প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
সিলেটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক আজ থেকে
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ জুলাই ২০২৫, ৫:০৫:৩৪ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : ৬ দফা দাবিতে সিলেটে আজ মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম।
৬ দফা দাবির মধ্যে সিলেটের পরিবহন মালিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া সিলেটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে প্রত্যাহারের দাবিও রয়েছে। অপর দাবিগুলো হচ্ছে, সড়ক পরিবহন আইন ২-১৮ এর ৩৬ ধারা প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সরকার বাস মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ বছর এবং ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যানের ক্ষেত্রে ২৫ ও সিএনজি ইমা ও লেগুনার ক্ষেত্রে ১৫ বছর ইকোনোমিক লাইফ নির্ধারণ করার প্রজ্ঞাপন বাতিল, সিলেটের সব পাথর কোয়ারির ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও সনাতন পদ্ধতিতে বালু মহাল এবং পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া, বিআরটিএ কর্তৃক গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিল ও গণপরিবহণের ওপর আরোপিত বর্ধিত ট্যাক্স প্রত্যাহার, সিলেটের সব ক্রাশার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বন্ধ, বিদ্যুতের মিটার ফেরত ও ভাংচুরকৃত মিলের ক্ষতিপূরণ এবং গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া পাথর বালুর ক্ষতিপূরণ দেয়া।
পরিবহন নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, সিলেটের গণপরিবহণ-পণ্যপরিবহণ ও পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক শ্রমিকরা ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকেই বিভিন্নভাবে বঞ্চিত অবহেলিত। আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের রোষাণলে পড়ে সিলেটের কোটি মানুষের নেমে আসে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। ২০১৮ সালে বন্ধ করে দেয়া হয় সিলেটের সব পাথর কোয়ারি। বর্তমানে লাখ লাখ কর্মহীন মানুষের কারণে সিলেটে দুর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করছে এ অঞ্চলে। অন্যদিকে রিজার্ভের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে বিদেশ থেকে পাথর আমদানি করা হচ্ছে। পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে বারবার আন্দোলন সংগ্রাম করে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গত ৫ আগস্টের পরেও তারা জুলুম নির্যাতন ও ষড়যন্ত্র থেকে রেহাই পাচ্ছেন না বলেও উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ ধারায় যে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে, তা মালিক শ্রমিককে ধ্বংসের নীল নকশা। একইভাবে গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া আরেক হয়রানি ও ষড়যন্ত্র। তাছাড়া, গাড়ি তল্লাশির নামের পুলিশ ট্রাক শ্রমিকদের প্রতিনিয়ত হয়রানী করছে বলে অভিযোগ করেন। এসব কারণে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস, ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান, সিএনজি, ইমা-লেগুনা ও পাথর সংশ্লিষ্ট মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ৬ দফা দাবিতে আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিলেট জেলাজুড়ে পরিবহণ কর্মবিরতি (ধর্মঘট) আহবান করেছে। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিম, সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমরান আহমদ ঝুনু, সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজির আহমদ স্বপন, সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. দিলু মিয়া, কার্যকরী সভাপতি আব্দুস সালাম, সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজাদ মিয়া, ইমা লেগুনা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী রুনু মিয়া মইন প্রমুখ।




