প্রথম পাতা রেজিস্ট্রারি মাঠে হেফাজতে ইসলামের বিশাল সমাবেশ

কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘কাফের’ ঘোষণা করুন ॥ আল্লামা বাবুনগরী

প্রকাশিত হয়েছে: ২২-১১-২০২০ ইং ০৩:০২:০২ | সংবাদটি ৩১৭ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘কাফের’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নবনির্বাচিত আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। তিনি বলেন, কাদিয়ানীরা ইসলামের শত্রু, নবীর শত্রু। গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে হেফাজতে ইসলাম সিলেট জেলা শাখা আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ দাবি জানান তিনি।
আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ‘হেফাজত কোন বাঘ বা সিংহ নয়। কোন রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে এ সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সংগঠনটি সরকার বিরোধী নয়, আবার সরকার দলীয়ও নয়। হেফাজতে ইসলামের অভ্যুদয় হয়েছে; যারা ইসলামের শত্রু, রাসুলের (স:) দুশমন এবং নাস্তিক মুরতাদদের কবর রচনার জন্য। সমস্ত মসজিদের মুসল্লি, সকল মসজিদের ইমাম, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক, সকল স্কুল-কলেজের ধর্মপ্রাণ মানুষ হেফাজতের সদস্য। নামাজ, রোজা, হজ-যাকাত হলো হেফাজতের কর্মসূচি।
তিনি বলেন, বিশ্বের ২শ’ কোটি মুসলমানের ভালোবাসার প্রতীক রাসুল (সা:) এর বিরুদ্ধে ফ্রান্স সরকার কটাক্ষ করে মুসলমানদের কলিজায় আগুন লাগিয়েছে। মহানবী (সা:) এর শানে বে-আদবি রক্তের সাগরে প্রতিহত করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আল্লামা বাবুনগরী মদীনা সনদের আলোকে দেশ পরিচালনা করতে সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান। মদিনা সনদের সাথে সাংঘর্ষিক কোন কাজ শক্ত হাতে দমনেরও আহ্বান জানান তিনি।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা জিয়া উদ্দীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন-হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী, নায়েবে আমীর অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের, উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতী রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী, শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক আকুনী, নায়েবে আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা নূরুল ইসলাম খান সুনামগঞ্জী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট মাওলানা আবদুর রকীব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।
আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, কেবল ব্যক্তিগতভাবে কাদিয়ানীদের কাফের মনে করলে হবে না; রাষ্ট্রীয়ভাবে কাদিয়ানীদেরকে কাফের ঘোষণা করতে হবে। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কাদিয়ানীদেরকে কাফের ঘোষণায় কোন সমস্যা থাকার কথা নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৫৭ সালে মিশর,
১৯৫৮ সালে সিরিয়া, ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান এবং রাবেতা আলমে আল ইসলামী এরই মধ্যে কাদিয়ানীদের ‘কাফের’ ঘোষণা করেছে। কাদিয়ানীরা অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ন্যায় নিজেদের ধর্ম পরিচয়ে এদেশে বাস করলে কারো কোন আপত্তি থাকবে না বলে উল্লেখ করেন বাবুনগরী।
হেফাজতের আমির আরো বলেন, ফ্রান্স সরকার আমাদের নবী হজরত মোহাম্মদ (সা:) কে নিয়ে যে ভাবে কটূক্তি করেছে-তাতে মুসলমানদের অন্তর কেঁদে উঠেছে। ফ্রান্স সরকারকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘না হয় দুনিয়ার জমিনে ঈমানদাররা এর বিচার করবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা:) এর শান মান রক্ষায় মুসলিম জাতি রক্ত দিতে প্রস্তুত। যতদিন আল্লাহর হাবীবের শানে বে-আদবী করা হবে; আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। সংসদে অবিলম্বে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর প্রফেসর ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, বিশ্বের যে কোন স্থানে নবীর অবমাননা সহ্য করা হবে না। বাংলাদেশে নবীর দুশমনদের প্রতিহত করা হবে।
হেফাজতের উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, মহানবীর প্রতি ভালোবাসা বিশ্ব মুসলমানের হৃদয়ে যেভাবে রয়েছে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সেভাবে নবীর সুন্নত পালন করতে হবে।'
সমাবেশের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সমাবেশের অন্যতম আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা মজদুদ্দিন আহমদ। বক্তব্য রাখেন সমাবেশের অন্যতম আহ্বায়ক মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান। সমাবেশে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া, সিলেটে হোটেলসমূহে মদের অনুমোদন বাতিল ও মাদকের অবাধ ছড়াছড়ি বন্ধ, মূর্তি স্থাপন বন্ধ ও রায়হান হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি সম্বলিত ৩ দফা দাবি পেশ করেন হেফাজত নেতা ইউসুফ খাদিমানী।
হেফাজতে ইসলাম সিলেটের অন্যতম নেতা হাফিজ মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, প্রিন্সিপাল মাওলানা সামিউর রহমান মুসা ও মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরানের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন-শায়খুল হাদীস মুফতী মুজিবুর রহমান, শায়খুল হাদীস মাওলানা আউলিয়া হোসাইন, মাওলানা শায়খ আবদুল বসির, মহানগর হেফাজত নেতা হাফিজ মাওলানা নূরুজ্জামান, মাওলানা খলিলুর রহমান, অধ্যাপক বজলুর রহমান, জেলা হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসাইন, মাওলানা আহমদ বেলাল, মাওলানা গাজী রহমতুল্লাহ, হাফিজ আবদুর রহমান সিদ্দিকী, মুফতী ফয়জুল হক জালালাবাদী, মাওলানা নাসির উদ্দিন, কারী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আতাউর রহমান কোম্পানীগঞ্জী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আহমদ সগীর, মাওলানা ইউসুফ খাদিমানী, মাওলানা মুখলিছুর রহমান, মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব, মাওলানা এমদাদুল্লাহ, মাওলানা সাইফুল্লাহ, মাওলানা কাজী আবদুল ওয়াদুদ, মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ, মাওলানা আবদুল মালিক কাসিমী, মাওলানা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইলিয়াস, মাওলানা মুজিবুর রহমান কাসিমী, হাফিজ মাওলানা ফখরুজ্জামান, মাওলানা এবাদুর রহমান, মাওলানা আবদুল গফফার, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা এমরান আলম, মাওলানা ইকবাল আহমদ, মাওলানা আবদুস সামাদ, মাওলানা সুহাইল আহমদ, মাওলানা মুশাহিদ খালপারী, মাওলানা আলী আমদ, মাওলানা আতিকুর রহমান, মাওলানা মুশফিকুর রহমান মামুন, মাওলানা মাসুক আহমদ সালামী, মাওলানা জিল্লুর রহমান, মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা জাহিদ উদ্দীন চৌধুরী, মাওলানা হাফিজ জামিল আহমদ আনসারী, মাওলানা এহতেশাম কাসিমী, মাওলানা মামুনুর রশীদ, মাওলানা তালিব উদ্দীন, মাওলানা আলী আহমদ, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা নূর আহমদ কাসিমী, মাওলানা ফাহাদ আমান, মাওলানা আবদুল্লাহ নেজামী,মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ খাসদবিরী, মাওলানা অলিউর রহমান, মাওলানা হাফিজ আলী আহমদ,মাওলানা আমীন উদ্দীন, মাওলানা আবদুল মুছাব্বির, মাওলানা মাওলানা কয়েছ আহমদ, মাওলানা পীর আবদুল জব্বার, মাওলানা আফতাব উদ্দীন নোমানী, মাওলানা নাজিম উদ্দিন, মাওলানা কামরুল ইসলাম ছমীর, রোটারিয়ান মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা নাজমুল হোসাইন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা কবীর আহমদ খান, হাজী আব্বাস উদ্দীন জালালী, মাওলানা ইমদাদুল হক, মাওলানা আলী আবিদীন, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, হাফিজ ফুজায়েল আহমদ, মাওলানা তারেক আহমদ, মাওলানা একরামুল হক জুনাইদ, মাওলানা লুৎফুর রহমান প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে শায়খুল হাদীস আল্লামা জিয়া উদ্দিন বলেন, আমরা রাসুল (সা:) এর ভালোবাসায় জমায়েত হয়েছি। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আজকের সমাবেশে বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েত প্রমাণ করে রাসূলের জন্য সিলেটবাসী যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।
সমাবেশ উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকাল থেকে সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হেফাজতের অনুসারীরা মিছিল সহকারে সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রেজিস্ট্রারি মাঠ সহ কোর্টপয়েন্ট এলাকা লোকে লোকারণ্য হতে থাকে। মাগরিবের নামাজের আগ মুহূর্তে হেফাজতের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরীর বক্তব্য ও মোনাজাতের মধ্যদিয়ে সমাবেশের সমাপ্তি হয়।
এদিকে, সমাবেশকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকের বিপুল সংখ্যক সদস্যও সমাবেশস্থল ও আশপাশে নিয়োজিত ছিল বলে এসএমপি সূত্র জানিয়েছে।

