হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও পরীক্ষায় বসতে পারছে না নার্সিংয়ের ২০ শিক্ষার্থী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ জুলাই ২০২৫, ৩:৩৮:০৮ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও পরীক্ষায় বসতে পারছে না নার্সিংয়ের ২০ শিক্ষার্থী। তাদের রেজিস্ট্রেশন এবং পরীক্ষা নেয়ার জন্য নার্সিং কলেজ কর্তৃপক্ষ গত এক বছর সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েছে। কিন্তু কাঙ্খিত সাড়া মিলেনি। বরং দফায় দফায় চিঠি চালাচালিতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। উপায়ান্তর না দেখে কলেজ কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। হাইকোর্ট বিষয়টির যৌক্তিক সমাধানে অর্থাৎ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের জরুরি ভিত্তিতে রেজিস্ট্রেশনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করতে গত মে মাসে নির্দেশ নেন। কিন্তু আজও আদালতের সেই আদেশ বাস্তবায়ন হয়নি!
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারির রেজিস্ট্রার এবং সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, রেজিস্ট্রার, অ্যাসিস্ট্যাট রেজিস্ট্রার ও কলেজ পরিদর্শককে হাইকোর্টের ওই আদেশ তামিল করার কথা। কিন্তু তারা একে-অন্যের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছেন। কোন আইন বা শক্তির বলে হাইকোর্টের নির্দেশ অগ্রাহ্য করছে মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়? অভিন্ন প্রশ্ন ছিল সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ইসমাঈল পাটোয়ারী এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মো. কামরুজ্জামানের কাছে। তারা উভয়ে আদালতের আদেশ-নির্দেশ মানতে বাধ্যবাধকতার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে এটি কেন কার্যকর হচ্ছে না তা নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ করেন। ভিসি পাটোয়ারি গণমাধ্যমকে বলেন, হাইকোর্টের আদেশ তিনি মানবেন যদি মন্ত্রণালয় তাকে নির্দেশ দেন। এদিকে মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা বলেন- স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়, মন্ত্রণালয় তথা সরকার সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ মানতে বাধ্য। আনোয়ারা-মুজাহিদ নার্সিং কলেজ, সুনামগঞ্জে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা নেয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছেন তা সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন করলেই সব ঝামেলা মিটে যায়। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের বাড়তি কোনো নির্দেশনার প্রয়োজন নেই।
মন্ত্রণালয় হাজারো মামলা নিয়ে কাজ করছে জানিয়ে আইন শাখার ওই কর্মকর্তা বলেন- হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এই আপিল সবসময় হয় না। যেখানে শিক্ষার্থীদের জীবন এবং ভবিষ্যৎ জড়িত তাতো নয়-ই। আনোয়ারা-মুজাহিদ নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে হাইকোটের আদেশ তথা তাদের রেজিস্ট্রেশন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দিয়ে দিলে মন্ত্রণালয় কি বাধা দিবে? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন- মন্ত্রণালয় নিজে থেকে মামলার যন্ত্রণা আর বাড়াতে চায় না। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য মন্ত্রণালয়ে তদবির করা হয়। যা খুবই দুঃখজনক।
উল্লেখ্য, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে নার্সিং শিক্ষার প্রসারে বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত রয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের। তাদের সার্কুলেট করা ডকুমেন্ট তা-ই বলছে। হাওর ও সীমান্ত জেলা সুনামগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত আনোয়ারা-মুজাহিদ নার্সিং কলেজ। সেখানে বিএসসি নার্সিং খোলা নিয়েই এই ঘাপলা। যদিও অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে তারা ডিপ্লোমা নার্সিং পরিচালনা করছে। ওই কলেজের বিএসসি নার্সিং কোর্সের রেজিস্ট্রেশন, একাডেমিক কার্যক্রম এবং পরীক্ষার বিষয়টি একান্তভাবেই সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত। ২০২৪ সালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় উপরোল্লিখিত কলেজকে বিএসসি নার্সিং কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির নির্দেশ প্রদান করে। পরবর্তীতে কলেজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আবেদন করে। কিন্তু দফায় দফায় চিঠি ইস্যু হলেও কাজের কাজ কিছু করেনি মন্ত্রণালয়। মামলা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা বলছেন- যদি উচ্চ আদালতের এই রায়ের বিপরীতে মন্ত্রণালয় তথা সরকার আপিল করেও, তথাপি এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সময় সাপেক্ষ। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন তো বসে থাকতে পারে না। তাদের অন্য কলেজের অধীনে যাওয়ার সুযোগ করে দিলে আনোয়ারা-মুজাহিদ নার্সিং বেঁচে যেতো। কিন্তু রায়ে তা হয়নি। তাছাড়া স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সরকার আপিল করলেও তার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় বহাল। এ অবস্থায় হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে অর্থাৎ রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে (আনোয়ারা-মুজাহিদ নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের বিষয়টি সুরাহা না করে) ৮ই জুলাই পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ কতোটা যৌক্তিক? তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।



