিল ল্যাম্প), নীহার রঞ্জন দাস (গাজর), বিমান কান্তি রায় (পানির বোতল), মো. সামছুল ইসলাম পারভেজ (উটপাখি) ও মো. সাহিন মিয়া (টিউব লাইট)। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ জন। তারা হলেন, আবাবিল নূর (ডালিম), মো. মনির উদ্দিন (পাঞ্জাবি) ও রিগান আহমদ (উটপাখি)। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন। তারা হলেন, আহসান জামিল আনাস (ডালিম), জুয়েল আহমদ (উটপাখি), মোছাদ্দেক হুসেন বাচ্চু (পানির বোতল), মো. এনামুল হক (পাঞ্জাবি) ও মো. সামছুজ্জামান স্বপন (টেবিল ল্যাম্প)। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন। তারা হলেন, আহমদ নুর (উটপাখি), মো. নবী হোসেন পীর (পাঞ্জাবি) ও মো. সফিক মিয়া (ডালিম)। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, এম. তাজুল ইসলাম তারেক (উটপাখি), নজরুল ইসলাম (ব্রিজ), মো. এনামুল হক (টিউব লাইট), মো. কদর আলী (পাঞ্জাবি), মো. খেলু মিয়া (পানির বোতল), মো. গোলাম আহমদ (গাজর), মো. মনফর আলী (ফাইল কেবিনেট), মো. মহিন উদ্দিন (স্ক্রু ড্রাইভার), মো. রফিকুল ইসলাম রবিন (ডালিম), মো. রুকন উদ্দিন (ব্ল্যাক বোর্ড) ও সাইফুর রহমান (টেবিল ল্যাম্প)।