সাক্ষাৎকারে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম
টিকেট বাজারে অস্থিরতারোধে ওটিএ’কে মনিটরিংয়ের আওতায় আনার তাগিদ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১০ আগস্ট ২০২৫, ২:১০:০২ অপরাহ্ন
মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম :
কম দামে টিকেট কাটার ক্ষেত্রে ফ্লাইট এক্সপার্টের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে সবার শিক্ষা নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশের খ্যাতিমান এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম। এখনো যেসব ওটিএ (অনলাইন ট্রাভেল এজেন্ট) নির্ধারিত কমিশন লেভেলের অতিরিক্ত দিয়ে টিকেট বিক্রির অফার দিচ্ছে, তাদেরকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনার পরামর্শ তাঁর।
গতকাল শনিবার এ প্রতিবেদকের সাথে ভার্চুয়ালি সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন ট্রিউন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মনিটরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম।
তাঁর মতে, সস্তার জন্য কারোরই ‘অনিশ্চিত’ টিকেট টাকা ঠিক নয়। টিকেট কাটার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে। মাথায় রাখতে হবে, কোন ওটিএ স্বীকৃত কমিশন লেভেল থেকে অতি উচ্চ কমিশন দিচ্ছে কি না। যদি কোন এয়ারলাইন্সের স্বীকৃত কমিশন লেভেল ৭ পার্সেন্ট থাকে, আর ওটিএ এজেন্সি ৮ পার্সেন্টও কমিশন দেয়-এটা মোটামুটি রেজনেবল ধরে নেয়া যায়। কিন্তু, যারা এর চেয়ে বেশী ১৫-২০ পার্সেন্ট কমিশন দেয়, এ থেকে বুঝতে হবে-এরা মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। ডিসকাউন্ট কোত্থেকে আসছে-এ নিয়ে যে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে-যেটা ঘটেছে ফ্লাইট এক্সপার্টের ক্ষেত্রে।
ফ্লাইট এক্সপার্ট’ নিজের ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের পাশাপাশি আরো তিনটি আইএটিএ অ্যাকাউন্ট দিয়ে টিকেট করতো। এর মধ্যে কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্টের টিকেট রিফান্ড করা ও যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তার জবাব বিষয়টি সবারই মানবিক দৃষ্টিতে দেখা উচিত। টিকেটের অর্থ রিফান্ড করে এজেন্সিগুলো যাত্রীদের আরো বিপদে ফেলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, যেসব এজেন্সির সাথে ফ্লাইট এক্সপার্টের বিটুবি(বিজনেস টু বিজনেস) ছিল, তাদেরও দায়বদ্ধতা এক্ষেত্রে কম নয়। টিকেট বিক্রির মাধ্যমে তারা প্রতিষ্ঠানটির সুবিধাভোগ করেছেন ঠিকই, কিন্তু, এখন তারা উল্টো গ্রাহকদের আরো বিপদে ফেলছেন। অবশ্য তিনি এও বলেন, সবাই যার যার স্বার্থ দেখবে-এটা ঠিক। তবে, ব্যবসার পাশাপাশি গ্রাহকদের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় দেখা উচিত।
কাজী ওয়াহিদুল আলম আরো বলেন, সস্তায় টিকেট কেটে এর আগে অনেকেই প্রতারিত হয়েছেন। ফ্লাইট এক্সপার্টের ঘটনা দেশের ইতিহাসে চতুর্থ। আলোচিত পি কে হালদার পালিয়ে যাবার পর ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যায় তার অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ‘হালট্রিপ’। ২০২১ সালে বন্ধ হয় ‘টোয়েন্টিফোর টিকেট ডটকম’ নামের আরেকটি ওটিএ। ২০২৩ সালে ‘লেটস ফ্লাই’ নামের আরেকটি ৩৮টি ট্রাভেল এজেন্সির ১০ কোটি টাকা মেরে দিয়ে উধাও হয়ে যায়। দীর্ঘদিনেও প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ী ও গ্রাহক আর অর্থ ফেরত পাননি।
ফ্লাইট এক্সপার্টে বিপর্যয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকেও সমান দায়ী করেন তিনি। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো ঋণের পাশাপাশি তাদের জন্য ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করেছে। ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ফ্লাইট এক্সপার্টপ্রমোশনাল অফার চালিয়েছে। এ কারণে তারা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ব্যাংকগুলো তাদের প্রমোট না করলে এজেন্ট ও ক্রেতার এতো ঝুঁকিতে পড়তো না। তাই, বিপর্যয়ের জন্য ফ্লাইট এক্সপার্টের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোও দায় এড়াতে পারে না।
ফ্লাইট এক্সপার্টকে একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানী আখ্যা দিয়ে ওয়াহিদুল আলম বলেন, এভাবে তাদের বিদায় খুবই দু:খজনক। দেশে প্রথম ওটিএ-তারাই শুরু করেছিল, প্রযুক্তিগত দিক দিয়েও তারা ছিল অগ্রসর। যে কারণে তাদের প্রতি ছিল মানুষ আস্থাশীল। কিন্তু, এভাবে তাদের চলে যাওয়া সকলকে হতবাক করেছে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, প্রথমদিকে তারা ভালো করলেও পরের দিকে তারা টিকেটে অস্বাভাবিক ছাড় দেয়া শুরু করে। মানুষও তাদের প্রতি প্রলুব্ধ হয়। তাদের কাছ থেকে সস্তায় টিকেট কিনে মানুষ এখন প্রতারিত।
এয়ারস্প্যানের স্বত্বাধিকারী কাজী ওয়াহিদুল আলম এই খাতের অস্থিরতা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোরালো মনিটরিংয়ের তাগিদ দেন।




