উপ সম্পাদকীয়

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও শিক্ষার উন্নয়ন

মোহাম্মদ আবু তাহের প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-১১-২০২০ ইং ০৯:২৯:৪৯ | সংবাদটি ৬১ বার পঠিত

জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ এগোচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, মাথাপিছু আয় ও শিক্ষাসহ বেশ কয়েকটি মানদন্ডে উন্নতির প্রভাবে বাংলাদেশের এ অগ্রগতি হয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই, কয়েক বছরে বাংলাদেশের শিক্ষার হার বেড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা পুরুষ শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে গেছে। নিঃসন্দেহে এটি ইতিবাচক দিক।
পাশাপাশি শিক্ষিত বেকারের হার ও বাড়ছে। বেকারত্ব কমাতে হলে কারিগরী শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার লক্ষ্যই হলো মানবসম্পদের উন্নয়ন। মানবসম্পদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা ও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার নানামুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। উচ্চশিক্ষার প্রসারে ও সরকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছেন। কারিগরি শিক্ষা ও বিজ্ঞান শিক্ষার দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতেও সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছেন।
অর্থনৈতিকভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলেই দেশের মানুষের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। যে কোন দেশের অন্যতম মৌলিক শক্তি হলো দেশের তরুণ প্রজন্ম। একটি শান্তিময়, মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের ভয়াবহ কালো ছোবল ও অন্ধকার জীবনের হাতছানি থেকে বাঁচাতে হলে সর্বত্র শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে। বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধার বিকাশ ঘটাতে হবে।
সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে তরুণদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে হবে। শিক্ষার্থীদের খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও অন্যান্য প্রতিযোগিতার কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। আমাদের বর্তমান প্রজন্ম এক অস্থির সময় অতিবাহিত করছে। কিশোরদের মধ্যে অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজের প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজারের কিছু সামাজিক সংগঠন শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশে জেলাব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার আয়োজন করছে। চৌধুরী মোহাম্মদ মেরাজের নেতৃত্বাধীন ‘স্কলার্স ফাউন্ডেশন’ গত ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের মেধা যাচাই প্রতিযোগিতার পরীক্ষা আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এ জাতিয় আয়োজন শিক্ষার উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি তরান্বিত করার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
মানসম্পর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করতে মেধাবী শিক্ষক আবশ্যক এবং সরকারি/বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। পাশিপাশি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে। যে মানুষ শিল্প সাহিত্য চর্চা হৃদয়ে লালন করে তার মন উদার ও কোমল থাকে। পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সমাজসেবা মূলক সংগঠনে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ছবি আঁকা, কবিতা আবৃত্তি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া ইত্যাদিতে উৎসাহ দেয়া দরকার। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, মানুষের অভ্যন্তরের মানুষটিকে পরিচর্যা করে খাটি মানুষ বানানোর প্রচেষ্টাই শিক্ষা। সত্যিকারের মানুষ হওয়ার জন্য নৈতিক শিক্ষা অর্জন করতে হবে। মানবকল্যাণের চিন্তা ও সাধনাকে লালন করে দেশ ও সমাজের জন্য নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও আন্তরিকতা সৃষ্টি করতে পারলেই শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে। উপমহাদেশের বিজ্ঞানী ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ.পি.জে আব্দুল কালাম তাঁর Governance for the growth of India গ্রন্থে মানুষের সক্ষমতা প্রমাণে চারটি পদক্ষেপের কথা বলেছেন। (ক) কুড়ি বছরের মধ্যে জীবনের লক্ষ্য স্থির করা। (খ) বিরতিহীনভাবে জ্ঞান আহরণ করতে হবে। (গ) কঠোর পরিশ্রমে যেকোন সমস্যাকে পরাস্ত করতে হবে। (ঘ) প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে আমিই মহৎ কিছু করব।
আইনস্টাইন বলেছিলেন জীবন বাইসাইকেলের মতো ভারসাম্য বজায় রাখতে এটা চালিয়ে যেতে হবে।
উইনস্টন চার্চিলের একটি মূল্যবান উক্তি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। তিনি বলেছেন সাফল্যের যোগ্যতা একটি ব্যর্থতা থেকে আর একটি ব্যর্থতাকে ধরা দেয়া কিন্তু একই রকম উদ্যম নিয়ে। তিনি আরও বলেছিলেন তুমি যখন সবচেয়ে বাজে মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছ, তখনো থেমোনা চলতে থাকো। নিজের মেধাকে বিকশিত করতে হলে পরিকল্পিত পরিশ্রম করতে হবে। আমেরিকান উপন্যাসিক জ্যানেট প্লেনারের একটি মূল্যবান উক্তির মাধ্যমেই লেখাটি শেষ করতে চাই-
Jenius is imediate but talent takes time, প্রতিভা তাৎক্ষণিক ঐশ্বরিক, কিন্তু মেধাবী হতে সময় লাগে। পরিশ্রম ও লেখাপড়ার মাধ্যমে মেধাকে বিকশিত করা যায়। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শিক্ষামূলক প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ অনেক উপকারে আসে।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শীতের শাকের পুষ্টিগুণ
  • জেনে শুনে বিষ করেছি পান
  • চলে গেলেন ফেলুদা
  • ফিরে দেখা ট্রাম্পের চার বছর
  • বেকার সমস্যা সমাধানে মহাপরিকল্পনা
  • পাল্টে যাচ্ছে সিলেট নগরীর চেহারা
  • পাল্টে যাচ্ছে সিলেট নগরীর চেহারা
  • বেকার সমস্যা সমাধানে মহাপরিকল্পনা
  • বাইডেনের জয় ও ট্রাম্প সমাচার
  • স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও একজন দাতা ভিক্ষুক
  • মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে আমাদের শিক্ষা
  • দর্শন দিবসের প্রাসঙ্গিকতা
  • শিশুর বই পড়া ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
  • পাল্টে যাচ্ছে শাবি ক্যাম্পাসের চিত্র
  • প্রসঙ্গ : চিকিৎসা-বাণিজ্য
  • করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও প্রস্তুতি
  • সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি প্রসঙ্গ
  • যে কথাটি হয়নি বলা
  • জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও শিক্ষার উন্নয়ন
  • চিকিৎসার নামে নির্যাতন ও আমাদের মূল্যবোধ
  • Developed by: Sparkle IT