নিজেদের পছন্দের পদ-পদবী না পাওয়ায় হয়তো মনের ক্ষোভ থেকে পদত্যাগ করেছেন
বিশ্বনাথ ও গোয়াইনঘাটে জাতীয় নাগরিক পার্টির কমিটি থেকে ৪ জনের পদত্যাগ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ জুলাই ২০২৫, ৭:৪০:৪৬ অপরাহ্ন
অনলাইন নিউজ : সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্যঘোষিত সমন্বয় কমিটি থেকে ৪ জন পদত্যাগ করেছেন। রোববার ও সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পৃথক স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেদের পদত্যাগের ঘোষণা দেন তারা।
পদত্যাগকারীরা হলেন- বিশ্বনাথ উপজেলা এনসিপির ১৭সদস্য বিশিষ্ট কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী রুহুল আমিন, সদস্য ধনঞ্জয় বৈধ্য, মো. শাহেদ আহম্মেদ ও গোয়াইনঘাট উপজেলা এনসিপির ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্য ফাহিম আহমদ।
এর আগে গত শনিবার এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম স্বাক্ষরিত এই দুই উপজেলায় সমন্বয় কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বিশ্বনাথ উপজেলায় ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে প্রধান সমন্বয়কারী রাখা হয় ডা. সুলেমান খানকে ওই কমিটিতে ২ নম্বর যুগ্ম সমন্বয়কারী রুহুল আমিন ও ২ নম্বর সদস্য হিসেবে ধনঞ্জয় বৈধ্য ও ৬ নম্বর সদস্য হিসেবে মো.শাহেদ আহম্মেদকে রাখা হয়।
পরে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে যুগ্ম সমন্বয়কারী রুহুল আমিন তার নিজ ফেসবুক আইডিতে লিখেন ‘অদ্য যে বিশ্বনাথ উপজেলার এনসিপির নবগঠিত কমিটি গঠন করা হয়েছে উক্ত যে পদে আমাকে রাখা হয়েছে আমার ঐ কমিটির সাথে কোন সম্পিক্ততা নেই আমি ঐ যুগ্ন-সমন্বয়ককারী পদ থেকে পদত্যাগ করলাম’।
একই দিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কমিটির সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন ওই কমিটির সদস্য মো.শাহেদ আহম্মেদ। শাহেদ আহম্মেদ স্ট্যাটাসে লিখেন- অদ্য যে বিশ্বনাথ উপজেলার এনসিপির নবগঠিত কমিটি গঠন করা হয়েছে উক্ত যে পদে আমাকে রাখা হয়েছে আমার ঐ কমিটির সাথে কোন সম্পিক্ততা নেই আমি ঐ পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।
আর সোমবার দুপুরে পদত্যাগ করার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ধনঞ্জয় বৈধ্য।
অপরদিকে, গোয়াইনঘাট উপজেলার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ২১ সদস্য বিশিষ্ট সমন্বয় কমিটির ১০ নম্বর সদস্য ফাহিম আহমদ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফাহিম আহমদ (ফাহিম মোনায়েম) আইডিতে লিখেন ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি’র গোয়াইনঘাট উপজেলা কমিটিতে আমাকে রাখা হয়েছে, এজন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। তবে আমার ব্যক্তিগত কারণে আমি কমিটি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি। আমি এখন থেকে এই কমিটির সাথে সম্পৃক্ত নয়। ধন্যবাদ।
এবিষয়ে মো. শাহেদ আহম্মেদ বলেন, আমার সাথে কেউ কোনো আলাপ করেন নি। হঠাৎ কিছুদিন পূর্বে আমাকে একজন কর দিয়ে আমার ৪ কপি ছবি ও আইডি কার্ড নাম্বার চেয়েছিল। পরে আর আমি দেই নি। এখন দেখি কমিটিতে আমার নাম। অথচ আমি জানিও না। তাই পদত্যাগ করেছি।
রুহুল আমিন জানান, আমি কোনো রাজনীতিতে নাই। তবুও কমিটিতে রাখায় আমি পদত্যাগ করেছি।
ফাহিম আহমদ বলেন, আমি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সামনের কাতারে ছিলাম। গোয়াইনঘাটে যদি ২/৩ জনকে গুনায় ধরা হয়, তাহলে আমাকে ধরতে হবে। সেই জায়গা থেকে এখন আমাকে নিচের দিকের সদস্য করে রাখা হয়েছে। যার কারণে আমি পদত্যাগ করেছি।
এবিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সিলেট জেলার প্রধান সমন্বয়কারী নাজিম উদ্দীন শাহান বলেন, বিশ্বনাথের ৩ জন ও গোয়াইনঘাটের ১ জন পদত্যাগের খবর পেয়েছি। প্রত্যেকটা উপজেলায় আমাদের জেলা কমিটির ২ জন করে সদস্য রয়েছেন। যাদেরকে কমিটিতে আনা হয়েছে, তাদেরকে যাচাইবাছাই করে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই কমিটিতে আনা হয়েছে। নিজেদের পছন্দের পদ-পদবী না পাওয়ায় হয়তো মনের ক্ষোভ থেকে পদত্যাগ করেছেন তারা। অনেকে উপরের দিকে পদ চেয়েছিল, সবাইকে তো আর এক পদ দেওয়া যায় না। তাই তারা অনেকটা ক্ষুদ্ধ হয়ে এই সিদ্দান্ত নিয়েছে বলে আমার ধারণা।




