জগন্নাথপুরের ‘ঝূকিপূর্ণ’ ডাকবাংলো সেতুতে তিনদিনে ১৫ দুর্ঘটনা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জুলাই ২০২৫, ৩:১৫:২৪ অপরাহ্ন
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের নলজুর নদের ওপর ঝূঁকিপূর্ণ ডাকবাংলো সেতু যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঝূঁকিপূর্ণ সেতুর পাটাতন ফাঁক হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ওই ফাঁকে যানবাহনের চাকা আটকে ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেকে ছিটকে পড়ছেন নদীতে। আবার রেলিংয়ের সঙ্গে আঘাত পেয়ে রক্ত ঝরছে। গত তিন দিনে কমপক্ষে ১৫টি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় দুই যুবক সমাজকর্মী অরূপ সরকার ও সুহেল মিয়ার উদ্যাগে সেতুর পাটাতনের ফাঁক বন্ধ করায় সাময়িক দুর্ঘটনা থেকে লোকজন রক্ষা পান।
প্রতিনিয়ত এমন দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ডাকবাংলো সেতু সংলগ্ন তাছিম চুলা ঘরের মালিক ব্যবসায়ী সুহানুর রহমান সুহেল জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৪/৫টি দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা টমটমের চাকা পাটাতনের ফাঁকে ঢুকে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে অবগত করলেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করেন। নিরুপায় হয়ে নিজেদের উদ্যোগে ফাঁক বন্ধের চেষ্টা করি। কিন্তু এক দুই দিন পর আবার ফাঁক হয়ে যায়। সম্প্রতি সেতুর রেলিং ভেঙে যায়। ঝুঁকি এড়াতে বাঁশ দিয়ে রেলিং দেয়া হয়।
সেতু সংলগ্ন ওষুধের দোকানের মালিক রিংকু আদিত্য বলেন, প্রতিদিন ওই সেতুতে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে লোকজন আমাদের এখানে এলে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠাই।
এলাকাবাসী ও এলজিইডি সূত্র জানায়, ১৯৮৮ সালে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের টাকায় একই নদীর ওপর ডাক বাংলো সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৯৬ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের নির্দেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সেতুর কাজ শেষ করে। ২০২২ সালে ১৭ মার্চ নদী খনন কালে সেতুর পিলারের কাছ থেকে খনন যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার সময় সেতু দেবে যায়। এরপর সেতু দিয়ে ১১ মাস যান চলাচল বন্ধ থাকে। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ মান্নানের অনুরোধে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে পাটাতন এনে এলজিইডি ও জগন্নাথপুর পৌরসভার উদ্যোগে সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে স্টিলের পাটাতন বসিয়ে সেতুটি চালু করা হয়।
অপরদিকে, ১৯৮৭ সালে উপজেলার নলজুর নদীর ওপর ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খাদ্য গুদামের সামনে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। বিগত সরকারের আমলে পুরনো এ সেতুটি ভেঙ্গে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান রাজধানীর হাতিরঝিলের আদলে ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ আর্চ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তিন দফা সময় শেষ হলেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ডাকবাংলো সেতুর জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করবে। বর্ষার পর সেতুর কাজ শুরু হবে। পাটাতন ফাঁকের বিষয়টি সমাধানের উদ্যাগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গুদামের পাশের সেতুর কাজ চলমান রয়েছে। অক্টোবর মাসে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।



