মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সদর দপ্তর তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাংলো সংরক্ষণের উদ্যোগ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জুলাই ২০২৫, ৭:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সদর দপ্তর তেলিয়াপাড়া বাগানের বাংলোকে সংরক্ষণের লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়নে গতকাল সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক এই স্থানটিকে যথাযথ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষনের জন্য হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ি স্থানীয় সকল অংশীদারদের সাথে মাধপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর কার্যালয়ে এই সভা আয়োজন করেন। সভায় উপস্থিত সকলে তেলিয়াপাড়া বাগানের বাংলোকে দ্রুত সংরক্ষণের ব্যাপারে মতামত ব্যক্ত করেন। সকলে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র যুদ্ধের পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই স্থানটিকে সংরক্ষণ করে জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলে একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জাতীর সামনে উপস্থাপনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভার শুরুতেই বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল মোহাম্মদ আবদুস সালাম বীর প্রতীক ডাক বাংলোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল এখানে সভা করে সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, এখান থেকেই বিভিন্ন সেক্টর গঠন এবং সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়। এই সভায় উপস্থিত সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ভারতীয় সরকারের সাথে আলোচনার জন্য একটি নির্বাসিত সরকার গঠনের জন্য বেসামরিক রাজনৈতিক দলগুলিকে অনুরোধ করেন। জেনারেল ওসমানী, মেজর জেনারেল আব্দুর রবসহ সকল ঊর্ধ্বতন বিদ্রোহী অফিসার এতে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাধীনতার পর থেকে সকল সেক্টর কমান্ডার, বিশেষ করে প্রয়াত মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ বীর উত্তম, ‘সশস্ত্র বাহিনীর প্রথম সদর দপ্তর’ হিসেবে ঐতিহাসিক চা বাগানের বাংলোটি সংরক্ষণের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক অবদানকে অবমূল্যায়ন করে এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস উপেক্ষা করে অতীত সরকার এই স্থানটিকে সংরক্ষনের অনুমতি দেয়নি, যদিও সম্পত্তিটি এনটিসি (ন্যাশনাল টি কোম্পানি) এর মালিকানাধীন, যার প্রধান অংশিদার সরকার। তিনি দ্রুত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সকলেই এক বাক্যে তার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ব্যাপরে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.জাহিদ বিন কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন কর্নেল মোহাম্মদ আবদুস সালাম বীর প্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কাছন আলী, ক্যাপ্টেন ইমাম হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাভেদ তালহা, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অপূর্ব শর্মা, মাধপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন, শাহজাহানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.পারভেজ চৌধুরী, মাধবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন আল রনি, ফিল্ড সুপারভাইজার ইকবাল হোসেন ভূইয়া, সার্ভেয়ার জুনাইদ আহমদ, মো. ফরিদ হোসেন প্রমুখ।




