বিশেষজ্ঞরা বলছেন এতে করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা
ফুচকার দোকানে সয়লাব শাবি ক্যাম্পাস, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ জুলাই ২০২৫, ৫:৪৬:০৭ অপরাহ্ন
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করেছে ফুচকা ও চটপটির দোকান। শিক্ষার্থীদের আগ্রহকে পুঁজি করে প্রতিনিয়ত বিস্তৃত হচ্ছে এই অস্বাস্থ্যকর খাবারের বাজার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিগগিরই বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একাডেমিক ভবন ‘বি’-এর সামনে, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশে এবং শহীদ মিনার চত্বরে এসব অস্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীরা অনিয়ন্ত্রিতভাবে এসব দোকানে ভিড় করছে, যা একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।
স্বাস্থ্যবিদদের মতে, খোলা পরিবেশে ও অপরিচ্ছন্নভাবে প্রস্তুতকৃত ফুচকা ও চটপটি পেটের রোগ, হেপাটাইটিস, টাইফয়েডসহ নানা পানিবাহিত রোগের কারণ হতে পারে। এসব খাবারের মসলা ও পানি খোলা থাকে, যা সহজেই জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়। দীর্ঘমেয়াদে তা পাকস্থলীর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের অভাবও রয়েছে। ‘আধুনিক ফুড কোর্ট’ নামে যেসব দোকান রয়েছে, সেগুলোর খাবারের দাম সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে। যেমন, ‘টেস্টি ট্রিট’-এ একটি সিঙাড়ার দাম ২০ টাকা, যেখানে অতিরিক্ত ২০ টাকা যোগ করলেই এক বেলার খাবার পাওয়া যায়। আবার ক্যাম্পাসের বাইরে যেখানে এক গ্লাস আমের জুস ৩০ টাকায় পাওয়া যায়, সেখানে ভেতরে তা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আলম বলেন, “ফুচকা আমাদের অনেকেরই পছন্দের খাবার, কিন্তু সম্প্রতি দোকানের সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। ক্যাম্পাসের যেদিকেই তাকানো যায়, শুধু ফুচকার দোকান দেখা যায়। এতে আমরা বিরক্ত হলেও প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।”
তিনি আরও বলেন, “স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের দোকান, এমএফএস সেবা কিংবা ২৪ ঘণ্টার ফটোকপি ও প্রিন্টিং সেবার দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে– অপরিকল্পিত ও অস্বাস্থ্যকর ফুচকার দোকানের অনুমোদন না দিয়ে পরিকল্পিত ও নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা করা হোক।”
ফুচকার দখলে ক্যাম্পাস এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কেউ মজার ছলে বলছেন, “এটা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, যেন ফুচকা পার্ক!” অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকানগুলো বসার অনুমতি দেয়।
ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. অহিদুজ্জামান বলেন, “ফুচকা ও চটপটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরে থাকা এসব দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা হয়। সঠিক মনিটরিং না থাকায় ফুচকাওয়ালারা অনেক সময় অপরিষ্কার পানি ও বাসি খাবার ব্যবহার করেন।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে অধিকাংশ সময় ফুচকা তৈরি হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। পোকাযুক্ত ময়দা, অপরিষ্কার পানি এবং শ্রমিকদের অপরিচ্ছন্ন পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয় ফুচকা। এতে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পানি বাহিত রোগ, হেপাটাইটিস ও লিভারের জটিলতা দেখা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।”




