গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জুলাই ২০২৫, ২:৪৪:০৩ অপরাহ্ন
আনাস হাবিব কলিন্স :
গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষায় সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। গতকাল প্রকাশিত সিলেট বোর্ডের ফলাফলে এ চিত্র ফুটে উঠেছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এবার গণিতে পাস করেছে ৮৩ দশমিক ১৭ ভাগ শিক্ষার্থী। পদার্থ বিজ্ঞানে পাস করেছে এর চেয়ে কম ৮৩ দশমিক ৬ ভাগ শিক্ষার্থী। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষায় বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে শিক্ষার্থী মেলে না পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে মান সম্মত শিক্ষকেরও অভাব রয়েছে। এ থেকে উত্তরণে বোর্ড কর্তৃপক্ষ, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক ও শিক্ষকমন্ডলীর আরো সচেতন হবার পরামর্শ তাদের। শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী প্রবণতা, পড়ালেখায় অমনযোগিতা সেই সাথে সিলেট অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষকের অভাব রয়েছে বলেও শিক্ষাবিদদের অভিমত। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দেন তারা।
ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছর সিলেট বোর্ড সারা দেশের মধ্যে খারাপ ফলাফল করলেও গণিতে পাস করেছিল ৮৯ দশমিক ২২ ভাগ। সার্বিকভাবে সিলেট বোর্ড এবার মোটামুটি ভালো করলেও গণিতে পাশের হার কমেছে। পদার্থ বিজ্ঞানে গত বছর ৯৩ দশমিক ৬১ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার পাস করেছে ৮৩ দশমিক ০৬ ভাগ। গত বছর ইংরেজিতে ৯৭ দশমিক ৪৮ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার ইংরেজিতেও পাসের হার কমেছে। এবারের পাসের হার ৯৫ দশমিক ৩৩ ভাগ। রসায়নে এবার পাস করে ৯৩ দশমিক ৫১ ভাগ। অথচ, গতবারের পাসের হার ছিল ৯৮ দশমিক ৭৩ ভাগ। তবে, জীব বিজ্ঞানে এবার পাসের হার গতবারের চেয়ে বেড়েছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রো ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সাজেদুল করিম বলেন, পাসের হারের দিক দিয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ড খুব একটা খারাপ করেনি। তবে, মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থীর তুলনায় বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী কম হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ ব্যাপারে বোর্ড কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যালয় সংশ্লিদের আরো যত্নশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব প্রফেসর কবির আহমদ বলেন, মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাবে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কাক্সিক্ষত ফলাফল অর্জিত হচ্ছে না। এবারের ফলাফল খুব একটা খারাপ নয় বলে তিনিও উল্লেখ করেন। শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ এক্সামিনেশন ডেভেলপমেন্ট ইউনিট (বেডো’র) প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা জরুরি বলেও তিনি মত দেন।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর অরুণ চন্দ্র পাল বলেন, সিলেট বোর্ড পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে বিজ্ঞান বিভাগ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী কম হওয়া। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী বেশি। তিনি জানান, বোর্ডের দায়িত্বে থাকাকালে এসব ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে জোরালো কার্যক্রম চালু করেছিলেন। বোর্ডের বর্তমান দায়িত্বশীলদের এ ব্যাপারে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি। ।
ফলাফল প্রসঙ্গে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, গণিত ও ইংরেজিতে অনেক শিক্ষার্থী কৃতকার্য হতে না পারায় সিলেটে পাসের হার কমেছে। যে সকল বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো উত্তরণে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বোর্ড চেয়ারম্যান স্বীকার করেন, দুর্গম হাওরাঞ্চল ও গ্রামের অনেক প্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন গণিত ও ইংরেজি শিক্ষকের অভাব রয়েছে। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী প্রবণতা, অমনযোগিতা, এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবও খারাপ ফলাফলের অন্যতম কারণ। তবে, সব দিক বিবেচনায় ফলাফলে মোটামুটি সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল প্রকাশিত এসএসসির ফলাফলে ১ লাখ ২ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭০ হাজার ৯১ জন। পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।




