শাহপরাণে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে অভিযোগকারী গ্রেফতার
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ জুলাই ২০২৫, ১০:৪২:৫০ অপরাহ্ন
অনলাইন নিউজ : সিলেটে মিথ্যা ছিনতাইয়ের অভিযোগ দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে অভিযোগকারী নিজেই গ্রেফতার হয়েছেন। আজ সোমবার (১৪ জুলাই) বেলা ২ টায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত অভিযোগকারী রিপন মিয়া (৩৩) সিলেটের শাহপরাণ (র.) থানাধীন উত্তর জাহানপুরের বাসিন্দা ও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের মৃত আব্দুল হকের ছেলে।
পুলিশ জানায়, আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৭ টায় শাহপরাণ (র.) থানাধীন উত্তর জাহানপুরের বাসিন্দা রিপন মিয়া শাহপরাণ (রহঃ) থানা এলাকায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন। এসময় সে দাবি করে, টিলাগড় সরকারি কলেজের সামনে আফজল ও তার সঙ্গীরা তার মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে শাহপরাণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রিপনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ আশপাশে অনুসন্ধান চালিয়ে একটি গ্যারেজের সামনে সিকিউরিটি গার্ড জুনেদ মিয়াকে খুঁজে পায়। অভিযোগকারী রিপন জুনেদকে দেখে আক্রমণ করে ও বেধড়ক মারধর শুরু করলে পুলিশ তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে উভয়কে থানায় নিয়ে আসেন। অভিযোগকারী রিপন মিয়া থানায় এসে জুনেদ মিয়া, আফজল এবং আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে লিখিত ছিনতাইয়ের অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অভিযোগকারী রিপন মিয়ার বক্তব্য সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে জানা যায়, রিপন ও আফজল উক্ত স্থানে মোবাইল ফোনে জুয়া খেলছিলেন এবং পাওনা টাকা নিয়ে হাতাহাতির একপর্যায়ে উক্ত স্থানের সিকিউরিটি গার্ড জুনেদ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধমূলকভাবে রিপন ৯৯৯-এ মিথ্যা ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে রিপন স্বীকার করেন, কোনো ছিনতাই হয়নি এবং প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই তিনি এই অভিযোগ করেন। পুলিশ নিশ্চিত হয় ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাজানো হয়েছিল। ফলস্বরূপ, ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সোমবার রাত সাড়ে দশটায় বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ (র.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, তাকে আগামীকাল আদালতে প্রেরণ করা হবে।




