নবীগঞ্জে ৭ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ
৩ দিন পর ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জুলাই ২০২৫, ১:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : নবীগঞ্জে দুই সাংবাদিকের বিরোধকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকার সাতটি গ্রামের ভয়াবহ সংঘর্ষের জেরে টানা তিন দিন ১৪৪ ধারা জারি থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে শহরের জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। কিছু দোকানপাট খুলেছে, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে, তবে এখনও ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক কাটেনি। সাতটি গ্রামের রাস্তা-ঘাট এখনও প্রায় জনশূন্য। এ ঘটনায় পূর্ব তিমিরপুর, পশ্চিম তিমিরপুর, চরগাঁও, আনমনু, রাজাবাদ, নোয়াপাড়া ও পিরিজপুরে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ৯ জুলাই রাতে নবীগঞ্জ থানার এসআই রিপন দাশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৮ জন সাংবাদিকের নামসহ মোট ৩২ জনকে সরাসরি আসামি এবং অজ্ঞাত ৪/৫ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা (নং-১০) দায়ের করা হয়েছে।
অপরদিকে, এই সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে গত বুধবার বিকেলে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি বাজার হাফিজিয়া সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসায় এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট সালিশ কমিটি এবং একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। সভায় সংঘর্ষ মীমাংসার জন্য সালিশ বোর্ড গঠন, উভয় পক্ষের সম্মতি, প্রশাসনের সমন্বয়, নিহত ফারুক মিয়ার প্রতি শোক প্রকাশ এবং নিরীহ জনগণকে প্রশাসনের হয়রানি থেকে রক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম তালুকদার ও আশাহিদ আলী আশার একে অপরকে কটাক্ষ করাকে কেন্দ্র করে। পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের লোকজন সেলিমের পক্ষে এবং আনমনু গ্রামের লোকজন আশার পক্ষে অবস্থান নেয়। পরে আরও কয়েকটি গ্রাম তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় যখন তা মৎস্যজীবী ও অমৎস্যজীবী দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজনে গড়ায়।
সর্বশেষ গত সোমবার নবীগঞ্জ বাজারে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পূর্ব তিমিরপুরের এম্বুলেন্স চালক ফারুক মিয়া (৪২) নিহত হন এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে নবীগঞ্জ বাজারের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন ও বেসরকারি হাসপাতাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নবীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমীন পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন, যা তিন দিনপর গতকাল বৃহস্পতিবার প্রত্যাহার করা হয়। এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মো. কামরুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টহল অব্যাহত আছে।




