দোয়ারাবাজারে বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, ভোগান্তিতে ৫ গ্রামবাসী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জুলাই ২০২৫, ২:১১:৩৪ অপরাহ্ন
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা: দোয়ারাবাজারে একটিমাত্র ব্রিজের অভাবে চরম ভোগান্তিতে আছেন উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বড়কাটাসহ ৫ গ্রামবাসী। আদিকাল থেকেই নিত্যদিনের সাথী বড়কাটা গ্রামের নড়বড়ে ওই বাঁশের সাঁকো যা ৫ গ্রামবাসীর পারাপারের একমাত্র ভরসা। জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস শুধু শুধু লালফিতায় বন্দি থাকায় জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রতি বছর সেখানে অস্থায়ীভাবে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন এলাকাবাসী। আর প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীসহ বিভিন্ন পেশার বিপুলসংখ্যক জনতা।
বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৩ হাজার মানুষের আবাসস্থল কথিত বড়কাটা গ্রামেই রয়েছে দু’টি মসজিদ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া, পার্শ্ববর্তী বৈঠাখাই, এরুয়াখাই, তিলুরাকান্দি ও চকবাজার গ্রামের হাজারো মানুষ বছরজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ নড়বড়ে দীর্ঘ ওই বাঁশের সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করেন প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত স্রোত বা পানিবৃদ্ধিতে সাঁকো তলিয়ে কিংবা হেলে পড়লে শিক্ষার্থী, রোগী, শিশু ও বৃদ্ধদের পারাপারে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে প্রায়ই ।
বড়কাটা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হেকিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে পাকা সেতুর দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো ফল হয়নি। প্রতিবার নির্বাচনের আগে শুধু আশ্বাস পাই, পরে আর কেউ ফিরেও তাকায় না।
শিক্ষার্থী রিমা আক্তার বলেন, সাঁকোটা খুব সরু। ভারসাম্য হারালেই পানিতে পড়ে যাওয়ার ভয়। বৃষ্টি-বাদলের দিনে সাঁকো পিচ্ছিল হলে তখন স্কুলে যাওয়া আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
বড়কাটা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সৈয়দ আহমেদ বলেন, ওই অঞ্চলের জন্য এটি এক চরম অবিচার। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছে সবাই। আমরা বারবার দাবি জানিয়েছি, মানববন্ধন করেছি। কিন্তু এসব দেখার যেন কেউ নেই।
বৈঠাখাই বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী জামির হোসেন বলেন, রোগী নিয়ে সাঁকো পার হতে গেলে খুবই বিপদ। বয়স্ক রোগী বা লোকজন স্ট্রেচার নিয়ে আসা-যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এখানে ব্রিজ না থাকায় আমাদের ব্যবসা, চিকিৎসা, সব কিছুতেই সমস্যা হচ্ছে।
বড়কাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস শহীদ বলেন, সেতু না থাকায় অনেক ছাত্র-ছাত্রী বর্ষা মৌসুমে স্কুলে আসতে পারে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলাজুড়ে অনেক উন্নয়ন হলেও এখানে একটি ব্রিজের খুব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বারবার আশ্বাস দিলেও সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক জহিরুল ইসলাম বলেন, এখানে একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আমি আশাবাদী খুব শিগগির সেটা বাস্তবায়ন হবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরূপ রতন সিংহ জানান, এবিষয়ে আমার জানা নেই। আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করব।




