উপ সম্পাদকীয়

রাজনীতিতে গ্রুপিং প্রসঙ্গে

এম আশরাফ আলী প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-১০-২০২০ ইং ০৩:৩৭:২৪ | সংবাদটি ১০৭ বার পঠিত

বাংলাদেশে বিরাজমান রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শ, উদ্দেশ্য, লক্ষ্য স্বকীয়তা ভিন্ন ভিন্ন। প্রতিটি দলের রয়েছে আলাদা মেনোফেস্টো। প্রত্যেকে চায় তাদের নিজস্ব আদর্শের ভিত্তিতে মানুষের মুক্তি বিশেষ করে অর্থনৈতিক মুক্তি। যারা যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন, তারা নিজস্ব ভঙ্গিতে চেষ্টা তদবির করছেন দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটাতে। যার যার মুখে উন্নয়নের সাফাই গাইলেও স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরে এখন ও মানুষের সার্বিক মুক্তি আসেনি।
তার কারণ একটাই। সেটাতে পরে আসছি। গ্রুপিং বলতে আমি একই দলের কর্মীদের মধ্যে আভ্যন্তরীণ কোন্দল বুঝাচ্ছি। সেটা ছাত্র সংগঠন, যুব সংগঠন বা মুল সংগঠনেও দেখা যায়। বিশেষ করে ছাত্র সংগঠনে অমুক গ্রুপ তমুক গ্রুপ ইত্যাদি লক্ষ্য করা যায়। গ্রুপের বৃদ্ধিতে এক সময় গ্রুপ লিডার হয় গড ফাদার। এরা এক সময় এতো বেপরোয়া হয় যে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত পর্যন্ত মানতে অস্বীকার করে। আর স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে হয় খুন খারাবি।
পাতিনেতারা গড ফাদারের উপর ভর করে বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত করে। যেমন চাঁদাবাজি মাস্তানী, ভূমি দখল, ধর্ষণ ইত্যাদির মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটায়। এমনকি গরীবদের সরকারি সাহায্যেও তারা ভাগ বসায়। সম্প্রতি এমসি কলেজ হোস্টেলে গৃহবধু গণধর্ষণ বা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধু গণধর্ষণ ও নির্যাতনসহ গোটা দেশে অপরাধ সংগঠনের পেছনে এই গ্রুপ মাস্তানরাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে জড়িত।
বলছিলাম মানুষের সার্বিক মুক্তি না আসার পেছনে একটি মাত্র কারণ সেটা হলো দুর্নীতি। আর এই দুর্নীতি যেমন উপর লেভেলে ঠিক নিচের লেভেলেও সমান ভাবে প্রতীয়মান। ক্ষমতা প্রাপ্ত লোকজন যখন দুর্নীতিতে জড়িয়ে যায় তখন আর দুর্নীতি বন্ধ হয় না।
সাম্প্রতিক পর্দা কান্ড, ক্যাসিনো কান্ড, পাপিয়া কান্ড, ডা. সাব্রিনা কান্ড হাই প্রোফাইল দুর্নীতির ঢেউ আজকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধর্ষণের ঢেউ দিচ্ছে। সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণহীন দ্রব্যমূল্য মানুষের মাঝে হতাশা তৈরি করছে। ব্যবসায়িক দুর্নীতি সাধারণ মানুষকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। কিন্তু এটা দেখবে কে?
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কিনতে গিয়ে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। আজ দু দুটো বছরে ও পিয়াজ রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম কোন পরিকল্পনা আছে বলে মনে হয়না। আলুর মৌসুমে আলু রাস্তায় পঁচতে দেখা যায়। ধানের মৌসুমে ধান যথাযথ ভাবে সংরক্ষিত হয় না। চামড়ার মৌসুমে চামড়া পঁচে। কোন খদ্দের থাকে না। অবশেষে কোটি কোটি টাকার চামড়া কবর দিতে হয়। এমনিতে দেশে লক্ষ লক্ষ বেকার। চামড়া শিল্প বাঁচিয়ে রাখলে হাজার হাজার বেকার লোকের কর্মসংস্থান হতো। আমাদের চামড়া শিল্প ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কারও কিছু বলার নেই।
আর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথা কি বলব?
ওরা দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন করার কথা। এখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর উল্টোটিই ঘটছে। দেশের প্রশাসন যখন পুলিশ নির্ভর হয়ে পড়ে তখন ওরা সুযোগ পেয়ে মাথায় উঠে। এখন সময় এসেছে এমন একটা রাজনৈতিক দল খোঁজার, যে দলে কোনো আভ্যন্তরীণ কোন্দল নেই, গ্রুপিং নেই, লবিং নেই, সর্বোপরি দুর্নীতি নেই। এমন রাজনৈতিক দল কি বাংলাদেশে আছে?
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শীতের শাকের পুষ্টিগুণ
  • জেনে শুনে বিষ করেছি পান
  • চলে গেলেন ফেলুদা
  • ফিরে দেখা ট্রাম্পের চার বছর
  • বেকার সমস্যা সমাধানে মহাপরিকল্পনা
  • পাল্টে যাচ্ছে সিলেট নগরীর চেহারা
  • পাল্টে যাচ্ছে সিলেট নগরীর চেহারা
  • বেকার সমস্যা সমাধানে মহাপরিকল্পনা
  • বাইডেনের জয় ও ট্রাম্প সমাচার
  • স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও একজন দাতা ভিক্ষুক
  • মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে আমাদের শিক্ষা
  • দর্শন দিবসের প্রাসঙ্গিকতা
  • শিশুর বই পড়া ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
  • পাল্টে যাচ্ছে শাবি ক্যাম্পাসের চিত্র
  • প্রসঙ্গ : চিকিৎসা-বাণিজ্য
  • করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও প্রস্তুতি
  • সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি প্রসঙ্গ
  • যে কথাটি হয়নি বলা
  • জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও শিক্ষার উন্নয়ন
  • চিকিৎসার নামে নির্যাতন ও আমাদের মূল্যবোধ
  • Developed by: Sparkle IT