শেষের পাতা

কোম্পানীগঞ্জের ‘মরা ধলাই’ খাল নোটিশেও সরছে না অবৈধ স্থাপনা

আবিদুর রহমান, কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) থেকে : প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-১০-২০২০ ইং ০৪:৫৯:২২ | সংবাদটি ২০৪ বার পঠিত

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ‘মরা ধলাই’ খালে একসময় নৌকা চলত। খালের পানি মানুষ নানা কাজে ব্যবহার করত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে খালটি অস্তিত্ব হারায়। দখলবাজরা তৈরি করে বসতবাড়ি। কেউ নির্মাণ করেন দোকান, কেউ তুলেন প্রাচীর। অবৈধ এসব দখলদারদের দখল ছাড়তে নোটিশ দেন জেলা প্রশাসন। কিন্তু নোটিশেও সরছে না অবৈধ স্থাপনা। জানা গেছে, ভোলাগঞ্জ থেকে রুস্তমপুর, নোয়াগাঁও-পাড়ুয়া হয়ে টুকার বিল পর্যন্ত খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ কিলোমিটার। আর এই ৪ কিলোমিটারে অবৈধ দখলদারের সংখ্যা শতাধিক। অবৈধ দখল করা জমির পরিমাণ ২.৩৭ একর।
সূত্র জানায়, এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরা ধলাই খালের ৬০ জন দখলদারকে চিহ্নিত করে উপজেলা ভূমি অফিস। ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই সরকারি সম্পত্তির অবৈধ দখল থেকে তাদের কেন উচ্ছেদ করা হবে না মর্মে নোটিশ পাঠানো হয়। তখন জনমনে প্রত্যাশা জাগে এবার খালটি দখলমুক্ত হবে। কিন্তু, এ বিষয়ে প্রশাসনকে আর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
এ অবস্থায় গত ২৫ জানুয়ারি দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকায় ‘কোম্পানীগঞ্জে মরা ধলাই খাল ভরাট করে শতাধিক স্থাপনা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এরপর ভুক্তভোগীরা বেশ কয়েকবার স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু, কার্যত কোন লাভ হয়নি। পরবর্তীতে গত ১৭ মে সিলেটের ডাক পত্রিকায় ‘কোম্পানীগঞ্জে খাল ভরাট করে দখল :
জলাবদ্ধতা-দুর্ভোগ’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে খালটি উদ্ধার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়।
সবশেষে, গত ৩ সেপ্টেম্বর দখলদারদের ১৫ দিনের সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। সেই সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেলেও কোনো স্থাপনা অপসারণ হয়নি।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসলাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত সর্বশেষ নোটিশে বলা হয়, দখলদারেরা বেআইনিভাবে খালটি দখলে আছেন। ওই অধ্যাদেশের ভূমি ও ইমারত (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ ১৯৭০ (অধ্যাদেশ নং-২৪/৭০) এর ৫ ধারার বিধানমতে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে বর্ণিত ভূমি, ইমারত অথবা এর অংশবিশেষ ত্যাগ করার এবং তদুপরিস্থ নির্মিত গৃহাদি অপসারণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। ওই সময়ের মধ্যে যদি বর্ণিত ভূমি/ইমারত অথবা এর অংশবিশেষ ত্যাগ করতে সক্ষম না হন অথবা অস্বীকার করেন, তাহলে অবৈধ নির্মিত গৃহাদি ভেঙ্গে অপসারণক্রমে বর্ণিত ভূমির খাস দখল গ্রহণ করা হবে। ওই অধ্যাদেশের ৮নং ধারা মতে বর্ণিত ভূমির উপরিস্থিত গৃহ ও অন্যান্য সম্পত্তিসহ ইমারত অথবা এর অংশবিশেষ সরকারি অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বরাবরে বাজেয়াপ্ত করা হবে।
এদিকে, নোটিশটির বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হলেও একটি অবৈধ স্থাপনাও অপসারণ করা হয়নি। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দখলদারেরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। নিজ দায়িত্বে কেউ কোনো স্থাপনা সরিয়ে নেননি। ভোলাগঞ্জ গ্রামের ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন, পাড়ুয়ার ইব্রাহিম আলী, রস্তমপুরের আলী আসকর ও নোয়াগাঁও গ্রামের আবুল কাশেম জানান, মরা ধলাই খালটি রক্ষায় তারা একাধিকবার স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, মরা ধলাই নদী দখল করে স্থাপনা তৈরি করায় নদীটি মরে গেছে। এটি পুনরুদ্ধার করা না গেলে এলাকায় পরিবেশের বিরূপ প্রভাব পড়বে। স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিমুল ইসলাম আঙ্গুর বলেন, খাল দখল করে পৈতৃক সম্পত্তির মতো ব্যবহার করলেও অতীতে কেউ উদ্যোগ নেননি। জনস্বার্থে খালটি পুনরুদ্ধার করে সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
পাড়ুয়া গ্রামের ডাক্তার আব্দুল হাসিব বলেন, দখলের কারণে মরা ধলাই খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভোলাগঞ্জ-পাড়ুয়া-রুস্তমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের জন্য দখলদারদের উচ্ছেদ করে খালটি খননের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদের সভায় খালটি দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর একটি উচ্ছেদ মামলাও হয়। ইতোমধ্যে দখলদারদের উচ্ছেদে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জনস্বার্থে এটি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য জানান, আমরা জেলা প্রশাসনকে অবগত করেছি। সিদ্ধান্ত নেবে জেলা প্রশাসন। ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ হলে শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। অপরদিকে, এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে সরকারি খালটি দখলমুক্ত করে সংস্কারের দাবি জানান উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শামীম আহমদ।
তিনি বলেন, একসময় এই খালে নৌকা চলত। স্থানীয় লোকজন গৃহস্থালি কাজে এর পানি ব্যবহার করতেন। কিন্তু, এখন সেই খাল দেখে বোঝা মুশকিল, এটা খাল না খন্ড খন্ড ডোবা।

