ভিক্টোরিয়া হাইস্কুলে শমিত: শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে মুখর পরিবেশ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫০:৪৮ অপরাহ্ন
আবুল ফজল মো: আব্দুল হাই, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : আন্তর্জাতিক ফুটবলের ব্যস্ত সূচির ফাঁকে জন্মভূমির টান তাকে টেনে আনল বহু দূর কানাডা থেকে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে আলো ছড়ানো কানাডিয়ান ফুটবলার শমিত সোম বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ফিরে এলেন তাঁর দাদার স্কুল ভিক্টোরিয়া হাই স্কুলে। আর এক ঝলক প্রিয় নায়ককে দেখতে স্কুলপ্রাঙ্গণে যেন উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পা রাখতেই শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। কেউ এগিয়ে আসে অটোগ্রাফের খাতাসহ, কেউ উৎসুক ক্যামেরায় বন্দি করতে, কেউ আবার জানতে চায় মাঠের অভিজ্ঞতার গল্প। শমিতও হাসিমুখে সাড়া দেন সবার ভালোবাসায়—যেন দীর্ঘদিনের বন্ধুর কাছেই ফিরে এসেছেন।
এই স্কুলের সঙ্গেই তার রয়েছে গভীর পারিবারিক বন্ধন। তাঁর প্রয়াত দাদু মানিক লাল সোম ছিলেন ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক ও স্কুল ফুটবল দলের সোনালি যুগের সফল কোচ। শমিতের ভাষায়, “দাদুর নাম শুনলেই আমার ফুটবলের শুরুটা মনে পড়ে যায়। এই স্কুলেই তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে খেলাধুলার আনন্দ শিখিয়েছেন। আজ এখানে দাঁড়াতে পেরে মনে হচ্ছে, তিনি এখনও আমাদের সঙ্গে আছেন।”
শমিত সোমের পারিবারিক শেকড় শ্রীমঙ্গল থানার উত্তরসুর গ্রামে। স্থানীয়দের কাছে মানিক লাল সোম ছিলেন ন্যায়নিষ্ঠ, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক—যার স্মৃতি আজও সবাই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
জন্মভূমিতে ফিরে আসার আনন্দের পাশাপাশি শমিত বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাম্প্রতিক জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ দল এখন দারুণ ছন্দে আছে। দলের এই জয় শুধু ফুটবলের সাফল্য নয় দেশের তরুণদের স্বপ্ন দেখার সাহসও জোগাবে। এই জয়ের অংশ হতে পারা আমার জন্য গর্বের।”
ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় শমিত বলেন, প্রতিভা থাকলে সুযোগ একদিন আসবেই, তবে তার চেয়ে বড় বিষয় হলো শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রম। মাঠের বাইরে শেকড়ের স্মৃতি ও মানুষের ভালোবাসাই তাকে নতুন অনুপ্রেরণা দেয় বলে জানান তিনি।
দাদুর স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে শমিত সোমের এই শ্রীমঙ্গল সফর যেন অতীত ও বর্তমানের এক সেতুবন্ধন। আন্তর্জাতিক ফুটবলের তারকা হয়েও শেকড়ের প্রতি তাঁর টান প্রমাণ করে জন্মভূমির ডাকে মানুষ সবসময়ই ফিরে আসে, যত দূরেই থাকুক না কেন।




