সিলেটে ৩৫ পুলিশ সদস্য বদলি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ৪:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : এবার সিলেটে ৩৫ পুলিশ সদস্যকে বদলী করা হয়েছে। গেল সোমবার সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই বদলী করা হয়। এর মধ্যে পাথর লুটকাণ্ডে আলোচিত কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট থানায় কর্মরত ১১ জন উপপরিদর্শক (এসআই) ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রয়েছেন। বদলি হওয়া ৩৫ জনের মধ্যে ১৩ জন এসআই, ৭ জন এএসআই, ২ জন কনস্টেবল এবং ১৩ জন ড্রাইভার রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রাসেলুর রহমান। তিনি বলেন, এটা স্বাভাবিক বদলীরই একটা অংশ। এখানে শুধু গোয়াইনঘাট কিংবা কোম্পানীগঞ্জের না, অনেক উপজেলারই আছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিলেট জেলা পুলিশের কোম্পানীগঞ্জ থানার ৭ জন, গোয়াইনঘাট থানার ৭ জন, বালাগঞ্জ থানার ২ জন, ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ২ জন, বিয়ানীবাজার থানার ২ জন, গোলাপগঞ্জ থানার ১ জন, গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ২ জন ও আর জেলার মোটরযান শাখার ১২ জন ড্রাইভারকে জেলার বিভিন্ন থানায় বদলী করা হয়েছে।
এর আগে সিলেটের সাদাপাথর ও জাফলংয়ে চলে অবাধে লুটপাট। যার খবর গণমাধ্যমে প্রচার হলে দেশব্যাপী শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এটি তদন্তে কাজ করে দুদক, জেলা প্রশাসন, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ, সিআইডি সহ বিভিন্ন বাহিনী কাজ করে। আর গেল ১৩ আগস্ট সাদাপাথরে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাদাপাথরে লুটপাটে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও আওয়ামী লীগের ৪২ জন রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দুদক তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। এ ছাড়া লুটের টাকার ভাগ স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি পেত বলেও সংস্থাটি প্রতিবেদনে জানায়। ওই প্রতিবেদনে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা অবৈধ পাথর উত্তোলনের সিন্ডিকেটে জড়িত বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে বিভিন্ন সূত্র দাবী করছে, পুলিশের এই বদলী হয়েছে মূলত পাথর লুটপাটের ঘটনায়। যেখানে থানা-পুলিশের ব্যবহার রহস্যজনক হওয়ায় এই লুটপাট ঘটেছে এবং তাতে পুলিশের সামঞ্জস্য ছিল বলেও দাবী করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট থানার আরও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বদলির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানা যায়।




