হারিয়ে যাচ্ছে গরু ও মহিষের গাড়ি

আবু সালেহ আহমদ
বর্তমান প্রজন্মের সন্তানেরা গরু মহিষের গাড়ির সঙ্গে পরিচিত না হলেও গ্রামীণ কৃষকের কাছে প্রায় দুই যুগ আগেও ছিল এটা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবহন। ৯০ দশকেও দেখেছি ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা এই গাড়িতে লাফিয়ে লাফিয়ে উঠে অনেক আনন্দ উপভোগ করতো। যোগাযোগের উন্নতি সাধিত হলে, আধুনিক ও ইঞ্জিন চালিত বিভিন্ন ধরণের পরিবহন এলে এখন গরুর হাল চাষ ও গরু মহিষের গাড়ির প্রচলন দেখা যায়না।
কয়েক বৎসর আগেও গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ গাড়ির ব্যাপক ব্যবহার ছিল। দুটি বড় গরুকে জোয়ালের সাথে বেধে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি এসব গাড়ি দিয়ে ধান বোঝাই করে মাঠ থেকে নিয়ে আসা হত বাড়িতে। বড় বড় গোপাট বেয়ে আসা গাড়ির কেঁত কেঁত শব্দ বা আওয়াজে বৈশাখ-অগ্রহায়ণ মাস জুড়ে গ্রাম বা পাড়াগুলো থাকতো মুখরিত ।
সাধারণত ছোট্ট ছেলেটি থাকতো গরুর গাড়ির চালক।তখন অনেক সময় চালক গাইতো, আরে, ও কি গাড়িয়াল ভাই, কত রব আমি পন্থের দিকে ….. গানটিও ছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে ।
গাড়ি যখন বোঝাই করে ১৮/২০মণ ধান নিয়ে মাঠ থেকে আসা হত, গরু বা মহিষ দুটি চলতে না চাইলে , বাঁশের চিকন (ছিংলা) বেত দিয়ে আঘাত করার দৃশ্য আজো ভুলা যায় না।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, খ্রিস্টের জন্মের ৩১০ বৎসর পূর্বে ব্রোঞ্চ যুগেও গরুর গাড়ির প্রচলনের ইতিহাস পাওয়া যায়। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫/১৬ শতকে সিন্ধু অববাহিকা ও ভারত উপমহাদেশে গরুর গাড়ির প্রচলন শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়।
হবিগঞ্জের বিশিষ্ট লেখক দেওয়ান মাসুদুর রহমান চৌধুরী জানান, অতীতে অনেক বিয়ে শাদীর (বরযাত্রী পরিবহন) কাজ করা হয়েছে গরুর গাড়ি দিয়ে। কয়েক বৎসর আগেও কৃষিকাজের একমাত্র বাহন ছিল গরুর গাড়ি। তখন এই গাড়ি দিয়ে জৈব সার, গোবর সার, ধানবীজ, গরুর খাবার, লাঙ্গল, জোয়াল মই পরিবহন করা হত।
বিশিষ্ট সাংবাদিক মোশাররফ হোসাইন জানান,” আজমিরিগঞ্জ বাজার ছিল প্রসিদ্ধ, এই বাজার থেকে পাইকারী দরে প্রচুর খাদ্য সামগ্রি অতীতে মহিযের গাড়ি দিয়ে আনা হত বানিয়াচং এর বাজারগুলোতে। ৮০ দশকের শেষ দিকেও যা অব্যহত ছিল।