সিলেটে জুলাই পদযাত্রা
‘ঢাকা শহীদ মিনারে সমাবেশ থেকে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ’
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জুলাই ২০২৫, ৯:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: দেশব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সিলেটে ‘জুলাই পদযাত্রা’ করেছে নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সিলেট নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্ট থেকে এনসিপির পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রা শেষে সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপি নেতারা। এতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ‘ঢাকা শহীদ মিনারে সমাবেশ থেকে জুলাই ঘোষণা পত্র ও জুলাই সনদ আমরা আদায় করে নেবো’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় এই বাংলার পক্ষে দাঁড়িয়েছে সিলেট। কিন্তু তখন আমরা আমাদের পূর্ণ সিলেট পাইনি। আসামের সাথে সিলেটের বহু অংশ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এই পূর্ববঙ্গকে ঠকানো হয়েছে সেই বৃটিশ আমল থেকে। পাকিস্তান আমলে এবং আওয়ামী লীগ আমলেও সিলেটকে ঠকানো হয়েছে। সিলেটে গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে ঠকানো হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, সিলেট বাংলাদেশের আত্মপরিচয়। বহু জাতিগোষ্টির বসবাস এখানে। ১৯৪১, ১৯৭১ এমনকি জুলাই অভ্যত্থানে সিলেট বারবার রুখে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশ বহু সংস্কতির বহু ভাষার দেশ হবে- সিলেট তার অন্যতম প্রতীক।

জুলাই অভ্যুত্থানে সিলেটের প্রবাসীদের অবদান স্বীকার করে তিনি বলেন, সিলেটের প্রবাসীরা গণঅভ্যুত্থানে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা তাদের ভুলবো না। এই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই প্রবাসীরা বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণের অংশ হবে।
এদিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহসহ দলটির বেশ কয়েকজন কেন্দ্রিয় নেতা এই পদযাত্রায় অংশ নেন। এছাড়া দলটির সিলেটের হাজারও নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। পদযাত্রায় ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’. ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা’ এমন নানা শ্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সিলেটের রাজপথ।

এর আগে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট পৌঁছে জুলাই আন্দোলনে শহীদ রুদ্রের ক্যাম্পাস শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকে ‘শহীদ রুদ্র তোরণ‘ এ শ্রদ্ধা জানান গত জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী প্রধান সমন্বয়ক ও এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করেই এনসিপি উঠে এসেছে। আমরা আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ করে এসেছি। এনসিপি কোনো চাঁদাবাজ কিংবা টেন্ডারবাজ দলের নাম নয়। সংকট থেকে, সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়েই এনসিপি উঠে এসেছে।”

হাসনাত আরও বলেন, “আমাদের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী লেখক ও নেতারা এখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের প্রতিহত করতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে।”
সিলেটে এনসিপিকে শক্তিশালী করতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “অর্পিতা আপা, এহতেশাম ভাই, জুনায়েদ ভাইয়ের নেতৃত্বে আপনারা এনসিপির হাতকে শক্তিশালী করুন। আমরা আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—পরবর্তী বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ।”
সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ছাড়াও, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হক, যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, সিনিয়র মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, এনসিপির যুগ্ম সম্পাদক মর্তুজা সেলিম সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন। এনসিপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দেবর মধ্যে ব্যরিস্টার নূরুল হুদা জুনায়েদ, নাজিম উদ্দিন সাহানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।




