উপ সম্পাদকীয়

দুর্গাপূজা ও কলাবৌ রহস্য

সচ্চিদানন্দ কৃষ্ণ দাস (সজল) প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-১০-২০২০ ইং ০৭:৪৭:২৬ | সংবাদটি ১৮৪ বার পঠিত

দুর্গাপূজায় দুর্গা মাকে দর্শন করতে পূজা মন্ডপে গেলে দেখা যায় গণেশের পাশে একটি কলাগাছকে শাড়ি-মালা-সিঁদুর পরিয়ে পূজা করার দৃশ্য। ছোটবেলায় এই দৃশ্য দেখে মনে প্রশ্ন জাগত দেবীরূপে এই কলাগাছটা আসলে কে? অনেকের কাছে প্রশ্ন করলাম বিষয়টি সম্পর্কে জানতে। কিন্তু কারো উত্তর আমার মনঃপুত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আশ্রয় গ্রহণ করি শাস্ত্র-বিধানের। পরবর্তীতে শাস্ত্র সিদ্বান্ত থেকে এর আসল রহস্য উদঘাটন করতে সমর্থ হলাম।
দুর্গা পূজায় গণেশের পাশে লাল পাড় সাদা শাড়িতে ঘোমটা পরা যে কলাগাছটা দেখা যায় সেটিকে বলা হয় নবপত্রিকা। অনেকে একে কলাবৌ বলে থাকেন। গণেশের পাশে থাকায় অনেকে একে গণেশের স্ত্রী হিসেবে ও জেনে থাকেন। কিন্তু উনি গণেশের স্ত্রী নন। কারণ গণেশের স্ত্রীর নাম হচ্ছে রিদ্বি এবং সিদ্বি।
যাইহোক এই নবপত্রিকা হচ্ছে নয় প্রকার বৃক্ষ অর্থাৎ দেবীর আদ্যাশক্তির নয় রূপকে প্রতীকায়িত করে। আক্ষরিক অর্থে নব অর্থ নয় আর পত্রিকা মানে পাতা বুঝালে ও মূলত নয়টি বৃক্ষের সমন্বয়ে এই নবপত্রিকা বা কলাবৌ তৈরি করা হয়। এই নয় প্রকার বৃক্ষ হল কলাগাছ, কালোকচু গাছ, হলুদ গাছ, মানকচু, ধানগাছ, বেল গাছ, জয়ন্তী গাছ, অশোক গাছ ও ডালিম গাছ।
প্রশ্ন জাগতে পারে এই নয় প্রকার বৃক্ষের সাথে দেবীদুর্গা বা পূজার কী সম্পর্ক? দুর্গাদেবী প্রকৃতি স্বরূপা। তিনি মাতার ন্যায় এই প্রকৃতিকে পালন করেন। এজন্য শ্রী শ্রী চন্ডীগ্রন্থে দেবীকে মাতৃরূপা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরুপেন সংস্থিতা। (শ্রী শ্রী চন্ডী)। তাই দেবী দুর্গার প্রকৃতি স্বরূপা এই রূপই হল নবপত্রিকা। এই নব বৃক্ষের নয় জন অধিষ্ঠাত্রী দেবী রয়েছেন। যেমন: কলাগাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী ব্রহ্মাণী, কালোকচু গাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী কালি, হলুদ গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী উমা, মানকচু গাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী চামুন্ডা, ধানগাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী লক্ষ্মী, বেল গাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী শিবা, জয়ন্তী গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী কার্তিকী বা জয়ন্তী, অশোক গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী শোকরহিতা, ডালিম গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী রক্তদন্তিকা। এই নয় বৃক্ষ দেবী দুর্গার নয়টি রূপের প্রতিনিধিত্ব করে।
নবপত্রিকা স্থাপন করা হয় সপ্তমী তিথিতে। অর্থাৎ যেদিন দুর্গামূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয় সেই দিনই নবপত্রিকা মন্ডপে স্থাপন করা হয়। পূজা মূলত নবপত্রিকা স্থাপনের মধ্য দিয়েই শুরু হয়। সপ্তমী দিন সকালে পুরোহিত নবপত্রিকা/ কলাবউকে স্নান করিয়ে শাড়ি, মালা পরিয়ে গণেশের পাশে স্থাপন করে পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের মাধ্যমে শুরু হয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। পূজা চলবে পুরো পাঁচ দিন এবং প্রতিমা নিরঞ্জনের মাধ্যমে শেষ হবে সনাতন ধর্মের এই মহোৎসবটি। এবারের দুর্গাপূজা করোনাকালীন সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বিধায় সরকারের দেওয়া ২৬ নির্দেশনা মেনে দুর্গাপূজা পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। আশা থাকবে এই ২৬ নির্দেশনা মেনে যথাযথভাবে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে দুর্গাপূজায় দুর্গা মায়ের শ্রীচরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের মাধ্যমে ধরা হতে সমস্ত অশুভ শক্তি বিনাশের প্রার্থনা জানাব আমরা সবাই।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শীতের শাকের পুষ্টিগুণ
  • জেনে শুনে বিষ করেছি পান
  • চলে গেলেন ফেলুদা
  • ফিরে দেখা ট্রাম্পের চার বছর
  • বেকার সমস্যা সমাধানে মহাপরিকল্পনা
  • পাল্টে যাচ্ছে সিলেট নগরীর চেহারা
  • পাল্টে যাচ্ছে সিলেট নগরীর চেহারা
  • বেকার সমস্যা সমাধানে মহাপরিকল্পনা
  • বাইডেনের জয় ও ট্রাম্প সমাচার
  • স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও একজন দাতা ভিক্ষুক
  • মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে আমাদের শিক্ষা
  • দর্শন দিবসের প্রাসঙ্গিকতা
  • শিশুর বই পড়া ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
  • পাল্টে যাচ্ছে শাবি ক্যাম্পাসের চিত্র
  • প্রসঙ্গ : চিকিৎসা-বাণিজ্য
  • করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও প্রস্তুতি
  • সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি প্রসঙ্গ
  • যে কথাটি হয়নি বলা
  • জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও শিক্ষার উন্নয়ন
  • চিকিৎসার নামে নির্যাতন ও আমাদের মূল্যবোধ
  • Developed by: Sparkle IT