শাল্লা উপজেলায় চুরির মহোৎসব: আইনজীবী শিশির মনিরের জরুরি প্রতিকার চেয়ে চিঠি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জুলাই ২০২৫, ৫:২৬:০৭ অপরাহ্ন
দিরাই প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরির ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গোটা উপজেলাজুড়ে ধারাবাহিক ও সুসংগঠিতভাবে ঘটে যাওয়া এসব অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে শীর্ষ প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
তিনি মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাবর পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ধারাবাহিক চুরির তথ্য তুলে ধরে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চিঠিতে বলা হয়, “এই চুরি কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং তা পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।”
প্রকাশিত চিঠিতে উল্লেখিত চুরির কিছু ঘটনা নিম্নরূপ: ২৯ মে: ছোট আব্দা গ্রামের ভুলু দাসের বাড়ি থেকে কানের দুল ও ২টি গরু চুরি,২৬ মে: গোয়ানী গ্রামের লোকেশ দাসের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫ লক্ষ টাকা আদায় (২.৫ লক্ষ উদ্ধার),১ জুন: সেননগর, শ্রীহাইলের রেজেনা আক্তারের বাড়ি থেকে ২টি গরু চুরি,২ জুলাই: আনন্দপুর বাজারের স্বর্ণের দোকান থেকে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি,৮ জুলাই: কাশিপুরের মনির মিয়ার ৪টি গরু চুরি,৯ জুলাই: সাবেক চেয়ারম্যান জামান চৌধুরীর বাড়ি থেকে নগদ ৬ লক্ষ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি।সম্প্রতি রৌয়া বাগের হাটির করুণা দাসের ১৬টি হাঁস, কার্তিকপুরের নৌকা, বিভিন্ন গ্রামের মোবাইল, টাকা ও পানির পাম্প চুরি। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিশির মনির অভিযোগ করেন, “টুকচানপুর, প্রতাপপুর, আনন্দপুর, মেদা, মুছাপুর, সুদন খল্লী, হরিপুর, মামুদনগরসহ প্রায় প্রতিটি গ্রাম চুরি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।”
তিনি প্রশাসনের কাছে সুপারিশে তুলে ধরেন, প্রতিটি চুরির ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, নিয়মিত রাত্রীকালীন পুলিশি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, প্রয়োজনে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, গ্রাম পুলিশ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও সক্রিয়করণ, ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি সচেতনতা সভা আয়োজন,থানায় দায়েরকৃত চুরির অভিযোগসমূহ মনিটরিং ও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ।
চিঠির শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন,জননিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় এখনই জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এলাকাবাসীর মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে এবং অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বলছেন, “এই চিঠি আমাদের এলাকার জন্য সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। প্রশাসন যদি এখনই না জাগে, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।




