সিলেটে বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেফতার ২
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৩৮:২৩ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : সিলেটে বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাদেরকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন ২৫নং ওয়ার্ডের ভার্থখলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সিলেটের ভার্থখলার নাজমুল হোসেনের ছেলে আহমদ হোসেন মাহিন (৩০) ও শরীয়তপুরের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. সুহেল আহমদ (২৪)।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভিকটিম সিলেট জেলার কানাইঘাট থানাধীন সোনারখেওড় এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার দিন গত ৩০ নভেম্বর দুপুরে ভিকটিম সিলেট কোর্টে একটি মামলায় হাজিরা শেষে বিরতিহীন গাড়িযোগে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করে। বিবাদীগণ ভিকটিমকে লক্ষ্য করে একটি নোয়াহ্ গাড়ি যোগে পিছন থেকে এসে সিলেট টু জকিগঞ্জ রোডের কদমতলী ওভার ব্রীজের পূর্ব পার্শ্বে রাস্তার উপর চলন্ত বাস গতিরোধ করে এজাহারে উল্লেখিত বিবাদীগণ অজ্ঞাতনামা বিবাদীগণের সহযোগিতায় বাসের ভেতরে ঢুকে ভিকটিমকে টেনে হিচড়ে নামিয়ে তাদের নোয়াহ্ গাড়িতে উঠিয়ে ভিকটিমের দুই চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে এবং দুই হাত পেছনের দিকে বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে বিবস্ত্র করে শারিরীক নির্যাতন ও বেধড়ক মারপিট করে। উক্ত নির্যাতনের ভিডিও বিবাদীগণ মোবাইলে ধারণ করে এবং ভিকটিমের কাছে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ভিকটিম জীবন বাঁচানোর জন্য মোবাইল ফোনে তার বড় ভাই ও বোনকে বিবাদীদের ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে বলে।
পরবর্তীতে ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজন নিরুপায় হয়ে ভিকটিমকে বাঁচানোর জন্য বিবাদীদের দাবিকৃত মুক্তিপণ ৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করে বিবাদীদের কথামত ৬নং ও ৭নং বিবাদীদ্বয়কে ৫ লাখ টাকা ও ৮নং বিবাদীকে ৩ লাখ টাকা প্রদান করে। অতঃপর বিবাদীরা গত ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের তালতলা এলাকায় ভিকটিমকে তার পিতা ও বোনের কাছে বুঝিয়ে দেয়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে র্যাব মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন ২৫নং ওয়ার্ডের ভার্থখলা মাহিন সমিতির অফিসের সামনে অভিযান পরিচালনা করে মূল পরিকল্পনাকারীসহ ২ জনকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে।
র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বুধবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়কে এসএমপি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




