গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করুন: বাসদ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জুলাই ২০২৫, ৯:০০:৪১ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সিলেট জেলা শাখার ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় কদমতলী মুক্তিযোদ্ধা পয়েন্টে পথসভা ও গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিলেট জেলা বাসদ আহবায়ক আবু জাফরের সভাপতিত্বে ও জেলা সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পালের সঞ্চালনায় পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন সাবেক আহবায়ক উজ্জ্বল রায়, জেলা সদস্য জুবায়ের আহমদ চৌধুরী সুমন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট এর মুখলেছুর রহমান, সংগ্রাম পরিষদের মনজুর আহমদ, কাওছার আহমেদ, এরশাদ মিয়া, মামুনুর রশিদ জাহেদ, রনি আহমদ প্রমুখ।
পথসভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এক অপ্রতিরোধ্য লড়াই আর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এক স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল এই জুলাই মাসে। সে সময় মানুষ স্লোগান তুলেছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, লুটাপাট-দূর্নীতি, গুম-খুন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, কর্তৃত্ববাদ ও স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে। মানুষ চেয়েছিল এসব থেকে মুক্ত একটা সমতা ও ন্যায় ভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজ। কিন্তু বছর না পেরোতেই মানুষের সেই আশা ক্রমশ: ফিকে হয়ে আসছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর থেকেই আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে সারা দেশে মব সন্ত্রাস সংঘটিত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই মবকে নিয়ন্ত্রণ এর চেষ্টা না করে বরং কিছু ক্ষেত্রে উসকানোর ঘটনাও দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। এই মবের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে আছে। সরকারের প্রেস সচিব যখন বলেন, ‘এই মব বাস্তবে একটা প্রেশার গ্রুপ’ এতে গোটা জাতির তাজ্জব হওয়া ছাড়া আর কোন ভিন্ন পথ থাকে না। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রণী শক্তি ছিলেন এদেশের নারীরা। অথচ সেই নারীদের উপরে আক্রমণ নেমে এসেছে সবার আগে। উগ্র ধর্মীয় ফ্যাসিস্ট শক্তি সারা দেশেই নারীদের স্বাধীন চলাফেরার উপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে, হামলা হয়েছে আদিবাসীদের উপর ও মাজারে, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে। এসকল পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধকে হেয় করা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ধ্বংস করার ঘটনা ঘটে চলেছে। মুক্তিযুদ্ধ এই জাতির সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী যুদ্ধাপরাধী শক্তিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হচ্ছে, জুলাই অভ্যুত্থানের আন্দোলনের চেতনার সাথে যা সাংঘর্ষিক।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে কিন্তু যে সকল বিষয় নিয়ে সকলের ঐকমত্য আছে সে সকল সংস্কারকে এগিয়ে নিতে সরকার গড়িমসি করছে। আবার ঐকমত্য কমিশনে যে আলোচনা হচ্ছে সেখানে শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষের কিংবা আদিবাসী, দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা নেই। অর্থাৎ শুধু রাষ্ট্রের উপরিকাঠামোতে পরিবর্তন করে কোন কার্যকর পরিবর্তন আনা যাবে না।একই সাথে পূর্ববর্তী হাসিনা সরকারের মতো এই সরকারের নানা কুশীলবদের বিরুদ্ধেও শত শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ আসছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বিশেষ রাজনৈতিক দলকে তোষণ ইত্যাদি নানা কিছু ঘটিয়ে এরা জুলাই অভ্যুত্থানের মূল স্পিরিটের বিপরীতে হাঁটা শুরু করেছেন বলে মন্তব্য করেন নেতৃবৃন্দ।
পথসভায় নেতৃবৃন্দ, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা,মব সন্ত্রাস -নারী নির্যাতন -সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন বন্ধের আহবান জানান। বক্তারা সিলেট নগরীতে ব্যাটারি চালিত যানবাহনের হয়রানি বন্ধের আহবান জানান। বিজ্ঞপ্তি