 

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • করোনা সচেতনতা মহানগর বিএনপির মাস্ক বিতরণ
  • সরকার ধান চাষের পাশাপাশি রবি শস্য ফলনের প্রতি জোর দিচ্ছে :মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি
  • ছাতকের জাহিরভাঙ্গা-বসন্তপুর বেড়িবাঁধে ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কা ১৬ গ্রামবাসীর
  • সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার বিদেশি কয়েদীদের মধ্যে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র প্রদান
  • ছাতকে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্যানিটারি ল্যান্ড ফিল্ড
  • সিলেটে বাড়ছেই করোনা রোগী
  • দেশে করোনায় আরও ৩৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৮
  • ‘গোয়াইনঘাটে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অবৈধ রয়েলিটি বন্ধ না হলে আন্দোলন’
  • স্থানীয় সরকার বিভাগকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে : মুহিবুর রহমান মানিক এমপি
  • নবীগঞ্জে আগুনে পুড়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীর মৃত্যু
  • সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী যাকেরের মৃত্যুতে লিডিং ইউনিভার্সিটির শোক
  • মৌলভীবাজারে মাস্ক না পরায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা
  • কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি’র ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন
  • ধর্মপাশায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ৩২টি গৃহ নির্মিত হচ্ছে
  • তাহিরপুরে কৃষকদের মধ্যে বীজ বিতরণ
  • মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পরও সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী
  • জগন্নাথপুরে কৃষি প্রণোদনা পাচ্ছেন ১১শ’ কৃষক
  • মণিপুরী সংস্কৃতির চর্চার আশানুরূপ অগ্রগতি হচ্ছে না --সন্দ্বীপ কুমার সিংহ
  • ধর্মপাশায় হাওর রক্ষা বাঁধের জরিপ কাজ শুরু
  • আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় : মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি
  • Developed by: Sparkle IT