সম্পাদকীয় সম্পদ তোমাকে পাহারা দিতে হয়, কিন্তু জ্ঞান তোমাকে পাহারা দিতে হয় না। -হজরত আলী (রা.)

নবপ্রজন্ম ঝুঁকছে কৃষিতে

প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-১১-২০২০ ইং ০২:২১:৫৭ | সংবাদটি ৫৭ বার পঠিত

কৃষিতে ঝুঁকছে শিক্ষিত প্রজন্ম। কিছুটা চমকে দেয়ার মতো খবর। একটি জাতীয় দৈনিকে সম্প্রতি এই ধরনের একটি খবর প্রকাশিত হয়। চাকরি ছেড়ে কৃষিতে শিক্ষিত প্রজন্ম। খবরটি পড়ে সমাজসচেতন ব্যক্তি তথা সমাজবিজ্ঞানীদের কপাল কুচকে যাওয়ার কথা। সেই সঙ্গে তারা স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলতে পারেন। কারণ তাদের প্রত্যাশা তো এটাই ছিলো দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন যে কখনও হবে, সেই ভরসা হয়তো ছিলো না। কিন্তু এখন সেটাই বাস্তব হয়ে যাচ্ছে। যখন কৃষকের সন্তানও কৃষিকাজ করতে চায় না, তখন শিক্ষিত প্রজন্ম আসছে কৃষিতে।
এই ভু-খণ্ডের মানুষের আদি পেশা কৃষি। আর এটিই মানুষের প্রধান পেশা। সময়ের বিবর্তনে দিনে দিনে কৃষক বা কৃষক পরিবারের সংখ্যা কমতে থাকলেও এখন আমাদের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে এই কৃষি। আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের কৃষির অগ্রগতি সত্যি উল্লেখ করার মতো। সেটা সম্ভব হয়েছে বাঙালীর আদি পেশা কৃষিকে যারা জিইয়ে রেখেছেন সেই কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে। কিন্তু এই কৃষকেরা সমাজে খুব একটা মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নেই। এই পেশার সম্মান অতীতে যেমন ছিলো আজও তেমনি। বরং দিন দিন এই পেশার প্রতি সামাজিক অবহেলা, অবজ্ঞা বেড়েই চলেছে। যে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল খেয়ে জীবনধারণ করছে সমাজের তথাকথিত আল্ট্রা মডার্ণ শ্রেণির মানুষেরা, তারাই কৃষকদের ‘ক্ষেত’বলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছে। খোদ কৃষকের সন্তানও কৃষিকাজকে সুন্দর চোখে দেখছে না। অথচ বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যাবে, প্রতিটি দেশেই কৃষিকাজ একটি সম্মানজনক পেশা; আর এই পেশায় সমাজের শিক্ষিত শ্রেণী সম্পৃক্ত হচ্ছে। আমাদের জন্য সুসংবাদ এটাই যে, তরুণ প্রজন্মের একটি শিক্ষিত-ক্ষুদ্র অংশ এই ঐতিহ্যবাহী পেশায় জড়িত হচ্ছে। যেমন করে তথ্য প্রযুক্তি খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে শিক্ষিত তরুণ সমাজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে গবাদিপশুর খামার, হাঁসমুরগী পালন, মাছ চাষ, নার্সারি, ফলের বাগানসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়েছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণেরা। এদের সংখ্যা দু’তিন লাখের কম নয় বলে জানা যায়। এরা পথ তৈরি করেছে। আর সেই পথ ধরেই এগুতে হবে। কারণ এখন শুধু চাকরির জন্য লেখাপড়া করার ধ্যান ধারণায় পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন মওসুমের ফসল চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে শিক্ষিত তরুণ সমাজকে এই কাজে সম্পৃক্ত করার পথ সুগম করতে হবে। সরকারেরও উচিত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT