উপ সম্পাদকীয়

একজন রায়হানের হাজারো আর্তনাদ

জিতু হাসান প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-১০-২০২০ ইং ০৫:২৪:৪১ | সংবাদটি ১০০ বার পঠিত

জন্মিলে মরিতে হবে একথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু আছে মেনে নেয়া যায়না। তেমনিভাবে মেনে নেওয়া যাচ্ছেনা হতভাগা রায়হানের মৃত্যুটাও। মনে হয় এখনও রায়হানের আর্তনাদে কাঁদছে শাহজালালের পূণ্যভূমি। সিলেটের আকাশ পাহাড়, জমিন, কাপছে গোটা বাংলাদেশ ও সারা বিশ্ব। প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সারা বিশ্বজুড়ে। সবার একটাই দাবী দোষী পুলিশ অফিসার আকবর সহ যারা জড়িত সকল অপরাধিদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। আমিও চাই পুলিশ অফিসার আকবর সহ সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। আর সেই সাথে একটা বিষয় মানতে আমি নারাজ যারা একজন কুলাঙ্গার আকবরের জন্য সারা দেশের পুলিশকে দায়ী করছে। আমি এর পক্ষপাতি নয়।
কারণ আমাদের দেশে এমনও ভালো পুলিশ অফিসার আছে যারা দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে নিজের প্রাণটাও দিতে পিছপা হয়না। যেমন কয়েক বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রকে ছিনতাইকারীরা ছুরি আঘাত করে রাস্তায় ফেলে যায়। ছেলেটি তখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল ঠিক তখন তাকে বাঁচাতে আসেন একজন পুলিশ অফিসার। ঐ ছাত্রকে মেডিকেলে ভর্তি করে নিজের শরীর থেকে রক্ত দিয়ে তাকে বাঁচান। তার মেডিকেলের ঔষধপত্র সহ যাবতীয় খরচও বহন করেন ওই পুলিশ অফিসার। এখানেও শেষ নয় আরো অনেক পুলিশ অফিসার আছেন যাদের অবদানের কথা বলতে না পারলে নিজের বিবেকের কাছে অপরাধী হয়ে থাকবো। যেমন আমাদের সিলেটের পুলিশ কমিশনারের কাছে আমি একজন অসহায় মানুষের একটি অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলাম। উনার অমায়িক ব্যবহার ও আন্তরিকতা ও সততা দেখে সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম যে আমার মত সাধারণ মানুষকে উনি সম্মানের সহিত কথা বলে এবং সহযোগিতা করে আইনের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আরো অনেকের কথা আছে যা বলে শেষ করার নয়।
তাই বলে ভুলে গেলে চলবেনা বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানের উপরে যে বর্বরতা হয়েছে এটা কোন পশুও করবেনা। রায়হানের শরীরে ১১১ টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে ও তার হাতের নখ উপড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এসব শুনে মনে একটি প্রশ্ন জাগছে এই আকবর কি আসলে কোন মানব না কি দানব। আকবর যেভাবে নির্যাতন করে রায়হানকে মারলো মনে হয় কারবালা ময়দানে ইমাম হাসান-হোসাইনকে এমন নির্যাতন করে মারেনি। সেদিন হতভাগা রায়হানের চোখের জলে ভেসে ছিল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ফ্লোর। কিন্তু গলেনি পাশন্ড আকবরের মন। রায়হানের রক্তে ভিজে ছিল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি। আমরা কিংবা রায়হানের পরিবার কি তা কোন দিনও ভুলতে পারে, না পারেনা। আজ চারদিকে রায়হান হত্যার প্রতিবাদের ঝড় দেখে আর আকবর সহ দোষী পুলিশ অফিসারদের প্রতি মানুষের ঘৃণা দেখে বিখ্যাত কণ্ঠ শিল্পী হায়দার হোসেনের একটি গানের লাইন মনে পড়ছে। আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া করিতে পারিনি চিৎকার বুকের ব্যথা বুকে জমায়ে দিয়েছি শুধু ধিক্কার।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শীতের শাকের পুষ্টিগুণ
  • জেনে শুনে বিষ করেছি পান
  • চলে গেলেন ফেলুদা
  • ফিরে দেখা ট্রাম্পের চার বছর
  • বেকার সমস্যা সমাধানে মহাপরিকল্পনা
  • পাল্টে যাচ্ছে সিলেট নগরীর চেহারা
  • পাল্টে যাচ্ছে সিলেট নগরীর চেহারা
  • বেকার সমস্যা সমাধানে মহাপরিকল্পনা
  • বাইডেনের জয় ও ট্রাম্প সমাচার
  • স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও একজন দাতা ভিক্ষুক
  • মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে আমাদের শিক্ষা
  • দর্শন দিবসের প্রাসঙ্গিকতা
  • শিশুর বই পড়া ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
  • পাল্টে যাচ্ছে শাবি ক্যাম্পাসের চিত্র
  • প্রসঙ্গ : চিকিৎসা-বাণিজ্য
  • করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও প্রস্তুতি
  • সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি প্রসঙ্গ
  • যে কথাটি হয়নি বলা
  • জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও শিক্ষার উন্নয়ন
  • চিকিৎসার নামে নির্যাতন ও আমাদের মূল্যবোধ
  • Developed by: Sparkle IT