 

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • সামাজিক অবক্ষয় রোধে ইসলামি সংস্কৃতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ:: দানবীর ড. রাগীব আলী
  • ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল মালিক রাজার ইন্তেকাল
  • সিলেটের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে ॥ শাবি ভিসি
  • হাউজিং এস্টেটে একই রাতে তিন বাসায় চুরি
  • দু’দশক ধরে জীর্ণ কুটিরে চলছে বড়লেখা পৌরসভার কার্যক্রম!
  • দিরাই ও শায়েস্তাগঞ্জে নৌকার নতুন মাঝি
  • বিশ্বনাথে সুরমা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু
  • পদ্মা সেতুর ৩৯তম স্প্যান স্থাপন, দৃশ্যমান ৫ দশমিক ৮৫০ কিলোমিটার
  • চট্টগ্রামে মাহফিলে যাননি মাওলানা মামুনুল হক
  • গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা উজ্জল গ্রেফতার
  • চালিবন্দরে গুদামে অগ্নিকান্ড ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি
  • সিলেটে আটক মানব পাচারকারী বাবুলকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর
  • বিশ্বম্ভরপুরে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি
  • দরবস্তে ‘অবৈধ’ রয়েলিটি আদায় করতে না পেরে ট্রাকের বালু ফেলে দেওয়া হচ্ছে
  • পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় জেলা ও মহানগর আ’লীগের দোয়া মাহফিল
  • মাত্র ১ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
  • দিরাই পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ইকবাল হোসেন চৌধুরী
  • লিডিং ইউনিভার্সিটিতে শেক্সপিয়ার বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
  • বরেণ্য অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী যাকের আর নেই
  • ছাতকের পল্লীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক
  • Developed by: Sparkle IT