শান্তিগঞ্জের সাংহাই হাওরে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় মানুষের ঢল
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ আগস্ট ২০২৫, ৩:২৫:০৮ অপরাহ্ন
শহীদনূর আহমেদ, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে হয়ে গেল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে রঙবেরঙের নৌকা নিয়ে হাজির হন মালিকরা। জমজমাট এই আয়োজন দেখতে হাওরপাড়ে ভীড় করেন হাজারো দর্শনার্থী। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা।
বাদ্য আর সংগীতের তালে তালে নেচে গেয়ে নৌকাবাইচ মাতিয়ে তুলেন বাইচালরা। সেই সাথে তাল মিলিয়ে বৈঠার উঠানামা, রোমাঞ্চের ঢেউ তুলে বাইচ দেখতে আসা দর্শকদের মনে। গত শনিবার এমনই এক মনোমুগ্ধকর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের হাঁসকুঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন।
উপজেলার সাংহাই হাওরের হামোইয়া বিলে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ১০ টি বাহারি সাঁজের দৃষ্টিনন্দন নৌকা। তবে নৌকার ক্যাটারিগত কারণে মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ৮টি নৌকা। এর মধ্যে রয়েছে বীরবপন, বীরবাংলা, স্বপ্নের তরী-১ ও স্বপ্নের তরী-২ শাহ মোস্তফা, নগর পবন, গরীবের তরী, আয়্বূ শাহ তরী। বেলা ১২ টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে হয় নৌকাবাইচ।
প্রায় দেড় কিলোমিটার নৌকাবাইচে প্রতি নৌকায় শতাধিক বাইচাল (মাঝিমাল্লা) অংশ নেন। বাইচালের মনোবল বাড়িয়ে দিতে নৌকায় রয়েছে বাদ্যযন্ত্রসহ গায়েনদল। ঢোল আর লোকগানের তালে হাওরে সুরের মুর্চ্চনা তৈরী হয়। গানের তাল মিলিয়ে নৃত্য পরিবেশন করেন গায়কদল।
এই নৌকাবাইচ দেখতে হাওরের চারপাশে ডিঙ্গি, পাতাম, পানসীসহ বিভিন্ন রকমের নৌকা নিয়ে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন দেখে খুশি দর্শকরা।
সিলেট বিশ্বনাথ থেকে আসা দিলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন নৌকা দৌঁড় বেশি হতো। এখন এসব আয়োজন কমে গেছে। তাই নৌকাবাইচের কথা শুনে আর বসে থাকতে পারিনি।
সুনামগঞ্জ থেকে আসা ইকবাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পর নৌকাবাইচ দেখে খুব আনন্দ পেয়েছি। আমরা চাই এমন আয়োজনের ধারা অব্যাহত থাকুক।
নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজক যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবুল হোসেন বলেন, আমাদের বাপ চাচারা নৌকাবাইচ খেলতেন। এটি আমাদের গ্রাম বাংলার শত বছরের ঐতিহ্য। গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যের ধারা ধরে রাখতে আমার এই আয়োজন।
নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে হাঁসকুঁড়ি গ্রামের নৌকা স্বপ্নের তরী-২, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে স্বপ্নের তরী-১ এবং তৃতীয় হয় নগর পবন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপির সদস্য ফারুক আহমদ, বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন, নাদীর আহমদ, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, শান্তিগঞ্জ থানার ওসি আকরাম আলী প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা বলেন, নৌকাবাইচ গ্রাম বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ। আমরা চাই এমন আয়োজন আরও হোক। নৌকাবাইচ অব্যাহত রাখতে সকল ধরনের পৃষ্টপোষকতা দেয়ার কথা জানান এই কর্মকর্তা।




