সম্পাদকীয় তরবারি গ্রহণ করতে হয় উচ্চ শিরে উদ্ধত হস্ততুলে! মালা গ্রহণ করতে হয় উচ্চশির অবনমিত করে উদ্ধত হস্তমুক্ত করে ললাটে ঠেকিয়ে। -কাজী নজরুল ইসলাম

ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস

প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৭-২০২০ ইং ০২:৩২:২৬ | সংবাদটি ৩১৬ বার পঠিত

চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয় সব সময়ই। বিশেষ করে সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে বিতর্ক হয় বেশি। অভিযোগটি খুবই পুরনো যে, চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে নিজ নিজ দায়িত্বের প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করেন এবং প্রাইভেট চেম্বার বা ক্লিনিকে সময় দিতেই বেশি মনোযোগী। কারণ, এতে কম সময়ে বেশি উপার্জন হয়। অথচ বিভিন্ন সময় সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। ২০০৮ সালে দেয়া একটি আদেশে সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, নার্সিং হোমসহ সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের চাকরিতে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নিবন্ধিত চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা সহকারীদের অফিস সময়ে বেসরকারি চিকিৎসা সেবা প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়। নির্ধারিত অফিস সময়ে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রদান করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হবে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ কোন বেসরকারি চিকিৎসালয় পরিচালনা করলে তাকেও অর্থদ-সহ সশ্রমকারাদ- ভোগ করতে হবে। আদালত বেসরকারি চিকিৎসকদের সম্পূর্ণ বা আংশিক অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। অথচ সরকারের এই নির্দেশনা কার্যকর হয়নি। 

দেশের প্রায় সব সরকারি হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই মানুষ সেবা পায় না প্রত্যাশিতভাবে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে সরকারি ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস। সরকারি খাতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় দৈন্যদশার অন্যতম কারণ হচ্ছে এই প্রাইভেট প্র্যাকটিস। সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা নার্সিং হোমে ডাক্তাররা নিয়মিত উপস্থিত না থাকার বিষয়টি কারও অজানা নয়। ডাক্তাররা অনেক সময় কর্মস্থলে হাজিরা দিয়েই চলে যান প্রাইভেট প্র্যাকটিসে। চেম্বার বা বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালেই সময় দিতে তারা বেশি পছন্দ করেন। শুধু তাই নয়, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ রয়েছে- তারা সরকারি হাসপাতালের রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা না করে প্রাইভেট চেম্বার বা ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া, সরকারি হাসপাতালেও ফি নিয়ে রোগী দেখছেন অনেক চিকিৎসক। আর প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার ক্ষেত্রেও রয়েছে গলাকাটা ফি নেয়া, রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ, অপ্রয়োজনীয় মেডিকেল টেস্ট করানোর মাধ্যমে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন আদায় এবং এভাবে রোগীদের ফতুর করা ইত্যাদি অভিযোগ।
ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু তার কোনটাই সফল হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করারও দরকার নেই। তবে এটাকে যথাযথ নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। চিকিৎসকেরা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন শেষে প্রাইভেট চেম্বারে কিংবা ক্লিনিকে সেবা দিলে তো কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। তাছাড়া, রোগী দেখার ফি হিসেবে আটশ টাকা থেকে হাজার ১২শ’ টাকা নিতে হবে কেন; আর একদিনে কতোজন রোগী দেখার মানসিক সামর্থ্য থাকতে পারে একজন চিকিৎসকের, নিশ্চয় সেটা একশ’ দু’শ জন নয়। এই সবকিছু বিবেচনা করা উচিত সংশ্লিষ্টদের। তাদের বোঝা উচিত চিকিৎসা একটা সেবামূলক পেশা আর সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে সরকারি অর্থেই, পক্ষান্তরে জনগণের টাকায় একেকজন চিকিৎসক তৈরি হচ্ছে। তাই জনগণের সেই দানের মূল্য পরিশোধের একটা দায় তো থেকেই যায়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT