সম্পাদকীয় ধারণা ও অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী লোকেরা ধংস হয়েছে। -আল কুরআন

বিকল্প জ্বালানী বায়োগ্যাস

প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৭-২০২০ ইং ০৩:১৯:১৯ | সংবাদটি ২৮৯ বার পঠিত

বিকল্প জ্বালানী নিয়ে ইদানিং খুব একটা আলাপ আলোচনা হচ্ছে না কিন্তু প্রাকৃতিক গ্যাস কিংবা কাঠ পুড়িয়ে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহারের যে ধারাবাহিকতা চলছে, সেটা থামানো দরকার। কারণ প্রাকৃতিক গ্যাস সীমিত। এর মজুদ শেষ হয়ে যাবে একদিন। আর জ্বালানী হিসেবে কাঠ ব্যবহার করায় দেশের বৃক্ষ সম্পদ ধংস হচ্ছে। বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ। এই অবস্থায় বিকল্প জ্বালানীর দিকে ঝুঁকতেই হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে রান্নাবান্নাসহ অন্যান্য কাজে ব্যাপকভাবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। উজাড় করা হচ্ছে বৃক্ষ সম্পদ। এই প্রেক্ষাপটে বায়োগ্যাস ব্যবহারের ওপর জোর দিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞগণ। তাছাড়া, এই প্রকল্প সম্প্রসারণের জন্য সবধরনের সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশে সেটা হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস ব্যবহারে প্রতি বছর ৪০ হাজার টন জ্বালানী কাঠ সাশ্রয়ের পাশাপাশি এক হাজার দুইশ টন কেরোসিনের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে।
বায়োগ্যাস হচ্ছে বিকল্প জ্বালানী। গৃহপালিত পশুর বিষ্ঠা দিয়ে এটি উৎপাদন করা হয়। জানাগেছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বায়োগ্যাস হচ্ছে সবচেয়ে সস্তা নবায়নযোগ্য জ্বালানী। এতে গন্ধ নেই, ধোঁয়া নেই, হাড়িপাতিল ও রান্না ঘরে কালি পড়ে না। বায়োগ্যাস দিয়ে রান্নার পাশাপাশি অন্য কাজও করা যায়, জ্বালানো যায় গ্যাসবাতি। এটি পরিবেশ দূষণ ও ওজোন গ্যাস রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এর থেকে উৎপাদিত হয় উন্নতমানের জৈব সার। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বায়োগ্যাসের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। প্রথমত দেশের মুষ্টিমেয় সংখ্যক মানুষ পাইপ লাইন বা সিলি-ারে গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। আর বলতে গেলে ৯০ ভাগ মানুষই রান্নাবান্নাসহ অন্যান্য কাজে জ্বালানী হিসেবে কাঠ, শুকানো গোবর, খড় কুটো প্রভৃতি ব্যবহার করছে। এতে একদিকে বৃক্ষ সম্পদ উজাড় হচ্ছে, ধোঁয়ায় ক্ষতি হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের। এক জরিপের তথ্য হচ্ছে, রান্নায় ব্যবহৃত কাঠ ও অন্যান্যদ্রব্য পোড়ানোর ফলে যে বিষাক্ত ধোঁয়া বের হচ্ছে তা থেকে কমপক্ষে ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে সারাবিশ্বে। তাছাড়া, যে শুকনো গোবর ব্যবহার করা হচ্ছে জ্বালানী হিসেবে সেটা জমির উৎকৃষ্ট জৈব সার।
বাংলাদেশে প্রথমত বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয় ১৯৭২ সালে। এর পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্লান্ট স্থাপন হতে থাকে। প্রথম দিকে বেশ দ্রুত বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন হতে থাকে। প্রথম দু’বছরে স্থাপিত হয় প্রায় ৩৩ হাজার প্লান্ট। জানা গেছে, বর্তমানে সারাদেশে বায়োগ্যাস প্লান্টের সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি নয়। তাছাড়া এর বেশির ভাগই বর্তমানে অকেজো। অন্তত পরিবেশ সুরক্ষায় বায়োগ্যাস তথা নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ওপর জোর দিতে হবে। এ জন্য গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে এ ব্যাপারে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করতে হবে। এই কাজটি করার দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT