আমাদের দুর্ভাগ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে উজ্জ্বল এই দেশে প্রত্নতত্ত্ব ঐতিহ্য

স্মৃতিময় রূপলাল হাউস

প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৭-২০১৬ ইং ০০:১৪:০৮ | সংবাদটি ৫০ বার পঠিত

প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে পর্তুগাল। ফাইনালে পর্তুগালের শিরোপা নিশ্চিত করার নায়ক ২৮ বছর বয়সী স্ট্রাইকার এডার। তার পুরো নাম এডারজিতো অ্যান্তনিও মাসেদো লোপেজ। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে পর্তুগালের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন এডার। আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউতে জন্ম নেয়া এ ফুটবলারকে নিয়ে শুরু থেকে কৌতূহলের শেষ নেই। তার জীবনের নানা অজানা দিক ক্রমে মানুষের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে। প্রথমে জানা গিয়েছিল, ছোটবেলায় আশ্রমে বড় হন তিনি। আশ্রম থেকেই তিনি হয়ে উঠেন ইউরো জয়ের নায়ক। এবার তার জীবনের আরো একটি অধ্যায়ের কথা জানা গেল। করুণ এক জীবন যন্ত্রণা বয়ে চলেছেন তিনি। সম্প্রতি একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে তিনি সাক্ষাৎকার দিলেন। সেখানে জানালেন, তার বাবা গত ১৩ বছর ধরে ইংল্যান্ডের একটি জেলে। এডারের সৎমা’কে খুন করার অভিযোগে তিনি ২০০৩ থেকে জেল খাটছেন। ১৬ বছর তাকে জেল খাটতে হবে। এডারের বাবা ফিলোমিনো অ্যান্তনিও লোপেজ। তিনি একজন ভবঘুরে ধরনের মানুষ। গিনি বিসাউতে তিনি এক বিয়ে করেন। সেখানেই জন্ম হয় এডারের। এরপর জীবিকার তাগিদে তিনি যান পর্তুগালে। কিছুদিন পর গিনি বিসাউ থেকে এডারের মা তার বাবার কাছে পর্তুগালে চলে যান। এডারের বয়স তখন ২ বছর। সেখানেও তাদের ঘরে ছিল অভাব। বাধ্য হয়ে এডারকে একটি আশ্রমে দিয়ে আসেন তারা। এডারের বাবা কাজের খোঁজে যান ইংল্যান্ডে। সেখানে গিয়ে আরেকটি বিয়ে করেন। এডারের এই সৎ মা ২০০২ সালে খুন হন। তার লাশ পাওয়া যায় একটি সমুদ্র সৈকতের বালির মধ্যে। এই খুনের জন্য দায় দেয়া হয় এডারের বাবাকে। যদিও তিনি শুরু থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। কিন্তু নরউইচের আদালত এই খুনের জন্য এডারের বাবাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালতে প্রমাণিত হয় যে, অ্যান্তনিও লোপেজ তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের হুইল দিয়ে আঘাত করে খুন করেন। এটা প্রমাণিত হওয়ার পর তার যাবজ্জীবন জেল হয়। ইংল্যান্ডে যাবজ্জীবন জেলের মেয়াদ ১৬ বছর। ২০০৩ সালে বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর এখন পর্যন্ত তিনি লন্ডনের একটি জেলে রয়েছেন। তার বাবা আসলে তার সৎ মায়ের খুনি ছিলেন কি-না, এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি এডার। বাবার জেল খাটা নিয়ে এডার বলেন, ‘আমার বয়স যখন ৮ বছর তখন থেকে আমার বাবা লন্ডনে জেল খাটছেন। আমার সৎ মা মারা গিয়েছিলেন। সেই খুনে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। প্রায় ১৩ বছর ধরে আমার বাবা জেল খাটছেন।’ ২০০৮ সালে ১১ বছর বয়সে পর্তুগালের ক্লাব অ্যাকাডেমিকার হয়ে পেশাদার ফুটবল শুরু করেন এডার। তখনকার সময়ের বর্ণনা দিয়ে এডার বলেন, ‘বাবার জেল হওয়ার কয়েক বছর পর আমি অ্যাকাডেমিকায় ক্যারিয়ার শুরু করি। তখন থেকে অর্থ উপার্জন শুরু করি। সুযোগ পেলেই আমি বাবাকে দেখতে ইংল্যান্ডের জেলে যেতাম। বাবার সঙ্গে দেখা করার মুহূর্তটি আমার জন্য সবচেয়ে আনন্দের। আমি এখনও বাবাকে দেখতে যাই।’ এডার ছোটবেলার কথা বলেন, ‘গিনি বিসাউ থেকে ২ বছর বয়সে আমার মায়ের সঙ্গে আমি পর্তুগালে আসি। তখন বাবা পর্তুগালেই থাকতেন। মাঝেমধ্যে তিনি আমার মায়ের বাড়িতে আসতেন। একদিন আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন। কিছুদিন বাবার সঙ্গে থাকলাম। এরপর আমাকে তিনি একটি আশ্রমে ভর্তি করে দিলেন। ওই সময়টা ছিল খুবই কষ্টের। নিজেকে খুব একা মনে হতো।

শেয়ার করুন
এর আরো সংবাদ
  • কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারকবক্তৃতা
  • বিল গেটসের পছন্দের পাঁচ বই
  • ম্যাটিরিয়ালটা কী বলে তা বুঝতে চাই : ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান
  • নাসিরুদ্দীন-কন্যা নূরজাহান বেগম
  • যারা মন্দের পথে যাচ্ছে, তারা ধর্মান্ধ : সেলিনা হোসেন
  • স্মৃতিময় রূপলাল হাউস
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হলো ‘৬ষ্ঠ চলচ্চিত্র কর্মশালা ২০১৬’
  • জেফ্রি চসারের ‘দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস’
  • মার্কিন দেশে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে জাদুঘরে
  • বিলুপ্তপ্রায় চলচ্চিত্রটি যেভাবে উদ্ধার হলো
  • শ্রাবণের ধারাপাতে হুমায়ূন স্মরণ
  • পিরিতির নাও ভেসে যায়
  • শিল্পী বিটপের জীবনের চাওয়া-পাওয়ার গল্প
  • প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে পর্তুগাল। ফাইনালে পর্তুগালের শিরোপা নিশ্চিত করার নায়ক
  • Developed by: Sparkle IT