ভাড়া বাসায় তিন বছর ধরে চলছে শিশু ও নারীর স্বাস্থ্যসেবা
বরাদ্দের অভাবে ঝুলে আছে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কাজ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:০৭:২৯ অপরাহ্ন
শহীদনূর আহমেদ, সুনামগঞ্জ: বরাদ্দের অভাবে ঝুলে আছে হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের নারী ও শিশুদের চিকিৎসাসেবার একমাত্র প্রতিষ্ঠান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ৮ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের কাজ। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া কাজটি ২০২৪ সালের জুনে শেষ করার কথা থাকলেও প্রায় এক বছরের অধিক সময় ধরে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘ তিন বছর ধরে ভাড়া বাসায় কোনোমতে চালিয়ে যাচ্ছেন জরুরী মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম সচল রাখা হলেও চাহিদা অনুযায়ি সেবা দিতে না পারায় হিমশিম খেতে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৭২ বছর পর সুনামগঞ্জ মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটি ৬ শয্যা থেকে ২০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও নিজস্ব ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় শহরের বিহারী পয়েন্ট এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি ভাড়া বাসায় কার্যক্রম চলছে।
মাত্র ২টি শয্যার মাধ্যমে স্বল্প পরিসরে প্রসূতিদের নরমাল ডেলিভারি , মাতৃত্বকালীন সেবা, নারী ও কিশোরীর প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে। তবে, শয্যা সংকট ও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাবে বিশেষায়িত সেবাসহ কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সহকারী পরিচালক ডাঃ দেবাশীষ শর্মা বলেন,ভাড়া বাসায় কোনো মতে সেবা চালু রেখেছি। রোগীদের চাহিদা অনেক। কিন্তু আমাদের নিজস্ব ভবন না থাকায় আমরা কাক্সিক্ষত সেবা দিতে পারছি না। ভবনের কাজ শেষ হলে আমরা চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে পারবো।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হয় এই ভবনের নির্মাণকাজ। প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ভবনের নির্মাণ শুরু করে সুনামগঞ্জের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম.এন.পি.এম.এ.আর.জেবি।
সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুন মাসে ভবন নির্মাণ কাজের ৪র্থ অপারেশন প্ল্যানের বরাদ্দ শেষ হয়ে যায়। ভবন নির্মাণের মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত। এরপর ৫ম অপারেশন প্ল্যানের বরাদ্দ পেতে ওই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে চলেছেন। এই বরাদ্দ না আসায় দীর্ঘ এক বছর যাবত ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। তবে, ৬ তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই হওয়ায় এই ভবনের কাজ ৫১ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের।
এদিকে, নভেম্বর মাসে একনেকের সভায় অপারেশন প্ল্যানের বরাদ্দের অনুমোদন হয়েছে। শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য প্রকৌশলের সহকারী প্রকৌশলী হুসনুল করিম বলেন, বরাদ্দের অভাবে ভবনের কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে সম্প্রতি বরাদ্দের অনুমোদন হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে অবশিষ্টাংশ কাজ সম্পন্ন করা হবে। বিষয়টির ক্ষেত্রে অধিদপ্তর আন্তরিক রয়েছেন।




